সূরা আল-ফাতিহায় আমরা তিন শ্রেণির মানুষের কথা পড়েছি—যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, যারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার, এবং যারা পথভ্রষ্ট। সূরা আল-বাকারায় এই তিন শ্রেণির বিস্তারিত পরিচয় এসেছে, আর হিদায়াত পায় প্রথম শ্রেণি—মুত্তাকি ও মুমিনগণ। এরপর এসেছে সমগ্র মানবজাতির প্রতি এক আল্লাহর ইবাদতের আহ্বান এবং রিসালাতের ঘোষণা। এবার আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের কথা বলছেন—আমরা কোথা থেকে এলাম, আমাদের উদ্দেশ্য কী, জমিনে আমাদের ভূমিকা কী। পরবর্তী আয়াতগুলোতে এই ধরিত্রীতে মানবজাতির সূচনার ইতিহাস বর্ণিত হচ্ছে।
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ
“আর স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, আমি জমিনে একজন খলিফা স্থাপন করতে যাচ্ছি। তারা বলল, আপনি কি সেখানে এমন কাউকে স্থাপন করবেন, যে তাতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা তো আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি যা জানি তা তোমরা জানো না।” (সূরা আল-বাকারা, ২ঃ৩০)
ফেরেশতাদের প্রতি ঘোষণা
“ওয়া ইয বলা হচ্ছে “ইয” শব্দটি বাক্যের শুরুতে এলে “উযকুর ইয”—অর্থাৎ “স্মরণ করো যখন” অর্থ দেয়। তাই “ওয়া ইয কালা রাব্বুকা” মানে—হে নবী, মানুষকে এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিন, যখন আপনার রব ফেরেশতাদের বলেছিলেন।
“মালাইকা” শব্দটি “মালআক”-এর বহুবচন; উচ্চারণে কঠিন বলে “মালআক” থেকে হয়েছে “মালাক” (একবচন)। এর মূল হামযা-লাম-কাফ, “আলূকা” থেকে, যার অর্থ বার্তা বহন ও পৌঁছে দেওয়া—আর এটিই ফেরেশতাদের কাজ: আল্লাহর আদেশ বহন ও বাস্তবায়ন করা। ফেরেশতারা আল্লাহর অদৃশ্য সৃষ্টি, আলো থেকে সৃষ্ট; আমরা তাদের দেখি না, তবে তারা নিশ্চিতভাবে বিদ্যমান। তারা মানুষ থেকে ভিন্ন—তারা পানাহার করে না, বিবাহ বা সন্তান নেই। আর মানুষের যেমন স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি আছে, ফেরেশতাদের তা নেই; তবে তারা যন্ত্র নয়, তাদের বোধ ও বিবেচনা আছে, কিন্তু আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই—তারা কেবল আদিষ্ট কাজ করে।
ফেরেশতাদের নানা স্তর ও নানা দায়িত্ব রয়েছে। কেউ ওহি বহন করেন (যেমন জিবরীল, যাঁকে কুরআনে প্রায়ই স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হয়, যেমন লাইলাতুল কদরে “তানাযযালুল মালাইকাতু ওয়ার রূহ”), কেউ আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন করেন (মেঘ পরিচালনা, রিযিক বণ্টন, রূহ কবজ), কেউ কেবল ইবাদতের জন্যই সৃষ্ট, আর কেউ মানুষের প্রতিটি কাজ লিপিবদ্ধ করেন। আল্লাহ বলেন, “জাইলিল মালাইকাতি রুসুলান উলি আজনিহাতিন মাসনা ওয়া সুলাসা ওয়া রুবা”—তিনি ফেরেশতাদের বানিয়েছেন দুই, তিন ও চার ডানাবিশিষ্ট বার্তাবাহক (সূরা ফাতির, ৩৫ঃ১)। যে দায়িত্বেই হোক, তাদের মূল ভূমিকা আল্লাহর আনুগত্য।
