সূরা আল-বাকারা: আয়াত ৩৪-৩৮ — ইবলিসের অবাধ্যতা ও আদম (আঃ)-এর তওবা

ভূমিকা

আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টির ধারাবাহিকতায় আজকের আয়াতগুলোতে আমাদের সাথে প্রথমবারের মতো পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে মানবজাতির সবচেয়ে বড় শত্রু — ইবলিসের সাথে। ইবলিসের একটি পাপ এবং আদম-হাওয়া (আলাইহিমাস সালাম) কর্তৃক আল্লাহর একটি আদেশ লঙ্ঘিত হওয়ার এই ঘটনার সূত্র ধরেই শুরু হয় সেই যুদ্ধ, যার ময়দানে আমরা এখন বাস করছি — এবং যার পরিণতি জান্নাত অথবা জাহান্নামে গিয়ে শেষ হবে।

পৃথিবীতে দুইটি জাতি বসবাস করে — মানবজাতি ও জিন জাতি। আর এই দুই জাতির মধ্যে দুইটি দল — আল্লাহর দল ও ইবলিসের দল। ইবলিস ও তার বাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য হলো, যত বেশি সংখ্যক মানুষ ও জিনকে জাহান্নামী বানানো যায়। এই লক্ষ্যে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালায় — এটাই তাদের একমাত্র মিশন।

এই আলোচনা থেকে দুটি বিষয় অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করতে হবে — ইবলিসের পাপের প্রকৃতি ও তার প্রতিক্রিয়া, এবং আদম-হাওয়ার অবাধ্যতার প্রকৃতি ও তাদের প্রতিক্রিয়া। কারণ আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে জীবনে কখনো আল্লাহর অবাধ্য হবে না — আমাদের দুর্বলতার কারণে পাপ হয়েই থাকে। প্রশ্ন হলো, পাপের পর আমাদের প্রতিক্রিয়া কোন পথ অনুসরণ করবে — ইবলিসের পথ, নাকি আদমের পথ?


১. ইবলিসের নাম ও তার মূল প্রকৃতি

“ইবলিস” নামটি এসেছে “আবলাসা” থেকে, যার অর্থ হতাশ হয়ে যাওয়া, নিরাশ হয়ে যাওয়া। এই নামের মধ্যেই তার প্রতিক্রিয়ার মূল রহস্য লুকিয়ে আছে — হতাশা ও নিরাশার উপর ভিত্তি করে যত ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়, তা সবই ইবলিসী প্রতিক্রিয়ার শ্রেণিভুক্ত, এবং এর মধ্য দিয়ে কখনো কল্যাণ আসে না।

বিপরীতে, আদম (আঃ)-এর প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন শ্রেণির — অনুশোচনা ও আশার এক চমৎকার মিশ্রণ। ইবলিসের প্রতিক্রিয়া ছিল নিজেকে জাস্টিফাই করা এবং নিরাশ হয়ে যাওয়া। আদমের প্রতিক্রিয়া ছিল — “আমি দোষ করেছি,” অনুতপ্ত হওয়া, এবং তারপর ক্ষমার আশা করা। এই দুইয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। গুনাহ এবং গুনাহ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার এই মূলনীতি বুঝতে না পারলে দুনিয়ার জীবনের এই পরীক্ষায় আমরা ব্যর্থ হবো।


২. আয়াত ৩৪: সেজদার আদেশ ও ইবলিসের অস্বীকৃতি

আরবি পাঠ: وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ

অনুবাদ: “স্মরণ করো, যখন আমরা ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমের উদ্দেশ্যে সেজদা করো। তখন ইবলিস ব্যতীত সকলে সেজদা করল। সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল, এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।”

ইবলিস কি আদেশ পেয়েছিল?

এখানে একটি প্রশ্ন উঠতে পারে — আল্লাহ তো ফেরেশতাদের আদেশ দিয়েছিলেন, ইবলিস তো জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত, তাহলে সে কেন সেজদা করতে বাধ্য ছিল? কুরআনের অন্যান্য স্থান, বিশেষত সূরা আল-আ’রাফ (৭:১২), স্পষ্ট করে দেয় যে ইবলিসও এই আদেশ পেয়েছিল — “আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম, তখন সেজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?” ইবলিস কখনো বলেনি যে সে আদেশ পায়নি; বরং তার যুক্তি ছিল ভিন্ন — সে নিজেকে আদমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করেছিল। হয় ফেরেশতাদের সাথে অবস্থানের কারণে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে সে আদেশ পেয়েছিল, অথবা আলাদাভাবে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছিল।

ইবলিসের যুক্তি: ফিলোসফি দিয়ে অবাধ্যতাকে জায়েজ করা

ইবলিস বলল, “আমি তার চেয়ে উত্তম — আমাকে আগুন থেকে আর তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন” (সূরা আল-আ’রাফ ৭:১২)। আল্লাহর স্পষ্ট আদেশকে অমান্য করার জন্য ইবলিস একটি যুক্তি নিয়ে এলো — এটাই আজও আমাদের অনেকের মধ্যে ঘটে থাকে। আল্লাহ বা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কোনো আদেশ সামনে এলে আমরা প্রশ্ন করি, “কেন এটা নিষেধ হবে?” — যেমন কেউ বলে, “পর্দা কেন করতে হবে, শালীন পোশাক তো পরছিই, চুল ঢাকার দরকার কী?” এটাই ইবলিসী ফিলোসফি — “আমি তো তার চেয়ে ভালো, তাহলে কেন সেজদা করব?”

সুদের উদাহরণ: এই একই মানসিকতা আজকের সময়ে সুদের ক্ষেত্রেও দেখা যায় — “ব্যাংকে টাকা রাখলাম, ব্যাংক তো ব্যবসায় খাটাবে, সেখান থেকে লাভ দিচ্ছে, অসুবিধা কী?” কিন্তু যে মুহূর্তে রিটার্ন গ্যারান্টিড হয়ে যায় — লাভ হোক বা লোকসান, নির্দিষ্ট হারে টাকা ফেরত পাওয়া নিশ্চিত — তখনই তা সুদ হয়ে যায়, তাকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন (ইন্টারেস্ট, প্রফিট শেয়ারিং, ইত্যাদি)। একজন মুসলিমের কাজ হলো আল্লাহ ও রাসূল ﷺ যা নিষেধ করেছেন তা মেনে নেওয়া — অতিরিক্ত পাণ্ডিত্য দেখানোর প্রয়োজন নেই।

ইসলাম মানে আত্মসমর্পণ

“ইসলাম” শব্দের মূল স্পিরিট শান্তি নয় — যদিও ইসলাম গ্রহণ করলে শান্তি লাভ হয় — বরং মূল স্পিরিট হলো আত্মসমর্পণ (সাবমিশন)। আল্লাহ ও রাসূল ﷺ-এর আদেশ সামনে এলে “কেন” প্রশ্ন না করে, শোনামাত্র মেনে নেওয়াই ইসলামের মূল কথা। এরপর মনের প্রশান্তির জন্য যদি কেউ সেই আদেশের হিকমত অনুসন্ধান করে, তাতে ঈমান আরও বৃদ্ধি পায় — কিন্তু আগে সাবমিট করতে হবে, তারপর হিকমত খোঁজা।

অহংকার (কিবর) — একটি ভয়ংকর বিপদ

ইবলিসের অবাধ্যতার সাথে যা মিশে ছিল তা হলো অহংকার — “আবা” (অস্বীকার করা) ও “ইস্তাকবারা” (অহংকার করা)। অবাধ্যতার সাথে অহংকার মিশ্রিত হলে তা কুফরিতে রূপ নিতে পারে। একটি মাত্র আদেশ অমান্য করা হলেও, যদি তার পেছনে থাকে “আমি এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তাই এই আদেশ আমার জন্য প্রযোজ্য নয়” — এই মানসিকতা, তবে তা অহংকার।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন — “যার অন্তরে সামান্য একটা পিঁপড়ার সমান অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না” (সহীহ মুসলিম)। যখন জিজ্ঞাসা করা হলো, একজন মানুষ তার পোশাক-জুতা সুন্দর হওয়া পছন্দ করে, এটা কি অহংকার? রাসূলুল্লাহ ﷺ অহংকারের সংজ্ঞা দিয়েছেন দুইটি বিষয়ের মাধ্যমে:

এক, “বাতরুল হাক্ক” — সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা, সত্যের সামনে বিনীত না হওয়া। কুরআন-হাদীসের দলিল নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও অহংকারবশত তা মানতে অস্বীকার করা।

দুই, “গামতুন নাস” — মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা। কাউকে ছোট মনে করা — সে হতে পারে বাসার কর্মী, গাড়িচালক, বা প্রহরী। প্রত্যেকের নিজের জীবনে এই বিষয়টি পর্যালোচনা করা উচিত — আমরা কি কখনো কাউকে তার পেশা, শিক্ষা বা সামাজিক অবস্থানের কারণে মনে মনে তুচ্ছ জ্ঞান করি? এই প্রবণতা অনেকের অন্তরে লুকিয়ে থাকে, প্রকাশ পাওয়ার সুযোগ না পাওয়ার কারণে ধরা পড়ে না, কিন্তু বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তা বেরিয়ে আসে।

কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া

আয়াতের শেষে বলা হয়েছে, “ওয়াকানা মিনাল কাফিরিন” (এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো)। এখানে “কানা” শব্দের দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে — একদল মুফাসসিরের মতে, এর অর্থ হলো আল্লাহর জ্ঞানে ইবলিস আগে থেকেই কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্য দল (ইবনে কাসীরের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসহ) মনে করেন, এখানে “কানা” অতীতকালীন হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে — অর্থাৎ এই ঘটনার মাধ্যমে সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।

ইবলিসের অনুশোচনাহীনতা

ইবলিসের অহংকার এতটাই তীব্র ছিল যে সে তওবার কোনো সুযোগ খোঁজেনি, ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রচেষ্টা করেনি। এখানেই আদম (আঃ)-এর সাথে তার পার্থক্য আকাশ-পাতাল।

সেজদার প্রকৃতি: সম্মানসূচক, ইবাদতের নয়

ফেরেশতাদের এই সেজদা ছিল আল্লাহর আদেশে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ইবাদত, কিন্তু আদম (আঃ)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন — আদমের ইবাদত নয়। পূর্ববর্তী নবীদের শরীয়তে সম্মানসূচক সেজদা বৈধ ছিল — যেমন সূরা ইউসুফে (১২:১০০) ইউসুফ (আঃ)-এর মা-বাবা ও ভাইয়েরা তার উদ্দেশ্যে সেজদা করেছিলেন, যা ছিল বিশুদ্ধ সম্মান প্রদর্শনের সেজদা। কিন্তু নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর শরীয়তে এই ধরনের সেজদাও নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে — এখন কারো জন্যই, এমনকি সম্মানের উদ্দেশ্যেও, কাউকে সেজদা করা বৈধ নয়।


৩. আয়াত ৩৫: জান্নাতে বসবাস ও নিষিদ্ধ গাছ

আরবি পাঠ: وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ

অনুবাদ: “আর আমরা বললাম, হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং সেখান থেকে যা ইচ্ছা আরাম করে খাও, কিন্তু এই গাছের নিকটবর্তী হয়ো না, নতুবা তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।”

প্রাচুর্য ও সহজতার আদেশ

“রাগাদান” শব্দের দুটি অর্থ রয়েছে — বিনা কষ্টে আরাম করে, এবং প্রাচুর্যের সাথে। অর্থাৎ একদিকে খাদ্য গ্রহণে কোনো কষ্ট করতে হবে না, অন্যদিকে তা হবে অফুরন্ত। “হাইসু শি’তুমা” (যেখান থেকে তোমরা দুজনে ইচ্ছা করো) — আল্লাহ আদম ও হাওয়াকে জান্নাতের যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো খাদ্য গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, শুধুমাত্র একটি গাছ ছাড়া।

একটিমাত্র নিষেধাজ্ঞা এবং “নিকটেও যেয়ো না” নীতি

লক্ষণীয়, আল্লাহ শুধু “এই গাছের ফল খেয়ো না” বলেননি, বরং বলেছেন “এই গাছের নিকটবর্তীও হয়ো না।” আল্লাহ যখন কোনো হারাম বিষয় নিষেধ করেন, তখন যা কিছু সেই হারামের দিকে নিয়ে যেতে পারে তার সবকিছুকেই নিষেধ করে দেন — যেমন সূরা বনী ইসরাঈলে (১৭:৩২) বলা হয়েছে, “তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তীও হয়ো না” — অর্থাৎ দৃষ্টি অবনত রাখা, এমন কিছু না করা যা ব্যভিচারের আগ্রহ তৈরি করে। একইভাবে এই গাছের আশেপাশে ঘোরাফেরা করারও প্রয়োজন নেই।

গাছের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা অপ্রয়োজনীয়

এই গাছ কী প্রজাতির ছিল, তা নিয়ে কুরআনে কিছু বলা হয়নি, এবং জ্ঞানমতে সহীহ হাদীসেও এর উল্লেখ নেই। সালাফদের তাফসীরে এ বিষয়ে যা এসেছে তা মূলত ইসরাইলিয়াত থেকে বর্ণিত — এবং পূর্বে আলোচিত চারটি মূলনীতি অনুযায়ী (ইসরাইলিয়াত বর্ণনা করা জায়েজ, কিন্তু প্রমাণ ছাড়া সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করা যাবে না, বর্ণনাকারী সাহাবীদের প্রতি সুধারণা রাখতে হবে, এবং প্রতিটি খুঁটিনাটি বিস্তারিত সত্য মনে করা যাবে না), এই বিষয়ে পাঁচ-ছয়-সাতটি ভিন্ন মত থাকা সত্ত্বেও তা নিয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সম্পূর্ণ কুরআন গভীরভাবে বুঝে অনুধাবন করা ও আমলে বাস্তবায়ন করা — অপ্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি নিয়ে সময় নষ্ট করা নয়।

মানুষের স্বভাব: একটিমাত্র নিষেধও পালন করতে ব্যর্থতা

এই ঘটনা থেকে মানবজাতির একটি মৌলিক স্বভাব প্রকাশ পায় — আমাদের আদি পিতা আদম (আঃ)-কে মাত্র একটি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, অথচ সেই একটি নিষেধও তিনি পালন করে থাকতে পারেননি। এটাই মানুষের স্বভাব — এবং এ কারণেই আমাদের জীবনেও অবাধ্যতা ও পদস্খলন ঘটবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হলো তার পরের প্রতিক্রিয়া।

জুলুম শব্দের অর্থ ও ব্যাপকতা

আয়াতে বলা হয়েছে, নিষেধ লঙ্ঘন করলে তারা “জালিমদের” অন্তর্ভুক্ত হবে। আরবীতে “জুলুম” শব্দের অর্থ কোনো কিছুকে যথাস্থানে না রাখা, সীমালঙ্ঘন করা। যেকোনো পাপী এই অর্থে জালিম — কারণ সে নিজেকে আল্লাহর শাস্তির উপযোগী করে তোলে, যা প্রকৃতপক্ষে নিজের প্রতি অন্যায়। এ কারণেই কুরআনে পাপীকে “নাফসি” (নিজের প্রতি জুলুমকারী) বলা হয়েছে।

মুমিনদের তিন শ্রেণি

আল্লাহ কুরআনে (সূরা ফাতির ৩৫:৩২) মুমিন বান্দাদের তিন ভাগে ভাগ করেছেন — যারা নিজের প্রতি জুলুমকারী (জালিমুন লিনাফসিহি — পাপী কিন্তু ঈমানদার), যারা মধ্যপন্থী (মুকতাসিদ — বাধ্যতামূলক বিধান পালনকারী কিন্তু নফল ইবাদতে ঘাটতিসম্পন্ন), এবং যারা ভালো কাজে অগ্রগামী (সাবিকুন বিল খাইরাত — শ্রেষ্ঠ শ্রেণি, যারা ফরজ পালনের পাশাপাশি নফল ইবাদতে অগ্রসর এবং মাকরুহ-সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, পুরো জীবন আখিরাতমুখী)।


৪. আয়াত ৩৬: শয়তানের প্ররোচনা ও জান্নাত থেকে বহিষ্কার

আরবি পাঠ: فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ ۖ وَقُلْنَا اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَىٰ حِينٍ

অনুবাদ: “অতঃপর শয়তান তাদের উভয়কে সেখান থেকে পদস্খলিত করল এবং তারা যে অবস্থায় ছিল সেখান থেকে তাদের বের করে দিল। আর আমরা বললাম, তোমরা নেমে যাও, তোমরা একে অপরের শত্রু। পৃথিবীতে তোমাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবস্থান ও ভোগসামগ্রী রয়েছে।”

ওয়াসওয়াসার মাধ্যমে পদস্খলন

শয়তান আদম ও হাওয়াকে জোর করে বা ধাক্কা দিয়ে বের করেনি, বরং ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) এর মাধ্যমে প্ররোচিত করেছিল — এই বিস্তারিত ঘটনা সূরা আল-আ’রাফ ও সূরা ত্বহায় বর্ণিত হয়েছে। শয়তান শুধু বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করেছিল, কোনো জোরজবরদস্তি করেনি — এটি আমাদের শেখায় যে শয়তানের ক্ষমতা মানুষকে বাধ্য করার নয়, বরং প্ররোচিত করার।

“মাতা'” — ভোগ্যবস্তুর তাৎপর্য

“মাতা'” বলা হয় যা কিছু মানুষ উপভোগ করে বা যা দ্বারা সাময়িকভাবে উপকৃত হয়। পুরো দুনিয়াটাই “মাতাউদ দুনিয়া” — সাময়িক ভোগের উপকরণ। একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীসে এসেছে, “দুনিয়া হলো ভোগের সামগ্রী, আর দুনিয়ার সর্বোত্তম ভোগ্যবস্তু হলো নেককার স্ত্রী” — কারণ নেককার স্ত্রী শুধু দুনিয়াতেই স্বামীকে শান্তি দেয় না, বরং তাকে জান্নাতের পথে চলতেও সাহায্য করে।

“একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত” — আশার বার্তা

“ইলা হীন” (একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত) বলার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট আশ্বাস নিহিত — যদিও আল্লাহ তাদের কর্মের প্রতিফলস্বরূপ পৃথিবীতে নামিয়ে দিলেন, কিন্তু এটি চিরস্থায়ী নয়, এবং শর্ত পূরণ করলে আবার জান্নাতে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে।


৫. আয়াত ৩৭: আদমের তওবা গ্রহণ

আরবি পাঠ: فَتَلَقَّىٰ آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

অনুবাদ: “অতঃপর আদম তার রবের কাছ থেকে কয়েকটি বাক্য গ্রহণ করলেন, ফলে আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করলেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”

কালিমাত — সেই বাক্যগুলো কী?

