সূরা আল-বাকারা (২:২৩–২৫): কুরআনের চ্যালেঞ্জ, জাহান্নাম ও জান্নাত
এবার আল্লাহ সেই সংশয়বাদীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ (তাহাদ্দী) ছুড়ে দেন, যারা কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বলে সন্দেহ করে—তারা যেন এর সদৃশ একটিমাত্র সূরা রচনা করে দেখায়। যখন তারা ব্যর্থ হয় (এবং তারা চিরকাল ব্যর্থই থাকবে), তখন কাফিরদের জন্য অপেক্ষা করছে জাহান্নাম; পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে, তাদের জন্য জান্নাত। এখানে কুরআনের রীতি অনুযায়ী তারহীব (ভীতিপ্রদর্শন) ও তারগীব (উৎসাহদান)—উভয়ের সমন্বয় ঘটেছে।
কুরআনের চ্যালেঞ্জ (২:২৩)
وَإِن كُنتُمْ فِى رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا فَأْتُوا۟ بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِۦ وَٱدْعُوا۟ شُهَدَآءَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ
“আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, তাতে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তার সদৃশ একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সহায়কদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।”
‘ওয়া ইন কুনতুম ফী রায়ব’—তোমরা যদি সন্দেহে থাকো (রায়ব অর্থ সংশয়)। সম্বোধন সেই লোকদের, যারা পুনরুত্থান অস্বীকার করত এবং দাবি করত কুরআন মুহাম্মদ ﷺ-এর রচনা। ‘মিম্মা নাযযালনা আলা আবদিনা’—আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি। ‘মিম্মা নাযযালনা’-য় এই অবতীর্ণ গ্রন্থের তা‘যীম (মহত্ত্ব) নিহিত (‘মা’-র অস্পষ্টতা এবং ‘নাযযালনা’ তথা উপর থেকে অবতরণ—উভয়ই এর মহত্ত্ব বোঝায়)। ‘নাযযালনা’ আল্লাহর উলূ (উচ্চতা—উলূউয যাত) নির্দেশ করে; অবতরণ উপর থেকে নিচের দিকে হয়, আর আল্লাহর সত্তাগত উচ্চতা একটি ইজমা‘গত মাসআলা।
‘আলা আবদিনা’—আমার বান্দার প্রতি, তথা মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি। তাঁকে ‘আবদ’ (বান্দা) বিশেষণে ভূষিত করা মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান: “সুবহানাল লাযী আসরা বি‘আবদিহি” (আল-ইসরা ১); “আলহামদু লিল্লাহিল লাযী আনযালা আলা আবদিহিল কিতাব” (আল-কাহফ ১); “ফা-আওহা ইলা আবদিহি মা আওহা” (আন-নাজম ১০)। আল্লাহর দাসত্বই প্রকৃত মুক্তি—সৃষ্টির দাসত্ব থেকে মুক্তি। রিব‘ঈ ইবনু ‘আমির রা. কাদিসিয়ায় বলেছিলেন: “জি’না লিনুখরিজান-নাসা মিন ‘ইবাদাতিল ‘ইবাদি ইলা ‘ইবাদাতি রাব্বিল ‘ইবাদ”—আমরা এসেছি মানুষকে সৃষ্টির দাসত্ব থেকে বের করে সৃষ্টির রবের দাসত্বে আনতে।
‘ফা’তূ বিসূরাতিম মিম মিসলিহি’—তবে তার সদৃশ একটি সূরা নিয়ে এসো। ‘সূরা’ ভাষাগতভাবে অর্থ উচ্চতা ও মর্যাদা (রিফ‘আ ওয়া শারাফ); পরিভাষায়—কুরআনের একটি স্বতন্ত্র অংশ, যার নির্দিষ্ট শুরু ও শেষ আছে এবং যা তিন বা ততোধিক আয়াত ধারণ করে। ‘মিম মিসলিহি’-তে সর্বনাম কুরআনের দিকে ইঙ্গিত করে (কুরআনের সদৃশ একটি সূরা)। সমর্থক আয়াত: “কুল লাইনিজতামা‘আতিল ইনসু ওয়াল জিন্নু আলা আন ইয়া’তূ বিমিসলি হাযাল কুরআনি লা ইয়া’তূনা বিমিসলিহি ওয়া লাও কানা বা‘দুহুম লিবা‘দিন যাহীরা” (আল-ইসরা ৮৮); “ফা’তূ বিসূরাতিম মিসলিহি” (ইউনুস ৩৮); “বি‘আশরি সুওয়ারিম মিসলিহি” (হূদ ১৩)।