খলিফা: শব্দের তিন ব্যাখ্যা
“ইন্নী জাইলুন”—নিশ্চয়ই আমি স্থাপন করতে যাচ্ছি। “জাইল” জীম-আইন-লাম ধাতু থেকে; “জাআলা” অর্থ কোনো কিছু তৈরি করা, স্থাপন করা বা নিযুক্ত করা। “খলিফা” খা-লাম-ফা ধাতু থেকে; “খালফ” অর্থ পেছনে, আর “খলিফা” অর্থ যে অন্যের পরে আসে ও তার স্থলাভিষিক্ত হয়। মুফাসসিরগণ এখানে “খলিফা” শব্দটির কয়েকটি ব্যাখ্যা করেছেন।
প্রথম ব্যাখ্যা—মানুষ জমিনে আল্লাহর প্রতিনিধি; তার দায়িত্ব দুনিয়ায় আল্লাহর বিধান মান্য ও বাস্তবায়ন করা। এর অর্থ এই নয় যে আল্লাহ নিজে তাঁর বিধান বাস্তবায়নে অক্ষম; বরং আল্লাহ কোনো কোনো সৃষ্টিকে এই দায়িত্ব দিয়ে সম্মানিত করেন। যেমন আল্লাহ দাউদ (আলাইহিস সালাম)-কে বলেন:
يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُم بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَىٰ
“হে দাউদ, আমি তোমাকে জমিনে খলিফা করেছি; সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ের সাথে বিচার করো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ কোরো না।” (সূরা সোয়াদ, ৩৮ঃ২৬)
এই অর্থে খলিফা নিজে কোনো আইন উদ্ভাবন করেন না; তিনি কেবল আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানই বাস্তবায়ন করেন। এখানেই সেই কর্তৃত্বব্যবস্থার সাথে তার পার্থক্য, যেখানে নেতা নিজ ইচ্ছায় ধর্মে পরিবর্তন আনতে পারেন। “খলিফা” শব্দটি নির্দেশ করে যে মানুষকে কর্তৃত্ব, সিদ্ধান্তের ক্ষমতা ও স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দেওয়া হয়েছে—ভালো ও মন্দের মধ্যে বেছে নেওয়ার সামর্থ্য।
দ্বিতীয় ব্যাখ্যা—মানুষ এমন এক প্রজাতি, যার এক প্রজন্ম আরেক প্রজন্মের স্থলাভিষিক্ত হয়। এক প্রজন্ম চলে যায়, আরেক প্রজন্ম এসে তার স্থান নেয়—কিয়ামত পর্যন্ত এ ধারা চলতে থাকবে। আল্লাহ বলেন, “ওয়া হুয়াল্লাযী জাআলাকুম খালাইফাল আরদি”—তিনিই তোমাদের জমিনে (একের পর এক) প্রতিনিধি বানিয়েছেন (সূরা আল-আনআম, ৬ঃ১৬৫)।
তৃতীয় ব্যাখ্যা—মানুষ তার পূর্বে জমিনে বসবাসকারী কোনো সৃষ্টির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। সেই সৃষ্টি কারা ছিল, তা কুরআন-সুন্নাহয় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়নি; কেউ কেউ বলেছেন তারা ছিল জিন, যাদের মানুষের আগে সৃষ্টি করা হয়েছিল—”ওয়াল জান্না খালাকনাহু মিন কাবলু মিন নারিস সামূম” (সূরা আল-হিজর, ১৫ঃ২৭)। এর অতিরিক্ত বিস্তারিত নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত নয়, তাই এ নিয়ে দৃঢ় দাবি করা উচিত নয়।
ফেরেশতাদের প্রশ্ন
