Course Content
Words in Quran – IN DEPTH
0/56
Words in Quran – IN DEPTH

‘ইনশাআল্লাহ’—একটি বিশেষ তাসবীহ এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি

আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি যে, ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা আসলে আল্লাহর এক মহান তাসবীহ পাঠ করা? প্রায়ই আমরা কোনো গভীর উপলব্ধি ছাড়াই বা গুরুত্ব না দিয়ে কথা প্রসঙ্গে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে ফেলি। সম্ভবত এই শব্দটির পেছনের প্রকৃত আধ্যাত্মিক ওজন জানলে আমরা এটি বলার সময় আরও অনেক বেশি সচেতন হতে পারতাম।

১. তাসবীহ হিসেবে ‘ইনশাআল্লাহ’

আমরা যখন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলি, তখন আমরা আল্লাহর নিখুঁত পবিত্রতা ও পূর্ণতা ঘোষণা করি। ঠিক একইভাবে, যখন আমরা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলি, তখন আমরা এটিই স্বীকার করি যে—আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া এই মহাবিশ্বে কোনো কিছুই সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়। এই স্বীকৃতিটি নিজেই আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর অসীম ক্ষমতার এক বলিষ্ঠ ঘোষণা। এটি কেবল একটি বাক্য নয়, বরং এটি একটি ইবাদত বা তাসবীহ।

২. কুরআনের আলোকে এর গুরুত্ব

পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কালামের ২৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

“আমি কি তোমাদের বলিনি, কেন তোমরা তাসবীহ পাঠ করছ না?”

বিখ্যাত মুফাসসির ইমাম আর-রাজীর ‘মাফাতিহুল গায়েব’ তাফসীর অনুযায়ী, এই আয়াতে ‘তাসবীহ’ পাঠ না করার অর্থ হলো—কেন তোমরা ‘ইনশাআল্লাহ’ (যদি আল্লাহ চান) বলছ না? অর্থাৎ, কোনো কাজের ইচ্ছা পোষণ করার সময় আল্লাহর ইচ্ছাকে প্রাধান্য না দেওয়া বা ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলাকে এখানে তাসবীহ বর্জন করার সাথে তুলনা করা হয়েছে।

৩. সচেতন উচ্চারণ

‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটির মাধ্যমে আমরা স্বীকার করি যে আমরা আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল। এটি আমাদের ভেতরে নম্রতা তৈরি করে এবং অহংকার দূর করে। তাই পরবর্তী সময় যখনই আপনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলবেন, তখন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করুন।

শিক্ষণীয় বিষয়: মনে রাখবেন, এই একটি সাধারণ শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে আপনি আসলে প্রতিটি মুহূর্তে মহান আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বই ঘোষণা করছেন। এটি কেবল ভবিষ্যতের কোনো কাজের নিশ্চয়তা নয়, বরং এটি আপনার ঈমান ও আল্লাহর প্রতি আপনার চরম নির্ভরতার এক জীবন্ত দলিল।