আমাদের তালিকার তৃতীয় গুণটি হলো তারা, যারা “নামায কায়েম করে।” নামায হলো সেই মাধ্যম, যার দ্বারা আপনার ও আমার সাথে আমাদের স্রষ্টার যে সংযোগ রয়েছে তা টিকে থাকে। এটি ভালোবাসা, আনুগত্য ও বিনয়ের প্রকাশ। আল্লাহ চান এই বন্ধন দৃঢ় থাকুক, তাই তিনি আপনাকে নির্দেশ দেন যে যেকোনো পরিস্থিতিতেই আপনার দৈনন্দিন নামায বজায় রাখতে হবে। দাঁড়িয়ে নামায পড়তে পারছেন না? কোনো সমস্যা নেই, বসে নামায পড়ুন। বসাও যদি সম্ভব না হয়, তবে শুয়ে নামায পড়ুন, এমনকি প্রয়োজনে চোখের ইশারায় নামায আদায় করুন।

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আপনি কখনোই পাঁচ ওয়াক্ত নামায বজায় রাখার দায়িত্ব থেকে মুক্ত হতে পারবেন না। কেন? ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের কথা ভাবুন: আপনি জীবনে একবার সাক্ষ্য দেন যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর রাসূল। সামর্থ্যবান হলে আপনি বছরে একবার যাকাত প্রদান করেন, আর আপনি যদি দরিদ্র হন তবে আপনার উপর কোনো যাকাতই বর্তায় না। তেমনিভাবে, শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম হলে আপনি জীবনে একবার হজ পালন করেন। অসুস্থ ও দরিদ্রদের উপর হজ পালন করা আবশ্যক নয়। একইভাবে, শারীরিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বছরে এক মাস রোযা রাখা আবশ্যক। দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা হয়তো কখনোই রোযা রাখতে পারবেন না।

আপনি দেখতে পাচ্ছেন, ইসলামের অধিকাংশ স্তম্ভের ক্ষেত্রেই ছাড় রয়েছে। তাহলে বাকি থাকে কী? শাহাদাহ তথা ঈমানের সাক্ষ্য এবং সালাত তথা নামায — কেবল এ দুটিরই কোনো ছাড় নেই। মুসলিম হওয়ার জন্য জীবনে একবার ঈমানের সাক্ষ্য উচ্চারণ করাই যথেষ্ট; নামায, অন্যদিকে, একটি আবশ্যিক দৈনন্দিন কাজ। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নামায হলো দ্বীনের খুঁটি।”