সূরা আল-বাকারা (২:১৭–১৮) — মুনাফিকদের প্রথম উপমা: নিভে যাওয়া আলো
মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনার পর আল্লাহ এবার দুটি উপমার মাধ্যমে তাদের আচরণ স্পষ্টভাবে চিত্রিত করেন। উপমা দিলে বিমূর্ত বিষয় সহজে বোঝা যায়। এই উপমাগুলোর উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে মুনাফিক খুঁজে বেড়ানো নয়, বরং এই বৈশিষ্ট্যের আলোকে নিজেদের বিচার করা—যদি এর কোনোটি নিজের মধ্যে থাকে, তবে তা সংশোধন করা। এই আলোচনায় প্রথম উপমাটি—অগ্নি প্রজ্বলনের উপমা—বিশ্লেষিত হয়েছে।
নিফাকের দুই প্রকার
নিফাক দুই প্রকার। প্রথমত, আকিদাগত নিফাক—অন্তরে প্রকৃত কুফর পোষণ করে কেবল বাইরে ইসলাম প্রদর্শন করা, যাতে মুসলিম হওয়ার সুবিধা ভোগ করা যায়; অন্তরে সে বিশ্বাসী নয়। প্রথম উপমাটি এই শ্রেণির মুনাফিক সম্পর্কে। দ্বিতীয়ত, আমলগত নিফাক—অন্তরে মুমিন, কিন্তু কিছু কাজে মুনাফিকির লক্ষণ প্রকাশ পায়; যেমন হাদিসে বর্ণিত মুনাফিকির লক্ষণ—কথা বললে মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা। কেউ একবার মিথ্যা বললেই কাফির-মুনাফিক হয়ে যায় না, বরং তার আচরণে মুনাফিকির একটি লক্ষণ প্রকাশ পায়—আকিদায় নয়, কর্মে। দ্বিতীয় উপমাটি (বৃষ্টির উপমা, ২:১৯–২০) এই আমলগত নিফাক সম্পর্কে।
مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا — অগ্নি প্রজ্বলনকারীর উপমা (২:১৭)
مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لَّا يُبْصِرُونَ
“তাদের উপমা সেই ব্যক্তির মতো, যে আগুন প্রজ্বলিত করল; অতঃপর তা যখন তার চারপাশ আলোকিত করল, তখন আল্লাহ তাদের আলো নিয়ে নিলেন এবং তাদের অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন—তারা কিছুই দেখে না।” — সূরা আল-বাকারা, ২:১৭
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ ও অন্যান্য সাহাবি এই আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন—নবী ﷺ মদিনায় হিজরত করার পর কিছু মানুষ মুসলিম হয়, কিন্তু শীঘ্রই তারা মুনাফিক হয়ে ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাদের উপমা সেই ব্যক্তির মতো, যে অন্ধকারে ছিল, তারপর আগুন জ্বালিয়ে চারপাশ আলোকিত করল ও উপকার-অপকার স্পষ্ট দেখতে পেল; কিন্তু এরপর আলো নিভে গেল এবং সে আবার অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো। এ-ই ছিল মুনাফিকদের অবস্থা—প্রথমে শিরকের অন্ধকার, তারপর নবী ﷺ-এর মাধ্যমে হিদায়াতের আলো, অতঃপর সেই আলো নিভে গিয়ে পুনরায় অন্ধকার।
“মাসাল” (মূল ম-ছ-ল) অর্থ উপমা, দৃষ্টান্ত, অবস্থা। “মিসল” অর্থ সদৃশ, আর “মাসাল” অর্থ দৃষ্টান্ত; উপমা সর্বদা যা ব্যাখ্যা করা হচ্ছে তার সদৃশ হয়। উপমার উদ্দেশ্য—বিমূর্ত ও অদৃশ্য বিষয়কে মূর্ত ও দৃশ্যমান কিছুর মাধ্যমে বোঝানো; যেমন শিশুকে “সাদা” রং বোঝাতে “এই কাগজের মতো সাদা” বললে সহজেই বোঝা যায়। একই মূল থেকে “তামসিল” (নাটকে অভিনয় করে দেখানো) ও “তিমসাল” (মূর্তি) শব্দ আসে।