আদম (আঃ) তার রবের কাছ থেকে “কালিমাত” (কয়েকটি বাক্য) গ্রহণ করলেন — এই বাক্যগুলো ছিল ক্ষমা প্রার্থনার একটি নির্দিষ্ট দোয়া, যা সূরা আল-আ’রাফে (৭:২৩) উল্লেখিত হয়েছে: “রব্বানা জলামনা আনফুসানা, ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তারহামনা, লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন” — “হে আমাদের রব, আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। আর যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন ও দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ব।”

আল্লাহ আদমকে এই বাক্য শিখিয়ে দিলেন, এবং আদম তা গ্রহণ করে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। এখান থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর অনুগ্রহ কত ব্যাপক — গুনাহর পর ধ্বংস করে না দিয়ে তিনি নিজেই ক্ষমা প্রার্থনার ভাষা শিখিয়ে দিলেন।

“ফাতাবা আলাইহি” — কার তওবা, কার প্রতি?

এই আয়াতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণগত ও তাফসীরগত সূক্ষ্মতা রয়েছে। “ফাতাবা আলাইহি” বাক্যাংশে তওবা কার — আদমের, নাকি আল্লাহর? উত্তর হলো — এখানে আল্লাহর তওবার কথা বলা হচ্ছে, আদমের নয়।

আরবী ভাষায় “তাবা” (তওবা করা) শব্দের সাথে যে হরফ (অব্যয়/প্রিপজিশন) ব্যবহৃত হয় তার উপর অর্থ নির্ভর করে:

  • যদি মানুষের তওবার কথা বলা হয়, তখন “ইলা” ব্যবহৃত হয় — যেমন “তুবতু ইলাল্লাহ” (আমি আল্লাহর কাছে তওবা করেছি)।
  • যদি আল্লাহর তওবার কথা বলা হয় (অর্থাৎ তিনি বান্দার প্রতি ফিরে তাকান বা ক্ষমা করেন), তখন “আলা” ব্যবহৃত হয় — যেমন “রব্বি তুব আলাইয়া” (হে আমার রব, আপনি আমার প্রতি ক্ষমাশীল হোন)।

আয়াতে “ফাতাবা আলাইহি” — “আলাইহি” শব্দটি “আলা” + “হি” (তার প্রতি) দিয়ে গঠিত, যা প্রমাণ করে এখানে আল্লাহর তওবার কথাই বলা হচ্ছে।

আল্লাহর দুই ধরনের তওবা

আল্লাহ তাআলার তওবা দুই প্রকার, এবং এর মাঝখানে বান্দার তওবা অবস্থিত:

প্রথম তওবা: আল্লাহ বান্দার দিকে ফিরে আসেন তাকে তওবার তাওফীক দেওয়ার মাধ্যমে — অন্তরে অনুশোচনার বীজ বপন করা, তওবার আগ্রহ সৃষ্টি করা। আমাদের জীবনে অনেক গুনাহ এমন আছে যা দিনের পর দিন করেও আমাদের মনে তওবার চিন্তাই আসেনি, তারপর হঠাৎ একদিন অন্তরে অনুশোচনা জন্ম নিতে শুরু করে — এই ইলহাম আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা প্রথম তওবা।

দ্বিতীয় তওবা: বান্দা যখন তওবা করে, আল্লাহ তা কবুল করে নেন এবং ক্ষমা করে দেন — এটাই দ্বিতীয় তওবা।

আল্লাহর এই দুই তওবার মাঝখানে যদি তিনি আমাদের ঘিরে না রাখতেন, তাহলে আমাদের নিজেদের তওবা করারই সুযোগ হতো না। এটি আল্লাহর অপার অনুগ্রহ।

তওবার পাঁচটি শর্ত

আয়াতের আলোকে তওবার পূর্ণাঙ্গ শর্তগুলো স্মরণ রাখা প্রয়োজন:

এক, অনুতপ্ত হওয়া — অন্তরে প্রকৃত অনুশোচনা থাকা।

দুই, গুনাহ পরিত্যাগ করা — গুনাহ করতে করতে শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়া সম্পূর্ণ তওবা নয়। প্রকৃত তওবার জন্য গুনাহটি ছেড়ে দিতেই হবে।

তিন, ভবিষ্যতে আর না করার দৃঢ় সংকল্প নেওয়া।

চার, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কাফফারা আদায় করা — যেমন রমজান মাসে দিনের বেলা স্বামী-স্ত্রীর মিলনের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ হলে, একজন দাস মুক্ত করা, তা সম্ভব না হলে একটানা দুই চান্দ্র মাস রোজা রাখা, তাও সম্ভব না হলে ৬০ জন মিসকিনকে আহার করানো — এই কাফফারা আদায় করা।

পাঁচ, মানুষের হক নষ্ট হয়ে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া ও ক্ষমা চাওয়া — এটি সবচেয়ে কঠিন শর্ত। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ২০ বছর আগে কারো জমি দখল করে থাকে এবং এখন তওবা করতে চায়, শুধু জমি ফেরত দেওয়াই যথেষ্ট নয় — এই ২০ বছরে ভুক্তভোগী যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে (যেমন সেই জমিতে বাড়ি ভাড়া দিয়ে যে আয় হতে পারত), তারও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, এবং মানসিক কষ্টের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। বাস্তবে এমন পূর্ণাঙ্গ তওবা খুবই বিরল দেখা যায়। আল্লাহর হক ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমেই মাফ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু মানুষের হক কিয়ামতের দিন পর্যন্ত অপরিশোধিত থেকে যায় যদি তা দুনিয়াতে সমাধান না করা হয়। তাই মানুষের হক নষ্ট করার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।

গুনাহর সীমাহীন ক্ষমা

তওবার ক্ষেত্রে আল্লাহ কোনো সংখ্যাগত সীমা নির্ধারণ করে দেননি — বারবার গুনাহ হলেও বারবার তওবা করা যায়, কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার সীমাবদ্ধতা নেই। এটি চিন্তা করলে বোঝা যায়, আল্লাহ যেকোনো মানুষের চেয়ে অতুলনীয়ভাবে বেশি দয়ালু — এবং এই উপলব্ধি থেকেই আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর রহমতের প্রতি আশা জন্ম নেয়।

দুই পথের চূড়ান্ত পার্থক্য

আদম-হাওয়ার প্রতিক্রিয়া ছিল — কোনো অজুহাত না দিয়ে, “এই কারণে করেছি, সেই কারণে করেছি” এই ধরনের কোনো জাস্টিফিকেশন ছাড়াই স্বীকার করা, “এটা আমার দোষ, আমার ভুল, কোনো অজুহাত নেই।” এটাই আদমের পথ। বিপরীতে ইবলিসের পথ হলো নিজেকে জাস্টিফাই করা — “এতে অসুবিধা কী, আমি তো এই কারণে এটা করিনি।” কুরআন অধ্যয়নের প্রকৃত ফায়দা এখানেই — আল্লাহ আমাদের চিনিয়ে দিচ্ছেন, পাপের পর কোন পথ অনুসরণ করতে হবে।


৬. আয়াত ৩৮: পৃথিবীতে অবতরণ ও হেদায়েতের প্রতিশ্রুতি

আরবি পাঠ: قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا ۖ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَن تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

অনুবাদ: “আমরা বললাম, তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়েত আসে, তবে যে আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।”

শর্তসাপেক্ষ আশ্বাস

পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে আল্লাহ একটি বিরাট আশ্বাস দিলেন — হেদায়েত আসবে, এবং যে তা অনুসরণ করবে তার কোনো ভয় বা দুঃখ থাকবে না।

খাওফ ও হুজন — দুই ধরনের বিষণ্নতা

আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, “খাওফ” (ভয়) বলতে বোঝানো হয় ভবিষ্যতের আশঙ্কা, আর “হুজন” (দুঃখ) বলতে বোঝানো হয় অতীতের কোনো বিষয় নিয়ে দুঃখবোধ। এই দুইটিই মানুষের সমস্ত বিষণ্নতার মূল উৎস। হেদায়েত অনুসরণ করলে ভবিষ্যতের ভয় থেকে নিরাপত্তা এবং অতীতের কষ্ট থেকে মুক্তি — উভয়ই লাভ হয়, যা প্রকৃত সাফল্য, নিরাপত্তা ও সুখের সংজ্ঞা।

প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণতি

আরবি পাঠ (আয়াতের শেষাংশ): وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

অনুবাদ: “আর যারা কুফরি করবে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে।”

যারা হেদায়েত প্রত্যাখ্যান করবে ও আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলবে, তারা জাহান্নামের “আসহাব” (সঙ্গী/অধিবাসী) হয়ে যাবে — এবং তারা সেখানে চিরস্থায়ী থাকবে, কখনো বের হবে না।


৭. ব্যবহারিক শিক্ষা

প্রথমত, পাপ হয়ে যাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া কী হবে — এটাই মানুষের প্রকৃত পরীক্ষা। ইবলিসের পথ (জাস্টিফিকেশন ও নিরাশা) নয়, বরং আদমের পথ (অকপট স্বীকারোক্তি, অনুশোচনা ও ক্ষমার আশা) অনুসরণ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, অহংকার একটি অত্যন্ত ভয়ংকর আধ্যাত্মিক ব্যাধি — এটি সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা, এই দুই রূপে প্রকাশ পায়। প্রত্যেকের নিজের অন্তর পরীক্ষা করে দেখা উচিত এই দুই ধরনের অহংকার থেকে সে মুক্ত কিনা।

তৃতীয়ত, আল্লাহর আদেশের সামনে “কেন” প্রশ্ন তুলে নিজস্ব ফিলোসফি দাঁড় করানো ইবলিসী প্রবণতা। প্রকৃত মুমিনের পথ হলো প্রথমে সাবমিট করা, তারপর হিকমত অনুসন্ধান করা।

চতুর্থত, মানুষের হক নষ্ট করার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে — এটি তওবার সবচেয়ে কঠিন শর্ত, এবং আল্লাহর হকের চেয়ে এর সমাধান অনেক জটিল।

পঞ্চমত, হেদায়েত অনুসরণ করলে ভয় ও দুঃখ থেকে মুক্তি — এই প্রতিশ্রুতি আমাদের জন্য এক বিশাল প্রেরণা, যা আমাদের সার্বক্ষণিক আল্লাহর পথে অবিচল রাখা উচিত।


৮. পূর্ণাঙ্গ গ্রামার বিশ্লেষণ

আয়াত ৩৪

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ — “উজ” স্মরণ করানোর জন্য ব্যবহৃত কালবাচক অব্যয়; “কুলনা” (আমরা বললাম) — “কালা”-এর সাথে “না” সর্বনাম যুক্ত হলে “কুলনা” হয়, যা আরবি ভাষার নিয়ম (আল্লাহ যখন সম্মানসূচক বহুবচনে নিজের সম্পর্কে বলেন)।

اسْجُدُوا لِآدَمَ — “উসজুদু” ফে’ল আমর (আদেশসূচক ক্রিয়া), মূল ধাতু “সাজাদা” (সে সেজদা করেছিল) থেকে; ওয়াও যুক্ত হয়ে বহুবচন আদেশ “তোমরা সেজদা করো।” “লি আদামা” — এখানে “লাম” হরফটি আদমের উদ্দেশ্যে সেজদা করা বোঝাচ্ছে (আল্লাহর জন্য হলে বলা হতো “উসজুদু লিল্লাহ”)।

فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ — “ফা” এখানে “তা’কিব” (তাৎক্ষণিকতা) বোঝাচ্ছে — অর্থাৎ আদেশের সাথে সাথে তারা সেজদা করল। “ইল্লা” ব্যতিক্রমসূচক অব্যয়।

أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ — “আবা” (সে অস্বীকার করল) ও “ইস্তাকবারা” (সে অহংকার করল) উভয়ই ফে’ল মাদি (অতীত ক্রিয়া)।

وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ — “কানা” নাকিসাহ ক্রিয়া (অসম্পূর্ণ ক্রিয়া, যা ইসম ও খবর গ্রহণ করে); “মিনাল কাফিরিন” এখানে “মিন” অন্তর্ভুক্তি (বায়ানুল জিনস) অর্থে ব্যবহৃত।

আয়াত ৩৫

وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ — “উসকুন” ফে’ল আমর, মূল ধাতু “সাকানা” (বসবাস করা) থেকে; একবচন আদেশ, “তুমি বসবাস করো।”

أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ — “আনতা” (তুমি) ও “জাওজুকা” (তোমার স্ত্রী) একত্রে “উসকুন”-এর ফায়িল (কর্তা)। “আল-জান্নাতা” মাফউল ফিহি (স্থানবাচক কর্মপদ), মানসুব অবস্থায়।

وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا — “কুলা” — “কুল” (তুমি খাও, একবচন) এর সাথে আলিফ যুক্ত হলে দ্বিবচন “কুলা” (তোমরা দুজনে খাও) হয়। আরবিতে একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন — তিন ধরনের রূপ রয়েছে; আলিফ দ্বিবচন, ওয়াও বহুবচন নির্দেশ করে। “রাগাদান” হাল (অবস্থাবাচক), মানসুব।

حَيْثُ شِئْتُمَا — “হাইসু” স্থানবাচক ইসম। “শি’তুমা” — “শা’আ” (ইচ্ছা করা) ক্রিয়ার সাথে দ্বিবচন কর্তৃবাচক সর্বনাম “তুমা” যুক্ত।

وَلَا تَقْرَبَا هَٰذِهِ الشَّجَرَةَ — “লা তাকরাবা” — মূল রূপ ছিল “তাকরাবানি” (তোমরা দুজনে নিকটবর্তী হবে), কিন্তু “লা নাহিয়া” (নিষেধসূচক লা) যুক্ত হলে চূড়ান্ত নুন পড়ে গিয়ে “লা তাকরাবা” হয়ে যায় — তোমরা দুজনে নিকটবর্তী হয়ো না।

فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ — এই “ফা” সাবাবিয়া (কারণবাচক) — নিষেধের ফলাফল বোঝাচ্ছে। “তাকুনা” — মূল রূপ “তাকুনানি” ছিল, কিন্তু ফা সাবাবিয়ার পর নুন পড়ে যায়, ফলে “তাকুনা” হয়।

আয়াত ৩৬

فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا — “আজাল্লা” (পদস্খলন ঘটানো) সিগাহে ইফআল ক্রিয়া, “হুমা” (তাদের দুজনকে) মাফউল বিহ। “আনহা” — “আন” হরফটি বিচ্ছিন্নতা/দূরীকরণের অর্থ প্রকাশ করছে (জান্নাত থেকে সরিয়ে দেওয়া)।

فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ — “ফা” এখানে তাফসীলি (ব্যাখ্যামূলক) — পদস্খলনের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করছে। “আখরাজা” (বের করল) সিগাহে ইফআল। “মিম্মা” = “মিন” + “মা” (যা কিছু থেকে)। “কানা ফিহি” — “কানা” এর সাথে দ্বিবচন আলিফ যুক্ত না হলেও প্রসঙ্গ অনুযায়ী উভয়কে বোঝাচ্ছে।

وَقُلْنَا اهْبِطُوا — “ইহবিতু” ফে’ল আমর বহুবচন, মূল ধাতু “হাবাতা” (নেমে যাওয়া) থেকে।

بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ — “বা’দুকুম” (তোমাদের একাংশ), “লিবা’দিন” (আরেক অংশের জন্য) — “লাম” হরফ শত্রুতার সম্বন্ধ বোঝাতে ব্যবহৃত।

وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَىٰ حِينٍ — “মুস্তাকাররুন” ও “মাতাউন” উভয়ই মুবতাদা (বিলম্বিত), “লাকুম” খবর (আগানো)। “ইলা হীনিন” — নির্দিষ্ট সময়সীমা বোঝানো হচ্ছে।

আয়াত ৩৭

فَتَلَقَّىٰ آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ — “তালাক্কা” (গ্রহণ করা) সিগাহে তাফাউল, “আদামু” ফায়িল, “কালিমাতিন” মাফউল বিহ (নাকিরাহ/অনির্দিষ্ট, বহুবচন “কালিমাহ”-এর)।

فَتَابَ عَلَيْهِ — “তাবা” ফে’ল মাদি; “আলাইহি” = “আলা” + “হি” — “আলা” হরফের ব্যবহার প্রমাণ করে এখানে আল্লাহর তওবা (বান্দার প্রতি ক্ষমাপ্রদর্শন) বোঝানো হচ্ছে, বান্দার তওবা নয় (বান্দার তওবার ক্ষেত্রে “ইলা” ব্যবহৃত হতো)।

إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ — “হুওয়া” অতিরিক্ত দমির (সর্বনাম), যা বাক্যের অর্থকে জোরদার করছে (তাওকীদ)। “তাওয়াব” সিগাহে মুবালাগাহ (অতিশয়োক্তিবাচক রূপ, বারবার ক্ষমাকারী), “রাহীম” সিগাহে মুবালাগাহ (পরম দয়ালু)।

আয়াত ৩৮

قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا — “জামিয়ান” হাল (অবস্থাবাচক), মানসুব — “তোমরা সকলে” একসাথে নেমে যাওয়া বোঝাচ্ছে।

فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى — “ফা” বাক্য-সূচনার ফা (ফা ইনাফিয়াহ)। “ইম্মা” = “ইন” (শর্তসূচক) + অতিরিক্ত “মা” (শর্ত-ফলাফল সম্পর্ক জোরদার করতে)। “ইয়াতিয়ান্নাকুম” — মূল ক্রিয়া “ইয়াতি” (সে আসে), তার সাথে “নুন তাওকীদ ছাকিলাহ” (জোরদানকারী নুন) যুক্ত হয়ে “ইয়াতিয়ান্না” হয়েছে। “মিন্নি” = “মিন” + “ই” (ইয়া যুক্ত হলে “আমার কাছ থেকে”)।