‘ওয়াদ‘ঊ শুহাদাআকুম মিন দূনিল্লাহি ইন কুনতুম সাদিকীন’—আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সহায়কদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও; সৃষ্টিজগতের যাকে পারো সাহায্যার্থে ডাকো।
প্রত্যেক নবীকে তাঁর কওমের বিশ্বাসের জন্য মু‘জিযা দেওয়া হয়েছিল। নবী ﷺ বলেছেন:
مَا مِنَ ٱلْأَنْبِيَاءِ نَبِيٌّ إِلَّا أُعْطِيَ مِنَ ٱلْآيَاتِ مَا مِثْلُهُ آمَنَ عَلَيْهِ ٱلْبَشَرُ، وَإِنَّمَا كَانَ ٱلَّذِي أُوتِيتُ وَحْيًا أَوْحَاهُ ٱللَّهُ إِلَيَّ، فَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمْ تَابِعًا يَوْمَ ٱلْقِيَامَةِ
“প্রত্যেক নবীকে এমন নিদর্শন দেওয়া হয়েছে, যা দেখে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা হলো ওহী, যা আল্লাহ আমার প্রতি প্রত্যাদেশ করেছেন। তাই আমি আশা করি কিয়ামতের দিন আমার অনুসারীই হবে সর্বাধিক।” (বুখারী ও মুসলিম—আবূ হুরায়রা রা. থেকে)
কুরআনই সেই চিরস্থায়ী মু‘জিযা, যা যুগে যুগে নবতর হয়ে ওঠে। এর ই‘জায নিহিত এর শব্দবিন্যাসে, ফাসাহাত-বালাগাতে, অর্থের গাম্ভীর্যে, সংবাদের সত্যতায় ও বিধানের ন্যায্যতায়: “ওয়া তাম্মাত কালিমাতু রাব্বিকা সিদকাওঁ ওয়া আদলা” (আল-আন‘আম ১১৫)—সংবাদে সত্য, বিধানে ন্যায়।
জাহান্নামের সতর্কবাণী (২:২৪)
فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا۟ وَلَن تَفْعَلُوا۟ فَٱتَّقُوا۟ ٱلنَّارَ ٱلَّتِى وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلْحِجَارَةُ ۖ أُعِدَّتْ لِلْكَـٰفِرِينَ
“অতঃপর যদি তোমরা তা করতে না পারো—আর তোমরা কখনো পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; তা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।”
‘ফা-ইন লাম তাফ‘আলূ ওয়া লান তাফ‘আলূ’—যদি তোমরা তা না করো—আর তোমরা কখনো পারবে না। ‘ফা-ইন লাম তাফ‘আলূ’ তানাযযুল তথা তর্কের খাতিরে স্বীকার করে নেওয়া, আর ‘ওয়া লান তাফ‘আলূ’ চূড়ান্ত ঘোষণা যে তারা কখনোই পারবে না (লান—তা’বীদ, স্থায়ী অস্বীকার)। ইবনু কাসীর রহ. বলেন: এটি রাসূল ﷺ-এর সত্যতার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
‘ফাত্তাকুন-নারাল লাতী ওয়াকূদুহান-নাসু ওয়াল-হিজারা’—তবে সেই আগুনকে ভয় করো, যার জ্বালানি মানুষ ও পাথর। ‘ওয়াকূদ’ অর্থ আগুন প্রজ্বালনের জ্বালানি। ‘আন-নাস’ এখানে কাফিরগণ; ‘আল-হিজারা’—পাথর (কারও মতে সেই মূর্তিগুলো, যাদের তারা পূজা করত): “ইন্নাকুম ওয়া মা তা‘বুদূনা মিন দূনিল্লাহি হাসাবু জাহান্নাম” (আল-আম্বিয়া ৯৮)। ‘উ‘ইদ্দাত লিল-কাফিরীন’—তা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ‘উ‘ইদ্দাত’ (কর্মবাচ্য) বোঝায় তা ইতোমধ্যেই প্রস্তুত—জান্নাত ও জাহান্নাম বিদ্যমান, যা আহলুস সুন্নাহর আকীদা। হাদীসে (বুখারী—আনাস রা.): “উরিদাত ‘আলাইয়াল জান্নাতু ওয়ান-নার…”
লক্ষণীয়, “উ‘ইদ্দাত লিল-কাফিরীন” দ্বারা এটা বোঝায় না যে পাপী মুমিনরা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে; আহলুস সুন্নাহর আকীদা অনুযায়ী কবীরা গুনাহকারী মুমিন চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়।