“ইস্তাওক্বাদা” (মূল ও-ক্ব-দ) এসেছে “ওয়াকুদ” (জ্বালানি) থেকে—যেমন কুরআনে এসেছে “সেই আগুনকে ভয় করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর” (৬৬:৬)। “ইস্তাওক্বাদা”-র দুটি অর্থ: প্রথমত, আগুন জ্বালানো; দ্বিতীয়ত, কাউকে আগুন জ্বালাতে বলা। প্রথম অর্থ অনুযায়ী—কেউ অন্ধকারে আগুন জ্বালাল। এই অন্ধকার হলো কুফর, অজ্ঞতা, শিরক, জুলুম ও সংশয়ের অন্ধকার। যিনি এই আগুন জ্বালালেন, তিনি নবী ﷺ; আর এই আলো হলো হিদায়াত, কুরআন ও ইসলামের আলো।
فَلَمَّا أَضَاءَتْ … ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ — আলো কেড়ে নেওয়া (২:১৭)
“ফালাম্মা” ঘটনাক্রম বোঝায়—আগুন জ্বলার পর যখন “أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ” তার চারপাশ আলোকিত হলো। “দিয়া” এমন আলো, যাতে তাপও থাকে (যেমন সূর্যের কিরণ)। আলোকিত হওয়ার অর্থ—সত্য ও মিথ্যা স্পষ্টভাবে পৃথক হয়ে যাওয়া; মানুষ দেখতে পায় কোনটি সঠিক, কোনটি ভুল, আল্লাহ কী পছন্দ করেন আর কী করেন না। অন্ধকারে যেমন খাট-টেবিল-চেয়ার আলাদা করা যায় না, আলোতে তা সহজেই চেনা যায়।
চারপাশ আলোকিত হওয়ার পর কী ঘটল? “ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ”—আল্লাহ তাদের আলো কেড়ে নিলেন। “যাহাবা” (মূল য-হ-ব) অর্থ চলে যাওয়া; “যাহাবা বি” অর্থ কোনো কিছু নিয়ে নেওয়া। এখানে একটি সূক্ষ্মতা লক্ষণীয়—দেখার জন্য দুটি আলো প্রয়োজন: বাইরের আলো (পরিবেশে) এবং ভেতরের আলো (দৃষ্টিশক্তি)। বাইরের আলো—ইসলাম—তখনো বিদ্যমান, কিন্তু তাদের ভেতরের আলো নিভে গেছে; তাই তারা আর সত্য-মিথ্যা পৃথক করতে পারে না। উল্লেখ্য, “নূর” (তাপহীন আলো) “দিয়া” (তাপযুক্ত আলো) থেকে ভিন্ন—আল্লাহ কেড়ে নিয়েছেন তাদের সেই ভেতরের আলো ও সামর্থ্য।
“وَتَرَكَهُمْ”—আর তিনি তাদের ছেড়ে দিলেন, পরিত্যাগ করলেন (“তারাকা,” মূল ত-র-ক)। “فِي ظُلُمَاتٍ”—অন্ধকারসমূহে। “যুলুমাত” হলো “যুলমা”-র বহুবচন, যা “যুলম” (জুলুম, অবিচার)-এর সমমূল। এ দুয়ের সংযোগ হাদিসে স্পষ্ট—”জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকারস্বরূপ হবে” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)। ফলে তারা “لَّا يُبْصِرُونَ”—কিছুই দেখে না; সত্য, কল্যাণ ও উপকারী কিছুই তাদের দৃষ্টিতে আসে না।
প্রশ্ন জাগে—আল্লাহ কেন তাদের আলো কেড়ে নিলেন? কারণ তারা ঈমানের পর নিজেরাই কুফর বেছে নিয়েছিল। কুরআন বলে:
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا فَطُبِعَ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَفْقَهُونَ
“তা এ কারণে যে, তারা ঈমান এনেছিল, অতঃপর কুফরি করেছে; ফলে তাদের অন্তরে মোহর এঁটে দেওয়া হয়েছে, তাই তারা বোঝে না।” — সূরা আল-মুনাফিকুন, ৬৩:৩