فَمَن تَبِعَ هُدَايَ — “মান” ইসমে শর্ত (শর্তসূচক সর্বনাম)। “তাবিয়া” (সে অনুসরণ করল) ফে’ল মাদি, শর্তের ক্রিয়া। “হুদায়া” = “হুদা” + “ইয়া” (আমার হেদায়েত)।

فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ — এই “ফা” জাওয়াবুশ শর্ত (শর্তের ফলাফল)। “লা খাওফুন” — “লা” নাফিয়াতুল জিনস (জাতিগত নেতিবাচক), সম্পূর্ণ ভয়ের অনুপস্থিতি বোঝাচ্ছে। “ইয়াহজানুনা” মুদারি ক্রিয়া বহুবচন, “লা” দ্বারা নেতিবাচক।

وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا — “কাজ্জাবু” সিগাহে তাফঈল (দ্বিতীয় বাব, জোরালো অস্বীকার), “বি আয়াতিনা” — “বা” হরফ ক্রিয়ার কর্ম নির্দেশ করছে।

أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ — “উলাইকা” দূরত্ববাচক ইঙ্গিতসূচক সর্বনাম, বহুবচন। “আসহাবু” শব্দটি “সাহিব”-এর বহুবচন। “খালিদুনা” ইসমে ফায়িলের বহুবচন রূপ, চিরস্থায়িত্ব বোঝাচ্ছে।


উপসংহার

আয়াত ৩৪-৩৮-এর এই আলোচনা আমাদের সামনে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত পথ তুলে ধরে — ইবলিসের পথ, যা অহংকার, আত্ম-জাস্টিফিকেশন ও নিরাশার পথ; আর আদম (আঃ)-এর পথ, যা অকপট স্বীকারোক্তি, অনুশোচনা ও আল্লাহর রহমতের প্রতি আশার পথ। আমাদের জীবনে পাপ হবেই — এটাই মানুষের স্বভাব। কিন্তু পাপের পর আমরা কোন পথ বেছে নিই, তার উপরই নির্ভর করে আমাদের চূড়ান্ত পরিণতি।

আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের ইবলিসের পথ থেকে হেফাজত করেন এবং আদম (আঃ)-এর মতো অকপট তওবার তাওফীক দান করেন — “রব্বানা জলামনা আনফুসানা, ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তারহামনা, লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।” আমীন।

 

……………………………………………………………………………………

আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ও সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আলা নবীনা মুহাম্মাদ ওয়ালা আলিহি ওয়াসাহবিহি আজমা আলহামদুলিল্লাহ আমরা তাফসীরের আলোচনার যাত্রায় আদম আলাইহিস সালাম অর্থাৎ প্রথম মানুষ তার সৃষ্টি সম্পর্কে কিছুটা আলোচনা করেছিলাম গতদিন এই আলোচনার ধারাবাহিকতায় আজকে আমাদের সামনে যে আয়াতগুলো আছে সেখানে আদম আলাইহিস সালাম এবং তার সন্তান অর্থাৎ মানবজাতির যে সবচেয়ে বড় শত্রু সেই শত্রুর সাথে আমাদেরকে প্রথমবারের মতো পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এবং এই যে শত্রু আমাদের ইবলিশ এই ইবলিশের একটা পাপের কারণে এই শত্রুতা শুরু।

ইবলিশের একটা পাপ এবং আদম আলাইহিস সালাম কর্তৃক আদম এবং হাওয়া আলাইহিস সালাম তাদের দ্বারা আল্লাহ সুবহানা তাআলার একটা আদেশ লঙ্গিত হওয়া এই ঘটনার সূত্র ধরেই এই পৃথিবীর জীবনে যে যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে আমরা বর্তমানে আছি সেই যুদ্ধের সূচনা এবং এই যুদ্ধের পরিণতি জান্নাত অথবা জাহান্নামে গিয়ে শেষ হবে। এ যুদ্ধের বিষয়বস্তু খুব পরিষ্কার। পৃথিবীতে মাত্র দুইটা দল পৃথিবীর বুকে দুইটা জাতি বসবাস করছে। মানবজাতি এবং জিন জাতি। আর এই মানবজাতি এবং জিন জাতির মধ্যে দুইটা দল। আল্লাহর দল এবং ইবলিশের দল। ইবলিশের একমাত্র লক্ষ্য ইবলিশ এবং তার

বাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে যত বেশি সংখ্যক মানুষকে এবং জিনকে সে জাহান্নামী করতে পারে সেটাই সে চেষ্টা করবে এবং এর জন্য সে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে এটাই তার একমাত্র মিশন। এই ঘটনা যে ঘটনা আজকে আমরা আলোচনা করতেছি সে ঘটনা থেকে আমাদের খুব ভালো করে এই ঘটনায় খেয়াল করতে হবে যে ইবলিশের যে পাপ সেটা কি ছিল সেটা কি ধরনের এবং পাপের পরে তার রিয়েকশন কি ছিল এটা খুব লক্ষণীয় বিষয় এবং সেই সাথে খেয়াল করতে হবে আদম আলাইহিস সালাম এবং হাওয়া আলাইহিস সালাম তারা দুজনে যে অবাধ্যতা করেছিলেন সেটার প্রকৃতিটা কেমন ছিল এবং এরপর তাদের রিএকশনটা কেমন ছিল?

ইবলিশের পাপটা কি ধরনের ছিল এবং পাপের পরে ইবলিশের রিএকশন কি ছিল এটা যেমন খেয়াল করতে আমাদেরকে। দ্বিতীয়ত যে বিষয়টা এখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে আদম আলাইহিস সালামের যে অবাধ্যতা সেটা কি ধরনের ছিল এবং তার রিএকশনটা কি ধরনের ছিল যেন এটা বুঝতে হবে আমাদেরকে কেন যেন আমাদের দ্বারা যখন আল্লাহর অবাধ্যতা সংঘটিত হয় এবং এটা হয়েই থাকে আমাদের মধ্যে এমন কেউ নাই যে আল্লাহর অবাধ্য হয়নি অথবা হয় না অথবা হবে না। আমাদের দুর্বলতার কারণে আমরা আল্লাহর অবাধ্যতা করেই ফেলবো। এই সময় যেন আমাদের প্রতিক্রিয়া প্রথমত আমাদের পাপটা যেন

ইবলিশের পাপের ক্যাটাগরিতে কোনভাবেই না যায়। দুই নম্বর যেই ক্যাটাগরির পাপই আমরা করে থাকি না কেন রিএকশনের ক্ষেত্রে কোনমতেই যেন আমরা ইবলিশের রিএকশনের দিকে না যাই। কারণ ইবলিশের রিএকশনের রুট তার নামের মধ্যেই রয়েছে। ইবলিশ যে নামটা এই নামটা এসেছে আবলাসা থেকে যার মানে হচ্ছে হতাশ হয়ে যাওয়া। নিরাশ হয়ে যাওয়া। কাজেই একটা জিনিস মনে রাখবেন হতাশা এবং নিরাশার উপর ভিত্তি করে যত রকমের রিএকশন পৃথিবীতে এইসব হচ্ছে ইবলিশের রিএকশনের ক্যাটাগরির জিনিস এবং এর মধ্যে দিয়ে কোনদিন কল্যাণ আসে না। এই বিষয়টা আমরা দেখবো এবং আদম আলাইহিস

সালামের রিয়েকশনটা হচ্ছে ভিন্ন ক্যাটাগরির। আদম আলাইহি সালাম রিয়াকশন এর মধ্যে যেমন অনুশোচনা আছে সেই সাথে আশা আছে। অনুশোচনা এবং আশা এই দুইটার চমৎকার মিশ্রণ। ইবলিশের হচ্ছে নিজেকে জাস্টিফাই করা এবং নিরাশা। নিজেকে আমি জাস্টিফাইড এবং তারপর নিরাশা। আদম আলাইহিস সালাম না আমি দোষ করেছি অনুতপ্ত এবং তারপরে আশা ক্ষমার আশা। এর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এবং এই গুনাহ এবং গুনাহ থেকে যে রিএকশন এর মূল তত্ত্বটা যদি আমরা বুঝতে না পারি তাহলে পৃথিবী জীবনের এই পরীক্ষায় আমরা ব্যর্থ হব। আদম আলাইহি সালামের সৃষ্টির ঘটনা

বর্ণনা করার পরে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেই ঘটনায় চলে গেলেন যখন আল্লাহ সুবহানাতালা আদেশ দিলেন ফেরেশতাদেরকে এবং ইবলিশকে যে তোমরা আদমের উদ্দেশ্যে সেজদা করো তখন কি হলো? আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিমুল মালাইকাতি স্মরণ করুন হে নবী যখন কুলনা আমরা বললাম আল্লাহ সুবহানাতালা যখন অথরিটি নিয়ে কিছু বলেন আরবি ভাষার রীতি অনুযায়ী সেখানে সর্বনামটা প্লুরাল সর্বনাম ব্যবহার করা হয় যেমন কুলনা আমরা বললাম কিন্তু অনুবাদে বাংলা যেহেতুটা নাই আমরা অনেক সময় অনুবাদে আমরা না বলে আমি বলি অনুবাদে এভাবে লিখি কারণ যেহেতু বাংলা

