সূরা আল-বাকারার ফজিলত (হাদিসের আলোকে)

ভূমিকা

সূরা আল-বাকারার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে অসংখ্য বর্ণনা এসেছে। সহিহ মুসলিম, তিরমিযি, নাসাঈ ও মুসনাদে আহমদসহ বহু গ্রন্থে এ সংক্রান্ত সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নিচে এমন কয়েকটি হাদিস থেকে এই সূরার মর্যাদা এবং এর তিলাওয়াতের বরকত আলোচনা করা হলো।

হাদিস ১ — যে ঘরে সূরা আল-বাকারা পড়া হয়

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদিসে ঘরকে জীবন্ত রাখার এবং শয়তান থেকে সুরক্ষিত রাখার এক অপূর্ব উপায় বলে দিয়েছেন।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا، فَإِنَّ الْبَيْتَ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ لَا يَدْخُلُهُ الشَّيْطَانُ»

উচ্চারণ: আন আবী হুরাইরাতা রাদিয়াল্লাহু আনহু আন্না রাসূলাল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা ক্বাল: লা তাজআলূ বুয়ূতাকুম কুবূরা, ফাইন্নাল বাইতাল্লাযী তুকরাউ ফীহি সূরাতুল বাকারাতি লা ইয়াদখুলুহুশ শাইতান।

অনুবাদ: “আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিও না। কেননা যে ঘরে সূরা আল-বাকারা পড়া হয়, সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করে না।'”

ঘরকে কবর বানানো মানে কী? ঘর যখন নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর জিকির থেকে শূন্য হয়ে পড়ে, তখন তা যেন প্রাণহীন কবরে পরিণত হয়। আর কবরস্থানই তো জ্বীন-শয়তানের অধিক আশ্রয়স্থল। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন, ঘরকে ইবাদত ও কুরআনের আলোয় জীবন্ত রাখতে। বিশেষভাবে যে ঘরে সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত হয়, সে ঘর শয়তানের প্রবেশ থেকে সুরক্ষিত থাকে।

শিক্ষা

ঘরকে ইবাদতশূন্য রাখা তাকে আধ্যাত্মিকভাবে কবরে পরিণত করে। নামাজ, তিলাওয়াত ও জিকিরই ঘরকে জীবন্ত ও বরকতময় রাখে। আর সূরা আল-বাকারার নিয়মিত তিলাওয়াত ঘরকে শয়তানের প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

হাদিস ২ — কুরআনের শৃঙ্গ সূরা আল-বাকারা

প্রতিটি জিনিসের একটি সর্বোচ্চ চূড়া থাকে; কুরআনের সেই চূড়া হলো সূরা আল-বাকারা। এ সম্পর্কে তাবারানি ও ইবনে হিব্বানে বর্ণিত হাদিসে এসেছে।

«إِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ سَنَامًا، وَإِنَّ سَنَامَ الْقُرْآنِ الْبَقَرَةُ، وَإِنَّ مَنْ قَرَأَهَا فِي بَيْتِهِ لَيْلَةً لَمْ يَدْخُلْهُ الشَّيْطَانُ ثَلَاثَ لَيَالٍ»

উচ্চারণ: ইন্না লিকুল্লি শাইইন সানামা, ওয়া ইন্না সানামাল কুরআনিল বাকারাহ, ওয়া ইন্না মান ক্বারাআহা ফী বাইতিহি লাইলাতান লাম ইয়াদখুলহুশ শাইতানু সালাসা লায়ালিন।

অনুবাদ: “নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের একটি শৃঙ্গ (সর্বোচ্চ অংশ) আছে, আর কুরআনের শৃঙ্গ হলো সূরা আল-বাকারা। যে ব্যক্তি কোনো রাতে তা নিজ ঘরে পড়ে, তিন রাত পর্যন্ত শয়তান সে ঘরে প্রবেশ করে না।”

