কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বহু উপমা পেশ করেছেন মানুষকে সত্য বোঝানোর জন্য। কিন্তু কিছু মানুষ আপত্তি তুলেছিল—মশা, মাছি বা মাকড়সার মতো তুচ্ছ বস্তু দিয়ে উপমা দেওয়া কি ঐশী বাণীর সাথে মানায়? এই আয়াতে আল্লাহ সেই আপত্তির জবাব দিচ্ছেন: সত্য প্রকাশে তিনি লজ্জা করেন না, উপমার বস্তু যত ক্ষুদ্রই হোক। অতঃপর তিনি দুই শ্রেণির মানুষের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন—মুমিন, যারা একে রবের পক্ষ থেকে আগত সত্য বলে চেনে; আর ফাসিক, যারা আপত্তি ও অস্বীকারে লিপ্ত হয়।
إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي أَن يَضْرِبَ مَثَلًا مَّا بَعُوضَةً فَمَا فَوْقَهَا ۚ فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۖ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَيَقُولُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلًا ۘ يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا ۚ وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ লজ্জা করেন না মশা কিংবা তার চেয়েও তুচ্ছ কিছুর উপমা দিতে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছে তারা জানে যে এটি তাদের রবের পক্ষ থেকে আগত সত্য; আর যারা কুফরি করেছে তারা বলে, আল্লাহ এই উপমা দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন? এর দ্বারা তিনি অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং অনেককে হিদায়াত দেন; আর তিনি এর দ্বারা কেবল ফাসিকদেরকেই পথভ্রষ্ট করেন।” (সূরা আল-বাকারা, ২ঃ২৬)
“লা ইয়াসতাহয়ি”: উপমা দিতে আল্লাহর লজ্জা নেই
“ইয়াসতাহয়ি” শব্দটি হা-ইয়া-ইয়া ধাতু থেকে, “হায়া” শব্দমূল থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ লজ্জা। হায়া হলো সেই অনুভূতি যা মানুষকে অন্যের সামনে কোনো কাজ করা থেকে বিরত রাখে—হয় কাজটি তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য বলে, নয়তো সে কাজের পরিণতির ভয়ে। “লা ইয়াসতাহয়ি”—আল্লাহ লজ্জা করেন না, দ্বিধা করেন না। এই প্রসঙ্গে শব্দটি দুটি অর্থ বহন করে: প্রথমত, তিনি লজ্জাবশত কোনো কিছু উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন না; দ্বিতীয়ত, “লা ইয়াসতাহয়ি” এখানে “লা ইয়াখশা”—তিনি ভয় করেন না—এই অর্থও দেয়।
“ইয়াদরিব” শব্দটি দোয়াদ-রা-বা ধাতু থেকে; “দরব”-এর আভিধানিক অর্থ একটি বস্তুকে আরেকটির ওপর আঘাত করা। শব্দটি নানা অর্থে ব্যবহৃত হয়—আঘাত করা, প্রহার করা, আবার ভ্রমণ করাও (“ইয়াদরিবূনা ফিল আরদি”—তারা জমিনে ভ্রমণ করে, কারণ ভ্রমণে পা মাটিতে আঘাত করে)। আর “মাসাল” শব্দের সাথে যুক্ত হলে “দরব” অর্থ দাঁড়ায় উপমা পেশ করা। “মাসাল” (মিম-সা-লাম) অর্থ উপমা—কোনো বিমূর্ত ধারণাকে মূর্ত, দৃশ্যমান কিছুর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা, যেন দ্রুত ও সহজে তা বোঝা যায়। কোনো বিষয় শব্দে বোঝাতে দীর্ঘ সময় লাগে, অথচ একটি উপমা কয়েক মুহূর্তে তা স্পষ্ট করে দেয়। উপমার উদ্দেশ্যই এই সহজবোধ্যতা।
মশা ও তার ঊর্ধ্বের বস্তু
“মা বাউদাতান”—এখানে “মা” শব্দটি অতিরিক্ত (যায়িদ), যা জোর প্রদানের জন্য এসেছে; অর্থাৎ “এমনকি একটি মশার উপমা দিতেও।” “বাউদা” অর্থ মশা, বা-আইন-দোয়াদ ধাতু থেকে—”বা’দ” (কিছু অংশ, খানিকটা) শব্দমূল থেকে। মশাকে এই নামে ডাকার কারণ, এটি এত ক্ষুদ্র যে খালি চোখে এর কেবল একটি অংশই দেখা যায়; পুরোটা দেখতে অণুবীক্ষণ যন্ত্র লাগে।
“ফামা ফাওকাহা”—”এবং তার ঊর্ধ্বে যা কিছু।” “ফাওক” (ফা-ওয়া-কাফ) অর্থ ঊর্ধ্বে, উপরে; এটি “তাহত” (নিচে)-এর বিপরীত। কোনো কিছু আরেকটির ঊর্ধ্বে হতে পারে স্থানগতভাবে, আবার মর্যাদা বা তাৎপর্যেও। মুফাসসিরগণ “ফাওকাহা”-এর তিনটি অর্থ করেছেন। প্রথম অর্থ, তুচ্ছতা ও ক্ষুদ্রতায় মশার ঊর্ধ্বে—অর্থাৎ মশার চেয়েও ক্ষুদ্রতর ও তুচ্ছতর কিছু। দ্বিতীয় অর্থ, অবস্থানে মশার ঊর্ধ্বে—অর্থাৎ মশার ওপর যা থাকে, যেমন মশার দেহে বহন করা পরজীবী, যা মশার চেয়েও ক্ষুদ্র। তৃতীয় অর্থ, আকারে মশার ঊর্ধ্বে—অর্থাৎ মশার চেয়ে বড় কোনো সৃষ্টি, যেমন মাছি বা মাকড়সা। সব অর্থেই সিদ্ধান্ত এক: উপমার বস্তু যত ক্ষুদ্র বা তুচ্ছই হোক, আল্লাহ তা পেশ করতে লজ্জা করেন না।
উপমার উদ্দেশ্য: বস্তু নয়, বার্তা
আল্লাহ কুরআনে বহু উপমা দিয়েছেন মানুষকে বোঝানোর জন্য—যেমন এই সূরার শুরুতেই মুনাফিকদের প্রসঙ্গে দুটি উপমা (আগুন ও বৃষ্টির) দেওয়া হয়েছিল। এসব উপমার মধ্যে মাছি (সূরা আল-হাজ, ২২ঃ৭৩) ও মাকড়সার (সূরা আল-আনকাবুত, ২৯ঃ৪১) উপমাও রয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, যখন এসব উপমা অবতীর্ণ হলো, তখন কেউ কেউ আপত্তি তুলল—এমন তুচ্ছ বস্তুর কথা ঐশী বাণীতে কেন আসবে? অন্য বর্ণনা অনুযায়ী, যখন মুনাফিকদের প্রসঙ্গে দুটি উপমা এলো, তখন কেউ বলল—আল্লাহ এত মহান ও উচ্চ যে এরূপ উপমা দেওয়া তাঁর শানের সাথে মানায় না। এই আপত্তির জবাবেই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।
এখান থেকে আমরা শিখি, উপমার বস্তু যত তুচ্ছই হোক, তা যদি সত্য প্রতিষ্ঠা করে, তবে তা পেশ করতে বাধা নেই; কারণ উপমার উদ্দেশ্য বোঝানো, আর বোঝানো সম্পন্ন হলেই উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়। তাই আমাদের মনোযোগ থাকা উচিত উপমার মাধ্যমে কী বোঝানো হচ্ছে তার ওপর, উপমা হিসেবে কোন বস্তু নেওয়া হয়েছে তার ওপর নয়। যেমন মাছির উপমা:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ ۚ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَن يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ
“হে মানুষ, একটি উপমা পেশ করা হচ্ছে, তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শোনো: তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ডাকো, তারা কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সবাই এর জন্য একত্র হয়।” (সূরা আল-হাজ, ২২ঃ৭৩)
এখানে মনোযোগ “মাছি”-র ওপর নয়, বরং এর বার্তার ওপর—যাদের তোমরা উপাস্য বানিয়েছ, তারা এত ক্ষুদ্র একটি মাছিও সৃষ্টিতে অক্ষম; এ থেকে আল্লাহর মহত্ত্ব ও একমাত্র তাঁরই ইবাদতযোগ্যতা প্রমাণিত হয়। যে হিদায়াত চায়, সে বার্তাটি গ্রহণ করে; আর যে চায় না, সে খুঁটিনাটিতে আটকে থেকে আপত্তি তোলে।
আমরা মশাকে তুচ্ছ ভাবি, অথচ এই ক্ষুদ্র সৃষ্টিই বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে—একঝাঁক মশা গোটা ভ্রমণ-পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে পারে, আর ম্যালেরিয়াসহ নানা রোগ ছড়িয়ে বহু মৃত্যুর কারণ হয়, যা নিয়ন্ত্রণে বিপুল সম্পদ ব্যয় হয়। বর্ণনায় এসেছে যে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর যুগের পরাক্রমশালী রাজা নমরূদের মৃত্যুও ঘটেছিল একটি মশার মাধ্যমে। (এ ধরনের বর্ণনা নিশ্চিতভাবে সত্য বলে গ্রহণ করার মতো প্রমাণ নেই; এখানে কেবল এ শিক্ষার দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ্য যে ক্ষুদ্রতম সৃষ্টিও বিরাট প্রভাব রাখতে পারে।) তাই আমাদের সীমিত বুদ্ধিতে কোনো কিছু তুচ্ছ মনে হলেও আল্লাহর বাণীর ওপরই আস্থা রাখতে হবে—কারণ এ সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই (লা রায়বা ফীহি); এর সবকিছুই সত্য ও কল্যাণকর। কোনো কিছু আমাদের কাছে বোধগম্য না হলেও তা মেনে নিতে হবে, কারণ আল্লাহ তা উল্লেখ করেছেন।
মুমিন ও কাফিরের প্রতিক্রিয়া
“ফা-আম্মা”—এটি বিস্তারিত বর্ণনার (তাফসীল) জন্য ব্যবহৃত। “ফা-আম্মাল্লাযীনা আমানূ ফা-ইয়া’লামূনা”—যারা ঈমান এনেছে, তারা জানে যে এটি তাদের রবের পক্ষ থেকে আগত সত্য (আল-হক)। “হক” (হা-কাফ-কাফ) অর্থ প্রতিষ্ঠিত, অকাট্য সত্য—যা সন্দেহাতীতভাবে বাস্তব। তারা যখন জানে যে এটি রবের পক্ষ থেকে, তখন তারা তা বিশ্বাস করে, গ্রহণ করে, তাতে চিন্তা করে এবং উপমার ভেতরকার নানা শিক্ষা ও নিদর্শন দেখতে পায়। মুমিনের প্রতিক্রিয়া হলো “সামি’না ওয়া আতা’না ওয়া সাদ্দাকনা”—আমরা শুনলাম, মানলাম ও সত্যায়ন করলাম।
وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ ۖ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ
“আর এই উপমাগুলো আমি মানুষের জন্য পেশ করি; কিন্তু জ্ঞানীরা ছাড়া কেউ তা অনুধাবন করে না।” (সূরা আল-আনকাবুত, ২৯ঃ৪৩)
উপমার প্রকৃত উপকার তারাই পায়, যারা জ্ঞানী—যারা জানে যে কুরআন সত্য। ইতিহাসে এমন আলিমদের দৃষ্টান্ত আছে, যাঁরা কোনো উপমা বুঝতে না পারলে কাঁদতেন—কারণ আল্লাহ বলছেন কেবল জ্ঞানীরাই উপমা অনুধাবন করে, আর তাঁরা ভাবতেন, না বুঝতে পারা মানে জ্ঞানের ঘাটতি। এতে বোঝা যায়, জ্ঞান অর্জন কত বড় বিষয়।
পক্ষান্তরে, “ওয়া-আম্মাল্লাযীনা কাফারূ ফা-ইয়াকূলূনা মাযা আরাদাল্লাহু বিহাযা মাসালা”—কাফিররা আপত্তি তোলে, “আল্লাহ এই উপমা দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন?” “মাযা” (মা = কী, যা = যা কিছু) এখানে প্রশ্নবোধক (ইসতিফহাম), তবে এই প্রশ্ন উত্তর চাওয়ার জন্য নয়—এটি অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যানসূচক অলংকারিক প্রশ্ন, যেমন মুনাফিকরা বলেছিল “আনু’মিনু কামা আমানাস সুফাহা” (আমরা কি নির্বোধদের মতো ঈমান আনব?)। অর্থাৎ তাদের কথার মর্ম—এই উপমায় কী লাভ, কী উপকার। “আরাদা” শব্দটি রা-ওয়া-দাল ধাতু থেকে; “রাওদ”-এর আভিধানিক অর্থ কোনো কিছুর খোঁজে এদিক-ওদিক ঘোরা। এ থেকে “ইরাদা”—কোনো কাজের পেছনের উদ্দেশ্য, যা অর্জন করতে চাওয়া হয়।
এখানে শিক্ষা এই যে, না বোঝার কারণে আপত্তি তোলা—চেষ্টা করা বা নিজের অক্ষমতা স্বীকার করার পরিবর্তে অভিযোগ ও সমালোচনায় নেমে পড়া—আল্লাহর অপছন্দনীয় আচরণ। এর অর্থ এই নয় যে বুদ্ধি ব্যবহার না করে অন্ধ অনুসরণ করতে হবে; বরং কিছু বোঝা কঠিন হলে বিনয়ী থাকতে হবে, আরও চেষ্টা করতে হবে, নয়তো স্বীকার করতে হবে যে হয়তো এখনো বোঝা হয়নি—পরে হয়তো বোঝা যাবে। যেমন কঠিন কোনো বিষয় প্রথমবার বোধগম্য না হলে আমরা বিষয়টিকে বা এর রচয়িতাকে দোষ দিই না, বরং জানি যে ঘাটতি আমাদের বোঝায়; দ্বিতীয়বার চেষ্টায় তা স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রকৃত সমস্যা হলো, এরা বুঝতেই চায় না। আল্লাহ কুরআনকে সহজবোধ্য করেছেন; তাই দুর্বোধ্যতা নয়, অনিচ্ছাই তাদের অন্তরায়।
পথভ্রষ্টতা ও ফাসিকের পরিচয়
“ইয়ুদিল্লু বিহি কাসীরা”—তিনি এর দ্বারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেন। “ইয়ুদিল্লু” দোয়াদ-লাম-লাম ধাতু থেকে; “দালাল” অর্থ পথভ্রষ্টতা, আর “আদাল্লা-ইয়ুদিল্লু” অর্থ কাউকে ছেড়ে দেওয়া যেন সে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়—যেমন কাউকে পথ দেখাতে গিয়ে মাঝপথে ছেড়ে দিলে সে হারিয়ে যায়। শব্দটি এই অর্থও দেয় যে কারও কর্মের কারণে তাকে পথভ্রষ্ট বলে সাব্যস্ত করা—যেমন কেউ উত্তরে যাওয়ার কথা বলে দক্ষিণের পথ ধরলে বোঝা যায় সে গন্তব্য থেকে বিচ্যুত। আল্লাহ এই উপমার দ্বারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং অনেককে হিদায়াত দেন—একই উপমা থেকে কেউ উপকৃত হয়, কেউ হয় না।
তবে পথভ্রষ্ট হয় কারা? “ওয়া মা ইয়ুদিল্লু বিহি ইল্লাল ফাসিকীন”—কেবল ফাসিকরাই। “ফাসিক” (ফা-সীন-কাফ) শব্দের আভিধানিক অর্থ “খুরূজ”—বেরিয়ে যাওয়া, সীমা অতিক্রম করা। শব্দটি এসেছে “ফাসাকাতিত তামরাতু আন কিশরিহা” অভিব্যক্তি থেকে—খেজুর অতিরিক্ত পাকলে তার খোসা ফেটে ভেতরের অংশ বেরিয়ে আসে। পরিভাষায় ফিসক অর্থ অবাধ্যতা—আল্লাহ যে সীমা নির্ধারণ করেছেন, তা অতিক্রম করা। অর্থাৎ যারা অবাধ্য, নিজেদের কুফর ও নাফরমানির কারণে তারাই উপমা থেকে উপকৃত হয় না, বরং পথভ্রষ্ট হয়। মূল উদ্দেশ্যে মনোযোগ না দিলে কোনো বিষয় বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, আর তা তখন ফিতনা ও পরীক্ষায় পরিণত হয়।
শিক্ষা
প্রথম শিক্ষা—আল্লাহ কল্যাণকর কথা বলতে লজ্জা করেন না; তাই আমাদেরও সত্য ও উপকারী কথা বলতে লজ্জা করা উচিত নয়। মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য “সুম্মুন বুকমুন উমইউন” (বধির, বোবা, অন্ধ)—তারা সত্য বলতে অক্ষম; মুমিন এর বিপরীত।
দ্বিতীয় শিক্ষা—কুরআন ও তার অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের বুদ্ধির ওপর নয়, আল্লাহর ওপর আস্থা রাখতে হবে। বিজ্ঞানী বা গবেষকদের অভিমত সহায়ক হতে পারে, কিন্তু কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নির্ভরতা কেবল আল্লাহর বাণীর ওপর।
তৃতীয় শিক্ষা—আল্লাহর বাণীতে আপত্তি তোলা অস্বীকারকারীদের স্বভাব, মুমিনের নয়। কোনো কিছু বোধগম্য না হলে সময় দিতে হবে, বোঝার তাওফিকের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে, আপত্তি নয়।
চতুর্থ শিক্ষা—উপমা হোক বা ঘটনা, আমাদের মনোযোগ থাকবে এর অন্তর্নিহিত বার্তা ও শিক্ষার ওপর, উল্লিখিত বস্তু বা খুঁটিনাটির ওপর নয়।
পঞ্চম শিক্ষা—আমাদের কাছে যা তুচ্ছ মনে হয়, তা প্রকৃতপক্ষে বিরাট তাৎপর্য ও প্রভাব বহন করতে পারে; তাই কোনো কিছুকে খাটো করে দেখা উচিত নয়।
ষষ্ঠ শিক্ষা—উপমা কেবল জ্ঞানীরাই অনুধাবন করে; তাই জ্ঞান অর্জন ও তার কদর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।