ভাষায় এই প্রয়োগটা নাই অনেকের কনফ প্রশ্ন হতে পারে এটা আরবিতে আছে ইংরেজিতে আছে বিভিন্ন ভাষায় আছেলমালাইকা স্মরণ করুন যখন ফেরেশতার উদ্দেশ্যে বললাম আদমকে তোমরা সেজদা করো আদমের উদ্দেশ্যে তোমরা সেজদা করো এখানে ফা দিয়ে বোঝাচ্ছে যে তাৎক্ষণিকভাবে তারা সেজদা করল ফেরেশতারা তারা আল্লাহর অবাধ্য হয় না তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেজদা করল ইল্লা ইবলিশ ব্যতিক্রম ছিল ইবলিশ একথা স্পষ্ট যে আল্লাহ সুবহানাতালা ইবলিশকে ইবলিশকেও সেজদার আদেশ দিয়েছিলেন এতে কোন সন্দেহ নাই আল কোরআনে বিভিন্ন জায়গায় আদম আলাইহিস সালাম এবং ইবলিশের এই যে ঘটনা এটা বিভিন্ন

জায়গায় বর্ণিত হয়েছে সবগুলো যদি একসাথে আপনারা স্টাডি করেন যে কেউ স্টাডি করে তাহলে ঘটনা খুব পরিষ্কার হয়ে যাবে। এজন্য অন্য আয়াতে সূরা আরাফের আয়াতে আল্লাহ আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন সেজদা করতে কিসে তোমাকে বাধা দিল? কাজেই ইবলিশ যে আদেশ পেয়েছে এতে কোন সন্দেহ নাই। ইবলিশও জবাবে কি বলেছে? সূরা আরাফের কথা বলছে। সূরা আরাফে কি বলেছে? কেন সেজদা করিনি? আমি আপনার আদেশ পাই নাই না এ কথা ইবলিশ বলে নাইন কারণ আমি তার চেয়ে বেটার আমাকে আগুন থেকে আর তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন আল্লাহর আদেশকে অমান্য করার জন্য ইবলিশ ফিলোসফি নিয়ে এসে

যেটা আমরা প্রায়ই করে থাকি আমাদের অনেকের সামনে আল্লাহর আদেশ আল্লাহর রাসূলের আদেশ আসে তখন এটা কেন নিষেধ হবে কারণ এটা তো এরকম আমাদের কাছে ফিলোসফি নিয়ে আসি আমরা হ্যাঁ পর্দা কেন করতে হবে অসুবিধা কি আমি শালীন পোশাক পব আমাকে কেন চুল ঢাকতে হবে ফিলোসফি ঠিক ইবলিশ যেরকম বলল যখরুমিনহু আমি তার চেয়ে বেটার আপনার আদেশটা আমার কাছে বোধগম্য না আমি তার চেয়ে বেটার হওয়া সত্ত্বেও আমি তাকে কেন সেজদা করব এইটা হচ্ছে সমস্ত বিভ্রান্তির মূল জায়গা আমাদেরকে সাবমিট করতে হবে এজন্য আমাদের ধর্মের নাম হচ্ছে ইসলাম ইসলাম মানে বলা হয়

শান্তি ইসলামের শান্তি না ইসলাম মানে আত্মসমর্পণ করা হ্যাঁ ইসলাম গ্রহণ করলে কেউ শান্তি কথা কিন্তু ইসলাম শব্দের মূল স্পিরিটটা শান্তি না ইসলামের মূল স্পিরিটটা হচ্ছে আত্মসমর্পণ এটা হচ্ছে ইসলামের মূল কথা আল্লাহ আল্লাহ রাসূের আদেশ আমার সামনে আসবে এটা কেন না এটা কেন এই প্রশ্ন করব না আমি আলহামদুলিল্লাহ নবী রাসূরা কি বলে শুনলাম মেনে নিলাম আমরা এটা আল্লাহর আদেশটা মেনে নিব শেষ এরপর আমি মেনে নিয়েছি তারপরে আমার মনের আরেকটু বাড়তি প্রশান্তির জন্য আমি যদি খুঁজতে যাই আমার ঈমান আরো বাড়বে সুদ অসুবিধা কি আমি তো ব্যাংকে টাকা রাখলাম

ব্যাংকে ব্যাংক তো এটা ব্যবসাতেই খাটাবে সে ব্যবসায় যেমন লাভ দেয় সেখান থেকে আমাকে লাভ দিচ্ছে অসুবিধা কি যেই মুহূর্তে রিটার্ন গ্যারান্টিড হয়ে গেল এটা সুদ হয়ে গেল আপনি এটাকে যেভাবেই নাম দেন এখন এটা আধুনিক নাম দেন ইন্টারেস্ট এটা ব্যবসা করে প্রফিট যেভাবে নাম দেন গ্যারান্টি যে তুমি আমাকে কে 1000 টাকা দিলে তুমি প্রতিবছরে 7 টাকা করে তুমি আমার কাছ থেকে পাবা আমার লাভ হোক লস হোক সেটা আমি দেখতে দেখতে হবে না 7 টাকা পাবাই তুমি গ্যারান্টিড এটা সুদ হয়ে যাবে মুসলিমের কাজ ওই ওখানে ফিলোসফি নিয়ে আসা না যে না অসুবিধা কি এখানে তো এই হচ্ছে

সেই হচ্ছে না অসুবিধা হচ্ছে এটাই যে আল্লাহ আল্লাহ রাসূল নিষেধ করে বাস আমার বেশি পান্ডিত দেখানোর কোন প্রয়োজন এখানে নাই। এরপর আপনি যদি খোঁজ করেন গিয়ে সাবমিট করার পর এটা হচ্ছে ইসলাম। সাবমিট করার পর আপনি গিয়ে খোঁজ করেন যে সুদের কুফল এখন কি দেখা যাচ্ছে আপনার মনে কমপ্লিট প্রশান্তি চলে আসবে। আপনি পুরোপুরি বুঝতে পারবেন যে সুদের বিষয়টা যে কত জঘন্য একটা বিষয় এবং কিভাবে এটা মানবজাতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, অন্ধ করে দিচ্ছে। মানবজাতিকে কিভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে দরিদ্রকে আরো দরিদ্র বানাচ্ছে কিভাবে জুলুম হচ্ছে এর মাধ্যমে আপনি

ভাবছেন যে ওরা তো ব্যবসা করে আমাকে টাকা দিচ্ছে আচ্ছা ফিক্সড হলে অসুবিধা কি এজন্য মনে রাখতে হবে তার মানে যে কথা থেকে এত কথায় আসলাম সেটা হলো ইবলিশ আদেশ পেয়েছিল কারণ আপনাদের মনে কনফিউশন জাগতে পারে যে আল্লাহ তো ফেরেশতাদেরকে আদেশ দিয়েছিলেন তাহলে ইবলিশ কেন সাজদা করবে? ইবলিশ তো জিন না। ইবলিশও আদেশ পেয়েছে। হয় ফেরেশতাদের সাথে থাকার কারণে ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে সেও আদেশ পেয়েছে অথবা আলাদা করে আদেশ পেয়েছে। যেটা অন্য আয়াত থেকে স্পষ্ট। আমি তোমাকে আদেশ করেছি। তুমি কেন করলে না? ইবলিশ বলে না যে আপনি আমাকে আদেশ করে না।

ইবলিশ বলছে না আমি সেজদা করি না অন্য কারণে। সেটা হচ্ছে আমি তার চেয়ে বেটার। আমার ফিলোসফি হচ্ছে যে আগুন দিয়ে আমি তৈরি। আগুন মাটির চেয়ে বেটার। কাজেই আমি তাকে কেন সেজদা করব আবাস এইজন্য সে আবা অস্বীকার করেছে সেজদা করতে ওস্তাকবারা অহংকার করেছে এটাই অহংকার অহংকার খুব ভয়ের জিনিস অহংকার খুব ভয়ঙ্কর জিনিস অবাধ্যতার সাথে যদি অহংকার মিশ্রিত থাকে তাহলে সেটা হচ্ছে কুফরি হতে পারে একজন আল্লাহর একটা আদেশ মাত্র অমান্য করেছি কিন্তু অহংকারের কারণে। যে আল্লাহর এই আদেশ পালন করতে আমার যে শ্রেষ্ঠত্ববোধ সেখানে বাধছে।

আমি কেন এটা করব? অহংকারটা বুঝতে হবে। খুব ভালো করে বুঝতে হবে। একটা হচ্ছে, শাহাওয়াতের কারণে। লোভে পড়ে একটা লোক 1 হাজারটা গুনাহ, 1 লক্ষ গুনাহ বারবার গুনাহ করলেও তার ক্ষমার আশা আছে। লোভের তাড়নায়, প্রবৃত্তির তাড়নায়। লোভ লালসার শিকার হয়ে কামনা বাসনার শিকার হয়ে আলস্যের কারণে আরেকটা হচ্ছে অহংকার আমি এটা কেন করব আমি তো এই আদেশ তো আমাকে দেওয়া ঠিক না আমি তো এটার চেয়ে বেটার কিছু এটা হচ্ছে ইস্তেগফার এটা হচ্ছে কিম লায়াদখুলু আল জান্নাতামান কানাফি কালবিহ মিসারতিমিন কিব যার অন্তরে খুব ভালো করে খেয়াল করেন ভাইয়েরা আমার