“কালূ আতাজআলু ফীহা মাঁই ইউফসিদু ফীহা ওয়া ইয়াসফিকুদ দিমা”—ফেরেশতারা বলল, আপনি কি সেখানে এমন কাউকে স্থাপন করবেন, যে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? এখানে “আতাজআলু”-এর হামযা প্রশ্নবোধক। তবে এই প্রশ্ন আপত্তি নয়; বরং বিস্ময়ে অথবা এই সৃষ্টির পেছনের হিকমত জানার আগ্রহে করা। “ইয়াসফিকু” সীন-ফা-কাফ ধাতু থেকে; “সাফক” অর্থ তরল প্রবাহিত করা, বিশেষত রক্তপাত ঘটানো। “আদ-দিমা” হলো “দাম” (রক্ত)-এর বহুবচন, যা বহু রক্তপাতের ইঙ্গিত দেয়।
ফেরেশতারা কেন বললেন যে মানুষ বিপর্যয় ও রক্তপাত ঘটাবে? দুটি কারণ বলা হয়েছে। প্রথমত, মানুষের পূর্বে জমিনে বসবাসকারী সৃষ্টি এমন করেছিল; তাই স্বাধীন ইচ্ছাসম্পন্ন নতুন সৃষ্টিও তেমন করবে বলে তাঁরা ধারণা করলেন। দ্বিতীয়ত, “খলিফা” (ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী প্রতিনিধি) শব্দটিই ইঙ্গিত দেয় যে ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হবে, অর্থাৎ কিছু বিপর্যয় ঘটবে।
লক্ষণীয়, আল্লাহ যখন বললেন “ইন্নী জাইলুন ফিল আরদি খলিফা,” তখন তিনি ফেরেশতাদের অনুমতি নিচ্ছিলেন না—তাঁরা তো তাঁকে বাধা দিতেও পারতেন না; তিনি কেবল তাঁদের তাঁর পরিকল্পনা জানাচ্ছিলেন, দয়াবশত। এ থেকে শিক্ষা—কেউ কর্তৃত্বের অবস্থানে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে, যারা তাতে প্রভাবিত হবে তাদের তা জানানো উচিত, যদিও তা আবশ্যক না-ও হতে পারে।
তাসবিহ, হামদ ও তাকদিস
“ওয়া নাহনু নুসাব্বিহু বিহামদিকা ওয়া নুকাদ্দিসু লাকা”—ফেরেশতারা বলল, আমরা তো আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি। “নুসাব্বিহু” সীন-বা-হা ধাতু থেকে; “সাবাহা”-র আভিধানিক অর্থ ভেসে চলা বা দীর্ঘপথ অতিক্রম করা। পরিভাষায় “তাসবিহ” অর্থ আল্লাহকে তাঁর অযোগ্য সবকিছু থেকে মুক্ত ও ঊর্ধ্বে ঘোষণা করা—অর্থাৎ ত্রুটির অস্বীকৃতি। “হামদ” অর্থ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাসহ কোনো প্রশংসিত সত্তার পরিপূর্ণ গুণাবলি বর্ণনা করা—অর্থাৎ পূর্ণতার স্বীকৃতি।
কেবল ত্রুটির অস্বীকৃতি (তাসবিহ) আংশিক প্রশংসা, আবার কেবল গুণের স্বীকৃতি (হামদ)-ও আংশিক প্রশংসা; দুটি একত্র হলেই তা পূর্ণাঙ্গ প্রশংসা। তাই “নুসাব্বিহু বিহামদিকা”—তাসবিহতে অযোগ্যতার অস্বীকৃতি এবং হামদে যোগ্য গুণের স্বীকৃতি—উভয়ে মিলে পরিপূর্ণ প্রশংসা। “বি” অক্ষরটি “সহ” অর্থও দেয়, অর্থাৎ হামদসহ তাসবিহ, যেমন আমরা বলি “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।”
“নুকাদ্দিসু লাকা”—”তাকদিস” কাফ-দাল-সীন ধাতু থেকে; “কুদস” অর্থ পবিত্রতা, আবার দূরত্বও (যেমন বাইতুল মাকদিস—পবিত্র এবং মক্কা-মদিনা থেকে দূরবর্তী বলে এই নাম)। তাকদিস আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণার সাথে সম্পৃক্ত; এ কারণে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকু-সিজদায় বলতেন “সুব্বূহুন কুদ্দূসুন রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।” “লাকা” শব্দের “লাম” নির্দিষ্টকরণ ও ইখলাস বোঝায়—আমরা কেবল আপনারই তাসবিহ ও তাকদিস করি, এবং একমাত্র আপনিই এর যোগ্য। ফেরেশতাদের বক্তব্যের মর্ম—সৃষ্টির উদ্দেশ্য যদি ইবাদত হয়, তবে আমরা তো ইতোমধ্যেই তা করছি; তাহলে এই স্বাধীন ইচ্ছাসম্পন্ন সৃষ্টির হিকমত কী? তাঁরা কেবল সেই হিকমত জানতে চাইছিলেন।