জান্নাতের সুসংবাদ (২:২৫)
وَبَشِّرِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّـٰتٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ ۖ كُلَّمَا رُزِقُوا۟ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقًا قَالُوا۟ هَـٰذَا ٱلَّذِى رُزِقْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَأُتُوا۟ بِهِۦ مُتَشَـٰبِهًا ۖ وَلَهُمْ فِيهَآ أَزْوَٰجٌ مُّطَهَّرَةٌ ۖ وَهُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ
“আর যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে, তুমি তাদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত। যখনই তাদের সেখান থেকে কোনো ফল রিযিকস্বরূপ দেওয়া হবে, তারা বলবে, ‘এ তো তা-ই, যা আমাদের আগে দেওয়া হয়েছিল,’ অথচ তা তাদের সাদৃশ্যপূর্ণভাবে দেওয়া হবে। সেখানে তাদের জন্য থাকবে পবিত্র সঙ্গিনীগণ; আর তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে।”
‘ওয়া বাশশির’—আর সুসংবাদ দাও। ‘আল-বিশারা’ অর্থ আনন্দদায়ক সংবাদ দেওয়া (আল-বাশারা তথা ত্বক/চেহারা থেকে—আনন্দের সংবাদে চেহারা উদ্ভাসিত হয়)। হাদীসে (বুখারী-মুসলিম, কা‘ব ইবনু মালিক রা.): “কানা রাসূলুল্লাহি ﷺ ইযা সুররা ইসতানারা ওয়াজহুহু হাত্তা কাআন্নাহু কিত‘আতু কামার”—রাসূল ﷺ আনন্দিত হলে তাঁর চেহারা যেন চাঁদের টুকরোর মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠত। ইসলাম সুসংবাদের দ্বীন: “ইয়াসসিরা ওয়া লা তু‘আসসিরা, ওয়া বাশশিরা ওয়া লা তুনাফফিরা” (বুখারী-মুসলিম, মু‘আয ও আবূ মূসা রা.-এর প্রতি নির্দেশ)। “ফাবিমা রাহমাতিম মিনাল্লাহি লিনতা লাহুম” (আলে ইমরান ১৫৯)।
‘আল-লাযীনা আমানূ ওয়া ‘আমিলুস-সালিহাত’—যারা অন্তরে ঈমান আনে (এবং ঈমানের ছয়টি রুকন সত্যায়ন করে) এবং অঙ্গ দিয়ে নেক আমল করে। এতে খণ্ডিত হয় সেই মত, যা কেবল অন্তরের বিশ্বাসকেই ঈমানের জন্য যথেষ্ট মনে করে—ঈমান হলো বিশ্বাস, স্বীকৃতি ও আমলের সমষ্টি। ‘‘আমিলুস-সালিহাত’—কোনো আমল ‘সালিহ’ হয় দুই শর্তে: ইখলাস (আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা) ও মুতাবাআত (রাসূল ﷺ-এর অনুসরণ)। “ওয়া মান আহসানু দীনাম মিম্মান আসলামা ওয়াজহাহু লিল্লাহি ওয়া হুওয়া মুহসিন” (আন-নিসা ১২৫)।
‘আন্না লাহুম জান্নাতিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহার’—তাদের জন্য এমন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত। ‘জান্না’ শব্দটি ‘আচ্ছাদন/গোপন’ অর্থমূল থেকে (ঘন বৃক্ষরাজি ভেতরের সবকিছু ঢেকে রাখে—একই মূল থেকে জানীন, মাজনূন, জিন্ন)। বৃক্ষ, প্রাসাদ ও কক্ষসমূহের নিচ দিয়ে নদী বয়ে যায়: “লাকিনিল লাযীনাত্তাকাউ রাব্বাহুম লাহুম গুরাফুম মিন ফাওকিহা গুরাফুম মাবনিয়্যাতুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহার” (আয-যুমার ২০)। চার প্রকার নদী: “আনহারুম মিম মাইন গায়রি আসিন, ওয়া আনহারুম মিল লাবানিল লাম ইয়াতাগাইয়ার তা‘মুহু, ওয়া আনহারুম মিন খামরিন লায্যাতিল লিশ-শারিবীন, ওয়া আনহারুম মিন ‘আসালিম মুসাফফা” (মুহাম্মাদ ১৫)।
‘কুল্লামা রুযিকূ মিনহা মিন সামারাতির রিযকান কালূ হাযাল লাযী রুযিকনা মিন কাবল’—যখনই তাদের কোনো ফল রিযিকস্বরূপ দেওয়া হবে, তারা বলবে ‘এ তো তা-ই, যা আগে দেওয়া হয়েছিল’ (আকৃতিতে পূর্বের মতো)। ‘কুল্লামা’—যরফু যামান, যা রিযিকের ধারাবাহিকতা বোঝায়। ‘ওয়া উতূ বিহি মুতাশাবিহা’—আর তা তাদের সাদৃশ্যপূর্ণভাবে দেওয়া হবে; আকৃতিতে সদৃশ, তবে প্রতিটি স্বাদ, আনন্দ ও উৎকর্ষে অনন্য। (ইবনু ‘আব্বাস রা.: “লাইসা ফিল জান্নাতি মিম্মা ফিদ-দুনইয়া ইল্লাল আসমা”—দুনিয়ার কিছুই জান্নাতে নেই, কেবল নামগুলো ছাড়া।)
‘ওয়া লাহুম ফীহা আযওয়াজুম মুতাহহারা’—সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনীগণ। ‘আযওয়াজ’ (যাওজ-এর বহুবচন—জোড়/সঙ্গী)। ‘মুতাহহারা’—পরিপূর্ণ পবিত্রতায় পবিত্র: দৈহিক অপবিত্রতা থেকে এবং অন্তরের অপবিত্রতা—হিংসা, বিদ্বেষ, ঈর্ষা, কপটতা, মন্দ আচরণ—থেকেও মুক্ত; তারা সৃষ্টিগত ও চারিত্রিক উভয় দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ।
‘ওয়া হুম ফীহা খালিদূন’—আর তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। জান্নাত ধ্বংস হয় না, এর নিয়ামত ফুরায় না, এর অধিবাসীও নিঃশেষ হয় না। হাদীসে (বুখারী-মুসলিম) এসেছে: কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে দুম্বার রূপে এনে যবেহ করা হবে, অতঃপর ঘোষণা করা হবে: “ইয়া আহলাল জান্নাতি খুলূদুন লা মাওত, ওয়া ইয়া আহলান-নারি খুলূদুন লা মাওত।” আর জান্নাতের নিয়ামত কল্পনার অতীত: “ফালা তা‘লামু নাফসুম মা উখফিয়া লাহুম মিন কুররাতি আ‘ইউন” (আস-সাজদা ১৭)—“মা লা ‘আইনুন রাআত, ওয়া লা উযুনুন সামি‘আত, ওয়া লা খাতারা আলা কালবি বাশার” (বুখারী-মুসলিম)। ইবনুল কায়্যিম রহ. তাঁর হাদিল আরওয়াহ ইলা বিলাদিল আফরাহ-এ জান্নাতের বিস্তৃত বর্ণনা দিয়েছেন।
শিক্ষা
প্রথম শিক্ষা—কুরআন সংশয়বাদীদের চ্যালেঞ্জ করে এর সদৃশ একটিমাত্র সূরা রচনার; তাদের চিরস্থায়ী অক্ষমতা (ওয়া লান তাফ‘আলূ) এর ঐশী উৎস ও রাসূল ﷺ-এর সত্যতার অকাট্য প্রমাণ।
দ্বিতীয় শিক্ষা—কুরআন অসৃষ্ট, আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (নাযযালনা); আর অবতরণ প্রমাণ করে আল্লাহর উলূ তথা সৃষ্টির ঊর্ধ্বে তাঁর উচ্চতা।
তৃতীয় শিক্ষা—রাসূল ﷺ-কে ‘আবদ’ (বান্দা) বলে উল্লেখ করা মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান; আর আল্লাহর দাসত্বই প্রকৃত মুক্তি—সৃষ্টির দাসত্ব থেকে মুক্তি।
চতুর্থ শিক্ষা—জাহান্নাম বাস্তব ও কাফিরদের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুত, যার জ্বালানি মানুষ ও পাথর। এটি কবীরা-গুনাহকারী মুমিনদের চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়াকে বোঝায় না।
পঞ্চম শিক্ষা—কুরআন সতর্কবাণী (জাহান্নাম) ও সুসংবাদ (জান্নাত)—তারহীব ও তারগীব—উভয়ের সমন্বয় ঘটায়; ইসলাম সুসংবাদের দ্বীন।
ষষ্ঠ শিক্ষা—নেক আমল ইখলাস ও মুতাবাআত ছাড়া সালিহ হয় না; ঈমান বিশ্বাস, স্বীকৃতি ও আমলের সমষ্টি।
সপ্তম শিক্ষা—জান্নাত ও এর নিয়ামত চিরস্থায়ী; এর আনন্দ কল্পনার অতীত; এর সঙ্গিনীগণ দেহ ও চরিত্রে পবিত্র।