খুবই বিপদের কথা খুব ভারী কথা খুব কঠিন কথা যার অন্তরে সামান্য একটা ছোট পিপড়ার সমান অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না খুব বেশি পরিমাণ বলা হয়েছে না তখন জিজ্ঞেস করা হলো যে একজন মানুষ সে তার পোশাক আশাক জুতা সুন্দর হওয়াকে পছন্দ করে এটা কি অহংকার রাস না আল্লাহ আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম অহংকারের সংজ্ঞা দিয়ে দিয়েছেন দুইটা জিনিস এবার একটু মিলিয়ে দেখি আমরা এই দুইটা জিনিস থেকে আমাদের অন্তর টোটালি মুক্ত হতে হবে যদি আমরা জান্নাতে যেতে চাই খুব কঠিন হাদিসখুব কঠিন হাদিস। এক নম্বর হচ্ছে বাতল হাক। এটা হচ্ছে সত্যের উপর

সীমালঙ্ঘন করা। অর্থাৎ অহংকার বসত সত্যকে মানতে না চাওয়া। আমার সামনে সত্য আসলো কিন্তু সেটাকে অহংকার বসত গ্রহণ করতে না চাওয়া। এটা হচ্ছে কিবর। ওগামতুনাস হচ্ছে মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল করা। কখনো কোন মানুষকে যদি আমি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখতে পাই তার উপরে এবং তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করি কোন একটা মানুষকে তাহলে এটা এক ধরনের কিব সত্যের সামনে বিনীত না হওয়া সত্যের সামনে বিনীত না হওয়া কোরআন হাদিসের দলিল আমার কাছে প্রমাণিত নিশ্চিত কিন্তু আমি বিনীত হলাম বললাম না সেটা যদি একটা আদেশের ক্ষেত্রেও হয় যখন আমি নিশ্চিত কিন্তু আমি এর সামনে বিনীত হলাম না দুই

নম্বর আমি যদি কোন একটা মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করি এতেকার করি তাকে ছোট মনে করি সে হতে পারে আমার আমার বাসার কর্মী সে হতে হবে আমার গাড়ির চালক সে হতে হবে আমার বাসার প্রহরী যেকোন একটা মানুষ আপনি একটু নিজের আপনি নিজের অবস্থায় চিন্তা করে দেখেন একটু আপ আমি আপনি আমাদের অবস্থা আমরা মনে করেন যে আল্লাহ আমাদের যাদেরকে সামর্থ্য দিয়েছে আমরা খুব পুরিপাটি হয়ে ধরা যাক একটা অফিসে গিয়ে বসেছি একটা দামি সোফার উপর বসে আছি এখন যদি একজন আপনার একজন মিস স্ত্রী সেখানে ঢুকে পড়েছে লুঙ্গি পড়ে এসে আমার পাশে সে বসে পড়ল আমি খুব পরিপাটি সুটটাই ওয়েল ড্রেসড

একটা দামি অফিসের সোফায় বসে আছি সেখানে একটা মিস্ত্রী লুঙ্গি পড়ে এসে সে তার পোশাক হচ্ছে লুঙ্গি শার্ট তার শরীর হয়তো ঘর মাগত কারণ সে সারাদিন কাজ করে সে এসে আমার পাশে বসে পড়ল আমার প্রতিক্রিয়া কি হবে? আমি কি স্বচ্ছন্দবোধ করব? যে আলহামদুলিল্লাহ কোন অসুবিধা নাই। আমার মুসলিম ভাই আমার পাশে বসেছে। আমি তাকে একটু জায়গা করে দিলাম যে ভাই আরাম করে বসেন। আপনি একটু আমি একটা একটা কেস বলছি। আমি একটা কেস বলছি যে আমরা আমরা প্রত্যেকে আমাদের বিভিন্ন অবস্থাগুলি মিলিয়ে দেখতে হবে। যে আমাদের মধ্যে আমরা মানুষকে কতটুকু

মানে কাকে আসলে তুচ্ছতা ছিল করি কে? নালে আপনারা বলবেন যে না আমি কাউকে তুচ্ছতা শুরু করি না আমি সবাইকে সমানভাবে সম্মান করি সবাই আমার কাছে সমান আপনি বুঝতে পারবেন আপনার অবস্থাটা আমি বুঝতে পারতো যদি এই সিচুয়েশন গুলোতে নিজেকে প্লেস করি কাল্পনিক সিচুয়েশন কারণ কোন মিস্ত্রীর সাহসই হবে না এসে ঢুকে ওই অফিসের মধ্যে সোফায় আমার পাশে বসার মানুষ তাকে ধমক দিয়ে ওখানে ঢুকতেই দিবে না তাকে মানে ওটা তো অহংকারের আরো উঁচু লেভেল তাকে ঢুকতেই দিবে না কিন্তু ধরেন ঢুকে পড়ছে এবং এসে আপনার পাশে বসে গেছে আপনি এখন কি করবেন?

আপনার মনের অবস্থাটা কি? এটা যদি আপনি চিন্তা করে দেখেন তাহলে আমি মনে করি আমাদের মধ্যে যদি ঈমান থাকে তাহলে আমাদের মধ্যে ভয় ঢুকবে। কিবর যদি এটাই হয় এটা যদি এক ধরনের কিবর হয় তাহলে আমাদের সবাই আমরা সবাই আমাদের অন্তরকে এ থেকে পরিচ্ছন্ন করতে। সবার অন্তরে এটা কম বেশি আছে। কাউকে না কাউকে আমরা কোন কারণে শিক্ষার কারণে হতে পারে। চেহারার কারণে হতে পারে আমার পেশার কারণে হতে পারে আমি কাউকে না কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে থাকি আমার অন্তরের মধ্যে এটা আছে হয়তো প্রকাশ পাচ্ছে না প্রকাশ পাওয়ার সুযোগ হচ্ছে না এজন্য

কিন্তু এটা আমার অন্তরের মধ্যে আছে বিভিন্ন সিচুয়েশনে কিন্তু এটা বের হয়ে আসে কিবোর্ড নিয়ে কথা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে যদি আমরা বলতে চাই কিন্তু একটু হিন্ট দিলাম এটা আমাদেরকে ভাবতে হবে তাইলে ইবলিশ প্রথম যে অপরাধটা ছিল খেয়াল করেন সে অহংকার বসত আল্লাহর আদেশের সামনে বিনত অথবা বিনীত হতে অস্বীকার করেছে একটা আদেশ আর এইজন্য ফলাফল কি ছিল ওয়াকানা মিনাল কাফেরিন সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো কেউ কেউ বলেছেন এখানে কানা কানার বিভিন্ন অর্থ হয় আপনারা যেমন জানেন যে কানা অর্থ হচ্ছে ছিল এখানে কেউ কেউ বলছেন কানা অর্থ ছিল মানে

আল্লাহর জ্ঞানে সে আগে থেকেই কাফের মতভুক্ত ছিল। এটা একটা ব্যাখ্যা। আরেকটা ব্যাখ্যা কেউ বলছে না। এখানে কানা হচ্ছে সারা অর্থে ইবনু কাফির মতটার কথা উল্লেখ করেছেন এবং অন্যান্য আলেমদের কিছু বক্তব্য থেকে এই মতটার পক্ষে দলিল পাওয়া যায়। সমর্থন পাওয়া যায়। ওকানা মিনাল কাফেরিন সে কাফেরভুক্ত হলো। এইজন্য আবারো বলছি ইবলিশের অবস্থাটা কি? ইবলিশের অবস্থা হচ্ছে আল্লাহর আদেশের আদেশ স্পষ্ট হওয়ার পরেও শ্রেষ্ঠত্ব বোধের কারণে সে আল্লাহর আদেশ মানতে অস্বীকার করেছে। এটি হচ্ছে অহংকার ইস্তেকবার অথবা কিবর আবা অস্বীকার করেছে

ওস্তাকবার এবং অহংকার করেছে। এটি অহংকার এবং এজন্য সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এবং তারপর সে তার অহংকার এতই সাংঘাতিক যে সে আর তওবা করার কোন সুযোগ খুঁজে নাই ক্ষমার কোন সুযোগ খুঁজে নাই আচ্ছা আমার একটা অপরাধ করে ফেলেছি খুব সাংঘাতিক একটা অপরাধ হয়ে গেছে আমি কিভাবে ক্ষমা পেতে পারি এই জায়গায় আদম আলাইহিস সালামের সাথে ইবলিশের পার্থক্য আকাশ পাতার পার্থক্য এই সেজদাটা সম্মানসূচক সেজদা ইবাদতের সেজদা নয় ডেফিনেটলি এটা আল্লাহর আদেশে এই এই যে সেজদা এটা আল্লাহর আনুগত্য এটা আল্লাহর ইবাদত আর আদম আলাই সালামের প্রতি সম্মান

প্রদর্শন আদম আলাই সালামের ইবাদত না কাজেই এটা নিয়ে কনফিউশন করার কারণ নাই পূর্ববর্তী নবীদের শরীয়তে কোন ব্যক্তিকে সম্মান উদ্দেশ্যে সেজদা করা বৈধ ছিল এমনকি এই সেজদার বৈধতা পূর্ববর্তী নবীদের শরীতে ইউসুফ আলাই সালামের ঘটনা আপনারা পড়েছেন যে তার মা-বাবা এবং ভাইয়েরা তার উদ্দেশ্যে সেজদা করলেন। এটা ছিল কি? সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সেজদা। কিন্তু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের শরীয়তে এটাকে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। তাই বর্তমানে এমনকি সম্মানের সেজদাও কারো জন্য বৈধ নয়। কাউকে করা যাবে না। ইবলিশ নামের অর্থ আমরা বলেছি যে ইবলিশের