“আমি যা জানি তোমরা জানো না”
“কালা ইন্নী আলামু মা লা তালামূন”—আল্লাহ বললেন, নিশ্চয়ই আমি যা জানি তা তোমরা জানো না। মানুষ সৃষ্টির হিকমত এই যে, মানুষের মধ্যে কেবল বিপর্যয়কারীই থাকবে না, বরং থাকবে ইবাদতকারী, ইখলাসপূর্ণ বান্দা, নবী, সিদ্দিক, সৎকর্মশীল ও শহীদগণও—যা ফেরেশতারা জানতেন না।
এখান থেকে শিক্ষা—আমরা যেন কেবল এক দিক দেখে সবকিছু সম্পর্কে সাধারণীকরণ না করি। কোনো মানুষের কিছু দোষ থাকলেই তার মধ্যে কোনো ভালো নেই বলে রায় দেওয়া অন্যায়। সৃষ্টি নিখুঁত নয়; ভালোর সাথে কিছু মন্দ থাকে, আর ভালোটুকু পেতে হলে মন্দটুকু সহ্য করতে হয়—যেমন বিবাহের কিছু দায়িত্ব আছে বলে বিবাহ ত্যাগ করলে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হতে হয়, কিংবা গাছ সারা বছর পরিচর্যা করে বছরে একবার ফল দেয় বলে গাছ লাগানো ত্যাগ করলে ফলের উপকার মেলে না।
আর মানুষ স্বাধীন ইচ্ছায় আল্লাহর ইবাদত করে বলেই তার ইবাদত ইচ্ছাহীন সৃষ্টির আনুগত্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। ফেরেশতারা নিঃসন্দেহে অনুগত, কিন্তু তাঁদের কোনো প্রবৃত্তি বা শয়তানের সাথে লড়তে হয় না; পক্ষান্তরে মানুষকে নাফস ও শয়তানের বিরুদ্ধে লড়ে আল্লাহর আনুগত্য করতে হয়। এ কারণেই আল্লাহ বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَٰئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ
“নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারাই সৃষ্টির সেরা।” (সূরা আল-বাইয়িনা, ৯৮ঃ৭)
শিক্ষা
প্রথম শিক্ষা—মানুষ জমিনে আল্লাহর খলিফা; তার দায়িত্ব নিজ কর্তৃত্ব ও স্বাধীন ইচ্ছার মধ্যেও আল্লাহর বিধান মান্য ও বাস্তবায়ন করা, নিজে আইন উদ্ভাবন করা নয়।
দ্বিতীয় শিক্ষা—আল্লাহর প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে হিকমত আছে; মানুষের সীমিত জ্ঞানে সব হিকমত ধরা না পড়লেও তাঁর সিদ্ধান্তে প্রশ্ন নয়, আস্থা রাখতে হবে। এমনকি ফেরেশতারাও যা জানতেন না, আল্লাহ তা জানতেন।
তৃতীয় শিক্ষা—কোনো বিষয়ের কেবল এক দিক দেখে সাধারণীকরণ করা অনুচিত। ভালোর সাথে কিছু মন্দ থাকে, আর কল্যাণ লাভের জন্য সেই মন্দটুকু সহ্য করার মানসিকতা রাখতে হবে।
চতুর্থ শিক্ষা—স্বাধীন ইচ্ছায় নাফস ও শয়তানের বিরুদ্ধে লড়ে করা ইবাদত সবচেয়ে মূল্যবান; ঈমান ও সৎকর্মের অধিকারীরাই সৃষ্টির সেরা।
পঞ্চম শিক্ষা—কর্তৃত্বের অবস্থানে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে, যারা এতে প্রভাবিত হবে তাদের জানানো সদাচরণেরই অংশ—যেমন আল্লাহ দয়াবশত ফেরেশতাদের তাঁর পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন।