“যালিকা” — একটা ছোট্ট শব্দ, একটা বড় ইঙ্গিত

সূরা আল-বাকারার শুরুতেই আল্লাহ বলেছেন — “যালিকাল কিতাব” (ذَٰلِكَ الْكِتَابُ)। অর্থ: “এই সেই কিতাব।” খুব সাধারণ একটা লাইন, তাই না? কিন্তু এখানে একটা মজার ব্যাপার লুকিয়ে আছে, যেটা একবার খেয়াল করলে আর ভুলবেন না।

আগে ছোট্ট একটা আরবি ক্লাস

আরবিতে কোনো কিছুকে “ওই যে” বা “এই যে” বলে দেখিয়ে দেওয়ার শব্দকে বলে ইসমুল ইশারাহ — মানে নির্দেশক সর্বনাম। এর দুই রকম আছে:

  • হাযা (هٰذَا) — কাছের জিনিস দেখানোর জন্য। যেমন হাতে ধরা বই দেখিয়ে বলা: “এই বইটা।”
  • যালিকা (ذَٰلِكَ) — দূরের জিনিস দেখানোর জন্য। যেমন দূরে দাঁড়ানো কাউকে দেখিয়ে বলা: “ওই যে লোকটা।”

তাহলে প্রশ্নটা এখানে

কুরআন তো আমাদের কাছেই — হাতে ধরা, বুকে জড়ানো, প্রতিদিন পড়া। তাহলে আল্লাহ “হাযাল কিতাব” (এই কিতাব) না বলে কেন “যালিকাল কিতাব” (ওই কিতাব) বললেন? দূরের জিনিস দেখানোর শব্দ দিয়ে এত কাছের একটা জিনিসকে কেন নির্দেশ করা হলো?

উত্তরটা সুন্দর

শাইখ ইবনে উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসীরে চমৎকার একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন — এখানে দূরত্ব বোঝানো উদ্দেশ্য নয়, বরং উচ্চ মর্যাদা বোঝানো উদ্দেশ্য।

ভাবুন তো, আমরা যখন কারও প্রতি খুব সম্মান দেখাই, তখনও কিন্তু একটু “দূরত্বের” ভাষা ব্যবহার করি — যেন জিনিসটা এতটাই উঁচুতে যে হাত বাড়িয়ে ছোঁয়া যায় না। এখানেও ঠিক তাই। “যালিকা” শব্দটা দিয়ে যেন বলা হচ্ছে —

এই কিতাবের মর্যাদা এত উঁচু, এত সম্মানিত, যে সাধারণ কোনো জিনিসের মতো একে “এই যে” বলে দেখানো যায় না।

কুরআন আমাদের কাছেই আছে ঠিকই — অর্থে এটা “হাযাল কিতাব”-এর মতোই। কিন্তু শব্দটা বেছে নেওয়া হয়েছে দূরত্বের, কারণ সেই দূরত্ব হলো মর্যাদার দূরত্ব, দূরে থাকার দূরত্ব নয়।

আর এর সাথে আমাদের সম্পর্ক

সবচেয়ে সুন্দর কথাটা এখানেই। শাইখ ইঙ্গিত করেছেন — যে কিতাবের মর্যাদা এত উঁচু, সেই কিতাব যারা আঁকড়ে ধরবে, দুনিয়াতে তাদের মর্যাদাও উঁচু হবে। কুরআন যাকে ছোঁয়, তাকে সে উঁচু করে তোলে।

তাহলে দেখুন — মাত্র একটা শব্দ, “যালিকা”। এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে কুরআনের সম্মান, আর সেই সম্মানের ভাগীদার হওয়ার আমন্ত্রণ।