‘সানাম’ শব্দের অর্থ কোনো কিছুর সর্বোচ্চ, উঁচু অংশ — যেমন উটের কুঁজ বা পাহাড়ের চূড়া। প্রতিটি জিনিসকে দূর থেকে চেনার জন্য একটি উঁচু নিদর্শন থাকে: পাহাড়ের চূড়া, ঘরের ছাদ ইত্যাদি। তেমনি কুরআনের সর্বোচ্চ চূড়া, তার শৃঙ্গ হলো সূরা আল-বাকারা। আর এই সূরার তিলাওয়াতের বরকত এমন যে, এক রাতে তা পড়লে তিন রাত পর্যন্ত শয়তান সে ঘরে প্রবেশ করতে পারে না।

শিক্ষা

সূরা আল-বাকারা কুরআনের সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন সূরাগুলোর অন্যতম — তার শৃঙ্গস্বরূপ। এর একবার তিলাওয়াতের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী; এক রাতের পাঠ তিন রাতের সুরক্ষা এনে দেয়। ঘরকে শয়তানমুক্ত রাখতে এই সূরার তিলাওয়াতকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত।

হাদিস ৩ — সূরা বাকারা মুখস্থকারীই আমীর

সূরা আল-বাকারার ফজিলত সম্পর্কে আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু। এতে ফুটে ওঠে, কুরআনের সঙ্গে সম্পর্কই কীভাবে একজন মানুষের মর্যাদা ও নেতৃত্ব নির্ধারণ করে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْثًا وَهُمْ ذَوُو عَدَدٍ، فَاسْتَقْرَأَهُمْ، فَاسْتَقْرَأَ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ مَا مَعَهُ مِنَ الْقُرْآنِ، فَأَتَى عَلَى رَجُلٍ مِنْ أَحْدَثِهِمْ سِنًّا فَقَالَ: «مَا مَعَكَ يَا فُلَانُ؟» قَالَ: مَعِي كَذَا وَكَذَا وَسُورَةُ الْبَقَرَةِ. قَالَ: «أَمَعَكَ سُورَةُ الْبَقَرَةِ؟» قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: «اذْهَبْ فَأَنْتَ أَمِيرُهُمْ»

উচ্চারণ: আন আবী হুরাইরাতা রাদিয়াল্লাহু আনহু ক্বাল: বাআসা রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা বাআসান ওয়াহুম যাউু আদাদ, ফাস্তাক্বরাআহুম, ফাস্তাক্বরাআ কুল্লা ওয়াহিদিন মিনহুম মা মাআহু মিনাল কুরআন। ফাআতা আলা রাজুলিন মিন আহদাসিহিম সিন্নান, ফাক্বালা: মা মাআকা ইয়া ফুলান? ক্বালা: মাঈ কাযা ওয়া কাযা ওয়া সূরাতুল বাকারাহ। ক্বালা: আমাআকা সূরাতুল বাকারাহ? ক্বালা: না’আম। ক্বালা: ইযহাব ফাআনতা আমীরুহুম।

অনুবাদ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি অভিযাত্রী দল পাঠালেন, যারা সংখ্যায় অনেক ছিলেন। তিনি তাদের প্রত্যেকের কাছে কী পরিমাণ কুরআন আছে তা শুনলেন (পরীক্ষা করলেন)। তাদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট এক ব্যক্তির কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে অমুক, তোমার সঙ্গে কী (কুরআন) আছে?’ সে বলল, ‘আমার সঙ্গে অমুক অমুক সূরা এবং সূরা আল-বাকারা আছে।’ তিনি বললেন, ‘তোমার সঙ্গে সূরা আল-বাকারা আছে?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘যাও, তুমিই তাদের আমীর।'”

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি অভিযাত্রী দল প্রস্তুত করলেন, যাদের সংখ্যা ছিল অনেক। পাঠানোর আগে তিনি প্রত্যেকের কাছে কতটুকু কুরআন আছে তা যাচাই করলেন — কার কাছে কী পরিমাণ কুরআনের হিফজ ও ইলম আছে তা জেনে নিলেন। এ যেন একপ্রকার সাক্ষাৎকার, যেখানে মূল মাপকাঠি ছিল কুরআন।

তাদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট এক যুবকের পালা এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তার কাছে কতটুকু কুরআন আছে। যুবক কয়েকটি ছোট সূরার নাম বললেন, আর সঙ্গে জানালেন যে তিনি সূরা আল-বাকারাও মুখস্থ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নবীজি বললেন, “যাও, তুমিই তাদের আমীর।”

এই হাদিস প্রমাণ করে, নেতৃত্বের মর্যাদা বয়স বা পার্থিব যোগ্যতার চেয়ে কুরআনের ইলমের সঙ্গে অধিক সম্পৃক্ত। কুরআনের সবচেয়ে বড় ও আহকামে পরিপূর্ণ সূরা আল-বাকারা যিনি ধারণ করেছেন, তিনিই নেতৃত্বের অধিক উপযুক্ত বিবেচিত হলেন। তবে কেবল মুখস্থ করাই যথেষ্ট নয়; এর কদর ও মর্ম কিছুটা বুঝতে হবে। সাহাবায়ে কেরাম সেই বোঝাপড়া ও আমলের সঙ্গেই কুরআন মুখস্থ করতেন। তাই সূরা আল-বাকারা “ধারণ করা” মানে কেবল শব্দ নয়, বরং তার অর্থ ও বিধানও বহন করা। এই হাদিসটি তিরমিযি, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ-এ বর্ণিত হয়েছে।

শিক্ষা

কুরআনের ইলমই ইসলামে নেতৃত্বের প্রকৃত মাপকাঠি — বয়স বা পদমর্যাদা নয়। যে ব্যক্তি কুরআনকে বেশি ধারণ করেন, মর্যাদায় তিনি অগ্রগামী। নিছক মুখস্থ যথেষ্ট নয়; কুরআনের কদর, অর্থ ও বিধান বুঝে তা বহন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করাই মূল উদ্দেশ্য। সূরা আল-বাকারা ধারণ করা বিশেষ মর্যাদা ও দায়িত্ব — উভয়ই বহন করে।

হাদিস ৪ — জাহরাওয়াইন: বাকারা ও আলে ইমরান

আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এই হাদিসে কুরআন তিলাওয়াতের শাফাআত এবং বিশেষভাবে সূরা আল-বাকারা ও আলে ইমরানের অসাধারণ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اقْرَؤُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ. اقْرَؤُوا الزَّهْرَاوَيْنِ الْبَقَرَةَ وَسُورَةَ آلِ عِمْرَانَ، فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ، أَوْ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ، أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ تُحَاجَّانِ عَنْ أَصْحَابِهِمَا. اقْرَؤُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ، فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ، وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ، وَلَا تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ»

উচ্চারণ: আন আবী উমামাতা রাদিয়াল্লাহু আনহু ক্বাল: সামিতু রাসূলাল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা ইয়াকূল: ইকরাউল কুরআন, ফাইন্নাহু ইয়াতী ইয়াওমাল কিয়ামাতি শাফীআন লিআসহাবিহ। ইকরাউয যাহরাওয়াইনি: আল-বাকারাতা ওয়া সূরাতা আলি ইমরান, ফাইন্নাহুমা তাতিয়ানি ইয়াওমাল কিয়ামাতি কাআন্নাহুমা গামামাতান, আও কাআন্নাহুমা গায়ায়াতান, আও কাআন্নাহুমা ফিরকানি মিন তাইরিন সাওয়াফ, তুহাজ্জানি আন আসহাবিহিমা। ইকরাউ সূরাতাল বাকারাতি, ফাইন্না আখযাহা বারাকাতুন, ওয়া তারকাহা হাসরাতুন, ওয়া লা তাসতাতীউহাল বাতালাহ।

অনুবাদ: “আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‘তোমরা কুরআন পড়ো, কেননা কিয়ামতের দিন তা তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে। তোমরা দুই আলোকিত সূরা — আল-বাকারা ও আলে ইমরান — পড়ো, কেননা কিয়ামতের দিন এই দুটি সূরা এমনভাবে আসবে যেন তারা দুই খণ্ড মেঘ, অথবা দুই ছায়াদানকারী চাঁদোয়া, অথবা সারিবদ্ধ পাখির দুটি ঝাঁক — নিজেদের পাঠকারীদের পক্ষে ওকালতি করতে করতে। তোমরা সূরা আল-বাকারা পড়ো; কেননা তা গ্রহণ করা বরকত, তা ছেড়ে দেওয়া আক্ষেপের কারণ, আর বাতিলপন্থীরা (জাদুকরেরা) তার সামনে দাঁড়াতে পারে না।'”

‘যাহরাওয়াইন’ অর্থ দুই আলোকিত সূরা — ‘যাহরা’ মানে দীপ্তি, আলো। সূরা আল-বাকারা ও আলে ইমরান আলো ও নূর ছড়ায়, তাই এ দুটিকে বেশি বেশি পড়ার নির্দেশ এসেছে।

কিয়ামতের কঠিন, উত্তপ্ত দিনে এই দুই সূরা তার নিয়মিত পাঠকারীর মাথার উপর বিশাল মেঘ বা ছায়াদানকারী চাঁদোয়ার মতো এসে ছায়া দেবে; কিংবা সারিবদ্ধ পাখির দুই বিশাল বাহিনীর মতো এসে আল্লাহর কাছে তার পক্ষে সুপারিশ করতে থাকবে — “হে আল্লাহ, এই বান্দা আমাদের মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াত করত; তার জন্য আমাদের সুপারিশ কবুল করুন।”

অতঃপর বিশেষভাবে সূরা আল-বাকারা সম্পর্কে বলা হলো: তা গ্রহণ করা, অর্থাৎ পড়া ও আঁকড়ে ধরা বিশাল বরকতের কারণ; আর তা ছেড়ে দেওয়া বড় ক্ষতি ও আক্ষেপের কারণ। হাদিসের ‘বাতালা’ শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে ‘সাহারা’ — অর্থাৎ জাদুকরেরা। জাদুকর ও তাদের জাদুটোনা এই সূরার সামনে ব্যর্থ হয়ে যায়; সূরা আল-বাকারা তাদের জাদু লন্ডভন্ড করে দেয়।

এ কারণেই যারা জাদুটোনা বা জ্বীন-সংক্রান্ত কষ্টে আছেন, তাদের জন্য সূরা আল-বাকারা বেশি বেশি পড়া বিশেষ উপকারী — অন্তত প্রতি তিন দিনে একবার। আর যারা কুরআন ও হাদিসের সহিহ তরিকায় রুকয়া করেন — ভণ্ডদের পন্থায় নয় — তাঁরা পরামর্শ দেন, কষ্ট বেড়ে গেলে সম্ভব হলে প্রতিদিন সূরা আল-বাকারা পড়া। যত বেশি পড়া হবে, জ্বীন, জাদু ও এ জাতীয় কষ্টে নিপতিত ব্যক্তিরা তত বেশি স্বস্তি অনুভব করবেন; আল্লাহ তাদের কষ্ট লাঘব করে দেবেন।

শিক্ষা

কুরআন তিলাওয়াত কিয়ামতের দিন পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে। সূরা আল-বাকারা ও আলে ইমরান — এই দুই আলোকিত সূরা — বিশেষভাবে বেশি পড়া উচিত; কিয়ামতের দিন এরা পাঠকারীকে ছায়া দেবে ও তার পক্ষে ওকালতি করবে। সূরা আল-বাকারা আঁকড়ে ধরা বরকত, আর তা ছেড়ে দেওয়া আক্ষেপ। জাদু-টোনার মোকাবিলায় ও সহিহ রুকয়ায় এই সূরার নিয়মিত তিলাওয়াত এক পরীক্ষিত আশ্রয়।