সূরা আল-আনকাবূত (২৯:৫৮)

অনুবাদে হারিয়ে যাওয়া রত্ন — “গুরাফ” শব্দের গভীরে

শুরুতে চলুন আয়াতটি ও তার অনুবাদ পড়ি।

وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُبَوِّئَنَّهُم مِّنَ الْجَنَّةِ غُرَفًا تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ نِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

ওয়াল্লাযীনা আমানূ ওয়া আমিলুস্ সালিহাতি লানুবাওবিয়ান্নাহুম মিনাল জান্নাতি গুরাফান তাজরী মিন তাহতিহাল আনহারু খালিদীনা ফীহা · নি’মা আজরুল আমিলীন


অনুবাদ ১ :

আর যারা ঈমান আনে ও সৎ কর্ম করে, তাদেরকে অবশ্যই আমি জান্নাতে কক্ষ বানিয়ে দেব, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। কতইনা উত্তম আমলকারীদের প্রতিদান!

— Rawai Al-bayan

অনুবাদ 2 :

যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে আমি অবশ্যই তাদের বসবাসের জন্য সুউচ্চ প্রাসাদ দান করব জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা স্থায়ী হবে, কত উত্তম প্রতিদান সৎ কর্মশীলদের –

— Sheikh Mujibur Rahman


অর্থ

সূরা আল-আনকাবূতে যাঁদের সম্বোধন করা হচ্ছে, তাঁরা ছিলেন চাপের মুখে থাকা মানুষ — নির্যাতনের শিকার, ঈমানের কারণে যাঁদের ঘরবাড়ি ছেড়ে হিজরত করতে বলা হচ্ছিল। এই দুনিয়ায় তাঁদের জীবন হয়ে উঠেছিল সংকীর্ণ আর চাপা। তো এর বিনিময়ে আল্লাহ তাঁদের কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন? কোনো ছোটখাটো সান্ত্বনা নয় — বিশাল কিছু: গুরাফ (غُرَف)। এই শব্দটির অনুবাদ আমরা ওপরে দেখেই ফেলেছি; এবার চলুন খুঁজে দেখি, সেই অনুবাদে কী থেকে যাচ্ছে আড়ালে।


হারিয়ে যাওয়া রত্ন — ১

আরবি ব্যাকরণ অনুসারে, শব্দটির এই বহুবচন রূপ — গুরাফ — “প্রাচুর্য” বোঝায়। অর্থাৎ, আল্লাহ তাঁদের দেবেন জান্নাতে গুনে শেষ করা যায় না এমন প্রাসাদ/কামরা/ঘর, যার তলদেশ দিয়ে বইবে নদী, আর তা চিরকালের জন্য। পুরস্কারটিকে এত খোলা ও বিস্তৃত ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে ঠিক এই কারণেই যে, তাঁদের কষ্ট ছিল এত সংকীর্ণ। এই দুনিয়ার সংকীর্ণতার জবাব এসেছে আখিরাতের বিশালতায়।


হারিয়ে যাওয়া রত্ন — ২

গুরাফ শব্দটি এসেছে এমন একটি মূল থেকে, যার অর্থ — হাতের আঁজলায় পানি তুলে নেওয়া, অর্থাৎ কোনো কিছু ওপরে তুলে নেওয়া। সেই “ওপরে তুলে নেওয়া”র ভাব থেকেই গুরাফ মানে দাঁড়ায় উঁচু কামরা, ওপরের ঘর। তাই শব্দটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে একটি নিরব ছবি: নেককার বান্দাদের ওপরে তুলে নেওয়া হবে — এই দুনিয়ার নিচুতা ও সংগ্রাম থেকে তুলে নিয়ে বসানো হবে উঁচু, সম্মানিত কামরায়।


উপসংহার

এ-ই সেই সৌন্দর্য, যা আরবি বহন করে অথচ নিছক অনুবাদ কখনো পুরোপুরি দেখাতে পারে না। এখন, আমরা যে রত্নগুলো নিয়ে আলোচনা করলাম সেগুলো মনে রেখে যদি একই আয়াত আবার পড়েন, তবে এর ভেতরে আপনি এক ভিন্ন জগতের স্বাদ পাবেন।

CONNECT :