অর্থাৎ আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করেননি বা অকারণে হিদায়াত থেকে বঞ্চিত করেননি; তিনি নবী ﷺ-এর মাধ্যমে আলো এনেছিলেন, কিন্তু তারা তা থেকে উপকৃত হয়নি, নিজেদের বিবেক-বুদ্ধি কাজে লাগায়নি—তাই তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কেউ যত্নে খাবার তৈরি করে দিলে সন্তানরা যদি অকারণে দোষ খুঁজে খেতে না চায়, তবে তা সরিয়ে নেওয়া হয়—খাবারে কোনো ত্রুটি ছিল না, তারাই চায়নি। তেমনি আলোতে কোনো ত্রুটি ছিল না, তারাই তা গ্রহণ করেনি। উপরন্তু তারা মুমিনদের নিয়ে ঠাট্টা করেছিল, তাদের নির্বোধ বলেছিল; আল্লাহ তাঁর দ্বীন নিয়ে খেলা বা তা তুচ্ছ করা বরদাশত করেন না, তাই তাদের অনুধাবনের সামর্থ্যই কেড়ে নেন।
صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ — বধির, বোবা, অন্ধ (২:১৮)
صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ
“তারা বধির, বোবা, অন্ধ; তাই তারা ফিরে আসবে না।” — সূরা আল-বাকারা, ২:১৮
“সুম্ম” হলো “আসাম্ম”-এর বহুবচন (মূল স-ম-ম)—বধির। একই মূল থেকে “সিমাম” (ছিপি/বোতলের মুখবন্ধ) শব্দ আসে, যা ভেতরেরটা আটকে রাখে। তাই “আসাম্ম” অর্থ যার শ্রবণ রুদ্ধ। এখানে অর্থ—তারা সত্য শুনতে ও গ্রহণ করতে অক্ষম। শোনা দুই প্রকার—কেবল শব্দ শোনা, আর শুনে গ্রহণ করা। মুনাফিকরা নবী ﷺ-এর খুতবায় উপস্থিত থেকে কুরআন শুনত—আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মুনাফিকদের নেতা সামনে বসে শুনত—কিন্তু শোনা তাদের উপকারে আসেনি। কুরআন বলে:
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ قَالُوا سَمِعْنَا وَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ
“আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা বলে আমরা শুনলাম, অথচ তারা শোনে না।” — সূরা আল-আনফাল, ৮:২১
“বুকম” হলো “আবকাম”-এর বহুবচন (মূল ব-ক-ম)—বোবা। এখানে অর্থ শারীরিকভাবে বাকশক্তিহীন নয়, বরং তারা সত্য ও কল্যাণকর কথা বলতে অক্ষম; তারা মিথ্যা ও বাতিলই বলে। “উম্য” হলো “আমা”-র বহুবচন (মূল আইন-মিম-য়)—অন্ধ; এখানে কেবল দৃষ্টির অন্ধত্ব নয়, বরং আত্মিক অন্ধত্বও—তারা হিদায়াত ও সত্যের প্রতি অন্ধ। নবী ﷺ তাদের মধ্যেই বাস করতেন, তারা নিদর্শন দেখত, তবু সেই সুস্পষ্ট সত্যের প্রতি অন্ধ থেকে যায়।
“فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ”—তাই তারা ফিরে আসবে না (“রুজু,” মূল র-জ-ঈন), অর্থাৎ আলোর দিকে, হিদায়াতের পথে ফিরবে না। যে বধির, বোবা ও অন্ধ, সে পথ হারালে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না। তারা ফিরবে না আরও একটি কারণে—তারা মনে করে তারা যা করছে তা-ই সঠিক; আর যে নিজের ভুল উপলব্ধিই করে না, সে তা সংশোধনও করে না। এর আগেও বলা হয়েছে “وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ”—তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না। এভাবে এই প্রথম শ্রেণির মুনাফিকদের জন্য হিদায়াতের প্রতিটি দুয়ার রুদ্ধ হয়ে যায়।
আয়াতের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা
“ইস্তাওক্বাদা”-র দ্বিতীয় অর্থ—কাউকে আগুন জ্বালাতে বলা। এই অর্থ ধরলে “الَّذِي” (যে) শব্দটি একবচন হলেও প্রকৃতপক্ষে “আল্লাযীনা” (যারা) তথা বহুবচন বোঝায়—যা প্রমাণিত হয় পরবর্তী বহুবচন সর্বনাম দিয়ে (“নূরিহিম,” “তারাকাহুম”)। অর্থাৎ এ একদল মানুষ, যারা কাউকে দিয়ে তাদের জন্য আগুন জ্বালাতে বলেছে—দ্বীন শেখা ও আমল করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু আল্লাহ তাদের সেই আলো—অর্থাৎ শেখার আগ্রহ—কেড়ে নিয়েছেন এবং তাদের অন্ধকারে ছেড়ে দিয়েছেন; ফলে তারা বধির, বোবা ও অন্ধ হয়ে গেছে।
লক্ষণীয় কয়েকটি সূক্ষ্মতা
আয়াতে বলা হয়েছে “আল্লাহ তাদের আলো কেড়ে নিলেন”—আগুন নয়। অর্থাৎ ইসলামের আলো নিভে যায়নি, তাদের নিজেদের সামর্থ্যই কেড়ে নেওয়া হয়েছে। “وَتَرَكَهُمْ” (তাদের ছেড়ে দিলেন) নির্দেশ করে যে আল্লাহ তাদের হিদায়াত দেবেন না, তারা আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থন থেকে বঞ্চিত। আর “যুলুমাত” (অন্ধকারসমূহ—বহুবচন) অন্ধকারের তীব্রতা বোঝায়: আলো থেকে হঠাৎ অন্ধকারে পড়লে কিছুই দেখা যায় না; একই সঙ্গে এটি নির্দেশ করে যে তারা একাধিক অন্যায়ে জড়িয়ে পড়েছিল।
বিচার নয়, আত্মসমীক্ষা
এই উপমা সেই মুনাফিকদের সম্পর্কে, যারা অন্তরে বিশ্বাসী নয়, কেবল বাইরে ঈমান প্রদর্শন করে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোন ব্যক্তি মুনাফিক, তা নির্দিষ্ট করে বলার অধিকার আমাদের নেই; মানুষের প্রকৃত অবস্থা কেবল আল্লাহই জানেন, আমরা কেবল বাহ্যিক আচরণ নিয়েই কাজ করি। কেউ বারবার বললেও না শুনলে “সে তো মুনাফিক” বলে তাকে ত্যাগ করা যাবে না। মদিনায় বহু মুনাফিক ছিল; উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে হত্যার অনুমতি চাইলে নবী ﷺ নিষেধ করেছিলেন, আর নবী ﷺ ও মুমিনরা—এমনকি তার নিজের ছেলেও—তাকে উপদেশ দিয়ে গেছেন। তাই আমাদের কাজ কেবল স্মরণ করিয়ে দেওয়া, উপদেশ দেওয়া ও তাদের জন্য দোয়া করা—বিচার করা নয়।
সর্বোপরি এই উপমাগুলো নিজেদের বিচারের জন্য: আল্লাহ যখন আমাকে আলো দেখান, সত্য-মিথ্যা স্পষ্ট করেন, তখন আমার আচরণ কেমন? আমি কি চোখ বন্ধ করি, অস্তিত্ব অস্বীকার করি? যদি করি, তবে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
শিক্ষা
এই উপমা থেকে প্রথম শিক্ষা—আল্লাহ কারও আলো অকারণে কেড়ে নেন না। যাদের কাছে হিদায়াতের আলো পৌঁছে, অথচ তারা ঈমানের পর নিজেরাই কুফর বেছে নেয় ও আলো থেকে উপকৃত হতে চায় না, তাদের সেই সামর্থ্যই পরিণামে কেড়ে নেওয়া হয়। ইসলামের আলো অক্ষুণ্ন থাকে; সমস্যা মানুষের নিজের গ্রহণহীনতায়।
দ্বিতীয় শিক্ষা—সত্য শোনা, বলা ও দেখার সামর্থ্য কাজে না লাগালে অন্তর বধির, বোবা ও অন্ধ হয়ে পড়ে। যে নিজের ভুল উপলব্ধিই করে না, সে সংশোধনের পথে ফেরে না; তাই ভুল দেখিয়ে দিলে তা গ্রহণ করা ও সংশোধিত হওয়াই মুক্তির পথ।
তৃতীয় শিক্ষা—এই আয়াতের প্রয়োগ অন্যকে মুনাফিক আখ্যা দেওয়ায় নয়, বরং আত্মসমীক্ষায়। নির্দিষ্ট ব্যক্তির অন্তর বিচারের অধিকার আমাদের নেই; আমাদের দায়িত্ব স্মরণ করানো, উপদেশ দেওয়া ও দোয়া করা—আর কুরআনের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের আলোকে নিজেকে যাচাই করা।