সূরা আল-বাকারা (২:১–২): আলিফ-লাম-মীম ও কিতাবের পরিচয় — নাযমের আলোকে

এই পাঠটি সূরার সূচনা-আয়াতগুলোকে নাযম তথা কুরআনের অন্তর্গত সংগতি ও ধারাবাহিকতার আলোকে বিশ্লেষণ করে—সূরার কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু (মাদ্দা‘আ), সূরা আল-ফাতিহার পরে এর অবস্থান, এবং সূরা আলে ইমরানের সঙ্গে এর জোড়াবদ্ধতা।

সূরার প্রেক্ষাপট ও নাযম

সূরা আল-বাকারা ও আলে ইমরান বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে একটি জোড়া; উভয়ের অভিন্ন ধারা আহলে কিতাবের ওপর ইতমামুল হুজ্জাত এবং তাদের স্থলে বনী ইসমাঈল থেকে নতুন মুসলিম উম্মাহর প্রতিষ্ঠা। সূরা আল-বাকারায় প্রধানত ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের ওপর হুজ্জাত পূর্ণ করা হয়েছে এবং নতুন উম্মাহর কর্তব্য-দায়িত্ব বিবৃত হয়েছে; পাশাপাশি সূরাটি নবগঠিত মুসলিম সমাজের তাযকিয়া ও তাতহীর সাধন করে। সূরাটি হিজরত-পরবর্তী মদীনার সুসংগঠিত মুসলিম রাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ। (জোড়াবদ্ধতা, উভয় সূরার থিম-পার্থক্য ও অবতরণের প্রেক্ষাপটের বিস্তারিত ভূমিকা পৃথক ফাইলে দেওয়া হয়েছে।)

আলিফ-লাম-মীম: সূরার নাম (২:১)

الٓمٓ

এখানে ব্যাকরণগতভাবে মুবতাদা (উদ্দেশ্য) ঊহ্য; পূর্ণ বাক্যটি ‘হাযিহি আলিফ-লাম-মীম’ (এটি আলিফ-লাম-মীম)। এসব বিচ্ছিন্ন হরফের পরিভাষা ‘হুরূফে মুকাত্তাআত’—এটি আলিমগণের দেওয়া পরিভাষা; রাসূল ﷺ বা আল্লাহ এগুলোকে এই নামে অভিহিত করেননি। হরফগুলো কোনো শব্দ গঠন করে না, প্রতিটি পৃথক।

এই ধারার (ফারাহী মাকতাব) ব্যাখ্যায় ‘আলিফ-লাম-মীম’ প্রভৃতি সূরার নাম বা পরিচায়ক অভিধা। যুক্তি হলো: এই হরফগুলো সবসময় সূরার শুরুতেই আসে, এবং কুরআনে বহু স্থানে ‘যালিকা’ ও ‘তিলকা’ (দূরত্ববাচক নির্দেশক) দিয়ে এগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে—আর নির্দেশক সর্বনাম পূর্বে-উল্লিখিত কোনো কিছুর প্রতিই ব্যবহৃত হয়। কোনো কিছুর নাম যেভাবে শুরুতে লেখা হয়, ঠিক সেভাবেই এগুলো শুরুতে এসেছে। এটি নতুন কোনো মত নয়—গবেষক আলিমগণ এ কথাই বলেছেন।

এদের অর্থ প্রসঙ্গে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা আল্লামা হামীদুদ্দীন ফারাহী রহ.-এর। তিনি বলেন, আরবি বর্ণমালা—প্রাচীন আরবে প্রচলিত বর্ণমালার মতোই—কেবল ধ্বনি নয়, বরং চীনা লিপির মতো অর্থ ও যে বস্তু থেকে উদ্ভূত সেই বস্তুরও ইঙ্গিত দিত। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার অধ্যয়নে দেখা যায়, বর্ণগুলো প্রথমে ছিল বস্তুর নাম ও চিত্রলিপি—বস্তুর ছবি মানুষের মনে যে প্রতিরূপ গড়ত, তার ভিত্তিতেই বর্ণ নির্ধারিত হতো; পরবর্তীকালে ‘তাজরীদ’ (বিমূর্তকরণ) ঘটে এগুলো কেবল ধ্বনিতে সীমিত হয়। চীনা ও জাপানি ভাষায় এই ধারা আজও বিদ্যমান। তাই আরবের রুচি অনুযায়ী আল্লাহ সূরার নাম রেখেছেন সেই প্রাচীন অর্থ-প্রেক্ষাপটে, এবং সূরার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেই নামে প্রতিফলিত হয়েছে।

এর সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত সূরা ‘নূন’ (যার অপর নাম সূরা আল-কলম)। ‘নূন’ তার প্রাচীন অর্থে আজও ব্যবহৃত—অর্থ মাছ; কুরআনে ইউনুস আ.-কে ‘যান-নূন’ ও ‘সাহিবুল হূত’ (মাছওয়ালা) বলা হয়েছে, আর সেই সূরার নাম ‘নূন’। আরেকটি উদাহরণ: ‘জীম’ (ইবরানীতে ‘জাইমাল’, আরবিতে ‘জামাল’ = উট) উটের আকৃতিতে লিখিত হতো; কোনো সূরায় উটের বিশেষ উল্লেখ থাকলে তার নাম ‘জীম’ হতে পারে (কেবল দৃষ্টান্ত)।

তবে ফারাহী রহ. নিজেই সতর্ক করেন—এটি ‘সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য’ মত, চূড়ান্ত নয়; কারণ সব মুকাত্তাআত-সূরার মধ্যে একটি অভিন্ন সূত্র এখনো নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি (‘ওয়াল্লাহু আ‘লামু বিস-সাওয়াব’)। কিন্তু এটি নিছক অনুমান নয়, বরং ভাষা সম্পর্কে একটি প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতার (ইবরানী/সেমিটিক বর্ণমালার উৎপত্তি, যা ভাষাতত্ত্বে সুবিদিত) ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর সূরা নূন এর একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত।

যালিকাল কিতাব: সেই কিতাব (২:২)

ذَٰلِكَ ٱلْكِتَـٰبُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ

“এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত।”

‘যালিকা’ (দূরত্ববাচক নির্দেশক সর্বনাম—‘সেই’) এখানে ‘আলিফ-লাম-মীম’ তথা সূরার নামের দিকেই ইঙ্গিত করে—অংশ (নাম) দেখিয়ে সমগ্র (সূরা তথা কিতাব) বোঝানো হয়েছে; পূর্ণ বাক্য ‘যালিকাল কিতাব’ (এই সেই কিতাব)।

‘আল-কিতাব’ থেকে ‘কিতাবে ইলাহী’ (আল্লাহর কিতাব) অর্থ কীভাবে এলো? এখানে ‘আলিফ-লাম’ নির্দিষ্টতাবাচক, আর বক্তা স্বয়ং আল্লাহ—তাই ‘আমার কিতাব’ অর্থেই তা আল্লাহর কিতাব বোঝায়। কুরআনে বহু স্থানে এভাবেই ব্যবহৃত (যেমন ‘আহলুল কিতাব’ = আল্লাহর কিতাবের ধারক)। ব্যাকরণে এর নজির: বহু-অর্থবোধক সাধারণ শব্দ নির্দিষ্টতাবাচক ‘আলিফ-লাম’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বিশেষ, শ্রেষ্ঠ অর্থে সীমিত হয়ে যায়। যেমন ইলমুন নাহবে ‘আল-কিতাব’ বললে সীবাওয়াইহি-র কিতাবই বোঝায়—যদিও যামাখশারীর ‘মুফাসসাল’, ইবনু আকীলের ‘শারহ’, ইবনু হিশামের ‘মুগনিল লাবীব’ সবই কিতাব; কিন্তু যামাখশারী যখন ‘মুফাসসাল’-এ ‘আল-কিতাব’ উদ্ধৃত করেন, বিশেষজ্ঞরা বোঝেন তিনি সীবাওয়াইহি-কেই বোঝাচ্ছেন। তেমনি কুরআনের প্রসঙ্গে ‘আল-কিতাব’ অর্থ কিতাবে ইলাহী—যদি না প্রসঙ্গ অন্য অর্থের দিকে ইঙ্গিত করে।

সূরার প্রধান সম্বোধিত পক্ষ বনী ইসরাঈল এই কিতাব সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল না; তারা তাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ থেকে ভালোভাবেই জানত যে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি কিতাব অবতীর্ণ হবে এবং ইবরাহীম আ.-এর বংশধরদের মধ্য থেকে একজন নবী আসবেন। তারা কেবল প্রতীক্ষাই করত না, বরং সেই আগমনকে সামনে রেখে বিজয় প্রার্থনাও করত।

‘লা রায়বা ফীহি’—এই কিতাব যে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ঐশী কিতাব, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই সরল-স্পষ্ট অর্থই কুরআনের ব্যবহার থেকে প্রতীয়মান—বহু সূরার শুরুতে অনুরূপভাবে এসেছে, আর কুরআন নিজেই একে ‘আয়াতে ইলাহী’ ও ‘তানযীলুম মির রাব্বিল আলামীন’ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ ‘সন্দেহ নেই’ কথাটি বিশেষভাবে এর ঐশী-উৎসের ব্যাপারে। ‘হুদাল লিল-মুত্তাকীন’—এটি হিদায়াত সেই লোকদের জন্য, যারা আল্লাহকে ভয় করে।

প্রশ্ন হলো—হিদায়াত তো সবার জন্য; তবে বিশেষভাবে মুত্তাকীদের জন্য কেন? এর উত্তর নাযমের কাঠামোয় স্পষ্ট: কুরআন বিশ্বে আগত প্রথম হিদায়াত নয়। মানুষ পূর্ব থেকেই নবীগণের মাধ্যমে এবং নিজের ফিতরাতের (সহজাত প্রকৃতির) মাধ্যমে মৌলিক সত্যগুলো জানে। কুরআনের প্রধান ভূমিকা তাযকীর তথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। মানুষ ভালো-মন্দের বোধ ও মৌলিক সত্যের জ্ঞান নিয়েই দুনিয়ায় আসে; পরে প্রয়োজন হয় কেবল তা মনে করিয়ে দেওয়ার। তাই যার ফিতরাত জীবন্ত—যে আল্লাহকে ভয় করে—সে-ই এই স্মরণ থেকে উপকৃত হয়।

এখানে আল্লাহর হিদায়াতের একটি সুন্নত কাজ করে: যে ব্যক্তি তার ফিতরাতে নিহিত অল্প হিদায়াতের কদর করে, তাকে আরও দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে সেই নীতির প্রতিফলন দেখা যায়—যে সামান্য আমানতে বিশ্বস্ত থাকে না, তাকে বড় আমানত সোপর্দ করা যায় না (মসীহ আ.-এর শিক্ষায় এ কথা এসেছে)। ইউসুফ আ. আল্লাহর হিদায়াতের কদর করেছিলেন, তাই তাঁকে আরও দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং ‘মুত্তাকীন’ হলো তারা, যারা আল্লাহভীরু ছিল ও সহজাত হিদায়াতের কদর করেছিল—ফলে তারা এই কিতাব গ্রহণ করে অধিকতর হিদায়াত লাভের যোগ্য হলো।

কুরআন যেসব মৌলিক বিষয়ে সংশোধনী-স্মরণ নিয়ে এসেছে, সেগুলোরও একটি প্রেক্ষাপট আছে। যারা মৌলিক সত্য জানত, তারাও অবতরণের কালে নানা সংকটে ছিল: আল্লাহর যাত ও সিফাত সম্পর্কে বিভিন্ন মাযহাব-সম্প্রদায়ের মধ্যে বহু বিষয় সংশয়-সংমিশ্রণের শিকার হয়েছিল, যার সংশোধন প্রয়োজন ছিল; আখিরাতের জবাবদিহি সম্পর্কে একটি ঝাপসা ধারণা ছিল, কিন্তু সেই জবাবদিহি কোন নীতিতে হবে তা স্পষ্ট ছিল না; নৈতিক সীমার একটি অনুভূতি ছিল, কিন্তু কেন সেই সীমার প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে তার দৃঢ় ভিত্তি ছিল না। কুরআন এসব বিষয়ে সংশোধনী স্মরণ ও সুদৃঢ় ভিত্তি দান করে।

হিদায়াতের দুটি দিক আছে: প্রথম, পথ চিনিয়ে দেওয়া; দ্বিতীয়, চেনা পথে চলার তাওফীক ও দিকনির্দেশনা। যেমন কেউ চিকিৎসক হওয়ার পথ বেছে নিল—পথটি তাকে দেখিয়ে দেওয়া হলো (নিজে, পিতামাতা বা অন্য কারও মাধ্যমে); এরপর তাকে সেই পথে চলতে হয়। কুরআনে ‘হিদায়াত’ শব্দ উভয় অর্থেই ব্যবহৃত। এই ধারার ব্যাখ্যায় অহীর কিতাবসমূহ মূলত দ্বিতীয় দিকের জন্য অবতীর্ণ: আল্লাহ এক—এই বিশ্বাস, এবং ঈমান ও নেক আমলের ভিত্তিতে তাঁর কাছে জবাবদিহির এই পথ মানুষকে সূচনা থেকেই (ফিতরাত ও নবীগণের মাধ্যমে, আদম আ. থেকে) দেখানো হয়েছে। কিতাবসমূহ সেই ইতঃপূর্বে-দেখানো পথে চলার জন্য স্মরণ (তাযকীর) হিসেবে এসেছে—পথ নতুন করে দেখানোর জন্য নয়। কুরআন এখানে নিজেকে এই দ্বিতীয় অর্থেই হিদায়াত ঘোষণা করে। (সূরা আল-ফাতিহায় ‘ইহদিনাস-সিরাতাল মুসতাকীম’-এ এই দ্বিতীয় দিকটিই—চলার দিকটি—প্রাধান্য পেয়েছে।)

এই আয়াতের পর হিদায়াতপ্রাপ্তদের যেসব গুণ বর্ণিত হবে (২:৩–৫), সেগুলো মূলত সেই যুগের ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের আচরণের ঠিক বিপরীত—যাদের ওপর এই সূরায় হুজ্জাত পূর্ণ করা হয়েছে। কুরআন পরে সূরায় সেই সম্প্রদায়ের আচরণ বিস্তারিত বর্ণনা করেছে: আল্লাহকে ভয় করার বদলে তারা অবাধ্য হয়ে উঠেছিল; না-দেখে মেনে নেওয়ার বদলে আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখানোর দাবি তুলেছিল; সালাত নষ্ট করেছিল (আদা‘উস-সালাত); ইনফাকের বদলে কার্পণ্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল; পক্ষপাতবশত নবীগণকে অস্বীকার করেছিল; আখিরাতের ধারণা তাদের কাছে নিছক আনুষ্ঠানিক বিশ্বাসে পরিণত হয়েছিল; আর তাদের আচরণে প্রকৃত ঈমানের প্রতিফলন ছিল না। এই বিপরীত গুণাবলি দিয়েই মুত্তাকীদের চেনানো হয়েছে।

এভাবে সেই সাধারণ প্রশ্নটিরও নিষ্পত্তি হয়—কুরআন যদি মুত্তাকীদেরই হিদায়াত হয়, তবে তার প্রয়োজন কী? উত্তর: কুরআন ও অহীর কিতাব মূলত সেই মানুষের জন্য, যে তার ফিতরাতের সহজাত হিদায়াতে আল্লাহর অনুগত বান্দা হতে সম্মত হয়; তখন কুরআন তাকে জানায়—কীভাবে সে বিশ্বস্ত বান্দা হবে, আল্লাহর পথে চলার পদ্ধতি কী, কোনটি সেই সিরাতে মুসতাকীম। (মুত্তাকীদের সুনির্দিষ্ট গুণাবলি—২:৩–৫—পৃথক ফাইলে বিস্তারিত আলোচিত।)

শিক্ষা

প্রথম শিক্ষা—সূরা আল-বাকারা ও আলে ইমরান একটি জোড়া; আল-বাকারার প্রধান লক্ষ্য আহলে কিতাবের ওপর হুজ্জাত পূর্ণ করা এবং নতুন উম্মাহর প্রতিষ্ঠা ও পরিশুদ্ধি।

দ্বিতীয় শিক্ষা—এই ধারার ব্যাখ্যায় হুরূফে মুকাত্তাআত সূরার শনাক্তকারী নাম (ফারাহী রহ.-এর মতে প্রাচীন অর্থ-প্রেক্ষাপটে রাখা নাম, যেমন সূরা নূন); তবে এটি ‘সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য’ মত, চূড়ান্ত নয়।

তৃতীয় শিক্ষা—‘যালিকাল কিতাব’ সূরার নামের দিকে ইঙ্গিত করে অর্থে সেই সুপরিচিত ঐশী কিতাব বোঝায়, যা বনী ইসরাঈল নিজেদের গ্রন্থ থেকেই জানত; নির্দিষ্টতাবাচক ‘আল-কিতাব’ প্রসঙ্গবশত কিতাবে ইলাহী অর্থে সীমিত।

চতুর্থ শিক্ষা—কুরআন প্রথম হিদায়াত নয়, বরং প্রধানত তাযকীর তথা স্মরণ; হিদায়াতের দুই দিকের মধ্যে অহীর কিতাব মূলত দ্বিতীয় দিকের—চেনা পথে চলার—জন্য। যার ফিতরাত জীবন্ত ও যে আল্লাহভীরু, সে-ই এতে উপকৃত হয়; যে সহজাত হিদায়াতের কদর করে, তাকে আরও দেওয়া হয়। মুত্তাকীদের গুণাবলি সেই যুগের অবাধ্য সম্প্রদায়ের আচরণের বিপরীত।