পরে কি ইবলিশ নিরাশ হয়ে গিয়েছে? ইবলিশের ইবলিশ আর কোন ক্ষমার আশা করেনি ক্ষমা চায়নি। এ জিনিসটা আমরা বলেছি। এরপরের ঘটনা কি? ওয়াকুলনা ইয়া আদামুসুন জান্না। আমরা বললাম হে আদম তুমি আর তোমার স্ত্রী তোমরা জান্নাতে বসবাস করো। ওয়াখুলা মিনহাদান হাইসুমা ওয়াখুলা তোমরা দুইজনে খাও মিনহা সেখান থেকে জান্নাত থেকে খাও রাগান শব্দের দুইটা অর্থ আছে একটা হচ্ছে বিনা কষ্টে আরাম করে আরেকটা হচ্ছে প্রাচর্যের অর্থ কাজেই এজন্য আমরা অনুবাদ করেছি আরাম করে যত খুশি খাও অর্থাৎ একদিকে যেমন খেতে গিয়ে কোন কষ্ট করতে হবে না আরেকদিকে

এই রিজিক অফুরন্ত শব্দের অর্থ কুলামিনহাদান যত খুশি খাও আরাম করে খাও হাইসু বলতে স্থানকে বুঝায় অর্থাৎ যেখান থেকে জান্নাতের যেখান থেকে খুশি খাওমা যেখান থেকে তোমরা দুজনে চাও সেখান থেকে খেতে পারো ওয়ালাতাকরাবা কিন্তু একটা নিষেধাজ্ঞা ছিল ওয়ালাতাবাজারা এই গাছটির কাছেও যেও না অর্থাৎ এই গাছের ফল খাবে না। আল্লাহ সুবহাতালা যখন নিষেধ করেন তখন যা কিছু ওই হারামের দিকে নিয়ে যায় সবটাকে নিষেধ করে দেন। কাজেই যেই গাছের ফলটা খাওয়া নিষেধ সেই গাছের আশেপাশে ঘুরাঘুরি করার দরকার নাই। এই গাছের কাছেও যেও না। লাতাকরাবুজিনা

ব্যভিচারের কাছেও যেও না। কাজেই দৃষ্টিকে অবনত রাখো যেন ব্যভিচারের আগ্রহ তৈরি না হয়। এমন কিছু করো না যাতে ব্যভিচারের আগ্রহ তৈরি হবে। একইভাবে এই গাছের কাছেও যেও না। যদি যাও ফাতাকুনামিনাজালিমিন। যদি যাও তাহলে তোমরা জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। সাজারা এটা কোন গাছ ছিল এটা নিয়ে আমি আলোচনা করবো না কোন এটা প্রয়োজন নাই আমাদের জানার হাদিসে সহী হাদিসে স্পষ্ট হয়েছে আমার জানামতে কোন কিছু বলাও হয় নাই কোরআনেও বলা হয় নাই সাহাবীদের থেকে সাহা তাবে তাবে সালাফদের তাফসীরে বর্ণিত আছে যেহেতু তারা ইসরাইলিয়াত থেকে বর্ণনা করেছেন এবং

এটা আমরা কতদিন ব্যাখ্যা করেছি চারটা মূলনীতি ব্যাখ্যা করেছি ইসরাইলিয়াত ইসরাইলিয়াত কি জিনিস বনু ইসরাইলের কাছ থেকে প্রাপ্ত ঘটনা এর বিধান কি বর্ণনা করা জায়েজ এই সালাফরা যে বর্ণনা করেছেন এতে কোন অসুবিধা হয় নাই। দুই নম্বর এগুলোকে কোন প্রমাণ ছাড়া সত্য বা মিথ্যা বলা যাবে না। হ্যাঁ। তাইলে ধরা যাক যে কেউ কোন এরকম বর্ণনা করলো যে এটা গম ছিল। এই গাছটা গম গাছ। তাইলে এটাকে আমরা দলিল ছাড়া সত্য মিথ্যা কিছুই বলবো না। হতে পারে না হতে পারে। এবং এই ক্ষেত্রে এই তাফসীরটা সালাফদের থেকে আসলে এটা চিরধার্য নয়। এটা মানতেই হবে।

সাহাবী বর্ণনা করলেও মানতেই হবে না। কারণ এটা আসলে বনু ইসরাইলের ঘটনা। আর বনু ইসরাইল ঘটনাগুলো প্রমাণ ছাড়া আমরা সত্য বলে স্বীকার করতে মানতে বাধ্য নেই। এজন্য তাফসীরে এই গাছটা কি গাছ ছিল এটা নিয়ে অনেক বক্তব্য আছে। পাঁচটা ছয়টা সাতটা মত আছে। সবটাই আমরা স্কিপ করে। আমাদের জীবনে এমনিতেই সময় কম। আমাদের টার্গেট অন্তত একবার আমরা আল কোরআনটা বুঝে বুঝে তাফসীর সহ গভীরভাবে অনুধাবন যেন করতে পারি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমলে বাস্তবায়ন করতে পারি। তো সেজন্য আমরা এই দীর্ঘ আলোচনা পরিহার করলাম। তাহলে মোট কথা কোন একটা গাছ

যেটা আল্লাহ সুবহানাতালা মেনশন করেন নাই কোরআনে এবং আমার জানামতে সহীহ হাদিসেও আসে নাই কোন একটা গাছ থেকে আল্লাহ নিষেধ করেছেন যে এই গাছে ফল খাওয়া যাবে না অন্য যে আকুষি তোমরা খাও এই একটা জিনিস নিষেধ ছিল জান্নাতে আল্লাহু আকবার এখান থেকে আমরা আসলে আমাদের নেচার বুঝতে পারি আমরা মানুষ আমাদের পিতা আদম আলাইহিস সালাম এই একটা আদেশ এই একটা আদেশ থেকে একটা নিষেধাজ্ঞা ছিল শুধুমাত্র তাই না এই একটা নিষেধাজ্ঞা থেকেও তিনি বেঁচে থাকতেন পারেননি এটাই মানুষের নেচার এবং আমরা এজন্য আমাদেরও এ ধরনের অবাধ্যতা এবং পদস্খলন হবে কিন্তু সামনে আসছে যেটা আদমের

রিয়াকশন সেটা আমাদের ইম্পর্টেন্ট আচ্ছা তোমরা জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবে কেন আল্লাহ বললেন কারণ আরবিতে জুলুম শব্দ কোন যথাস্থানে না রাখা এজন্য সীমালংঘনকে জুলুম বলা হয় সীমালংঘন যে করল সে নিজেকে তার যে সীমা ছিল সেই সীমায় না রেখে যথাস্থানে না রেখে অন্যত্র নিয়ে গেল তেমনি যে কোন পাপী জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। কেন? কারণ পাপী নিজেকে আল্লাহর শাস্তিযোগ্য করে তোলে। জুলুম দেওয়া করা বলতে আমরা বুঝি কাউকে কষ্ট দেওয়া, কারো উপর নির্যাতন করা। তাই না? এটা বুঝি। যে জুলুম করে সে নিজের উপর আসলে অন্যায় করছে। নিজের প্রতি। কারণ সে নিজের কে

শাস্তিযোগ্য করে তোলার মাধ্যমে নিজের ক্ষতি করছে। এটা হচ্ছে নিজের প্রতি অন্যায়। এজন্য পাপীকে আল কোরআনে নাফসি বলা হয়েছে মুমিনদের তিনটা ভাগ আল্লাহ উল্লেখ করেছেন এবং তাদেরকে পাপ সত্য বলেছেন যাদেরকে বাছাই করেছি এই মুমিনদেরকে মুমিন বান্দাদেরকে আল্লাহ কিতাব দিয়েছেন তাদের তিনটা প্রথম ক্যাটাগরিকে যে নিজের উপর জুলুম করে পাপী পাপী কিন্তু তার ঈমান আছে দ্বিতীয় ভাগ হচ্ছে যে সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলে কিন্তু নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে ওমিন সাবিকল্লাহ সবিখ হচ্ছে যারা ভালো কাজে সবার আগে থাকে অর্থাৎ তারা আল্লাহ আদেশ সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ

ক্যাটাগরি তারা আল্লাহ আদেশ পালন তো করেই সেই সাথে সমস্ত ভালো কাজে অগ্রসর থাকে অর্থাৎ নফল এবাদত এবং মাকরুহ থেকে বেঁচে থাকে সন্দেহজনক অর্থাৎ তাদের পুরা জীবনটা আখিরাতমুখী আল্লাহ যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন এজন্য প্রত্যেক পাপী জালেম। কারণ সে নিজেকে ক্ষতির সম্মুখীন করছে। এবং আরেকভাবে সে জালেম। তার থাকার কথা ছিল আল্লাহর আনুগত্যের সীমায় সেটা সেই স্থানটা ত্যাগ করে আল্লাহর অবাধ্য চলে যায়। এজন্য জুলুম শব্দটা আরবিতে ব্যাপক। এর দ্বারা সব পাপী অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর একসময় কি হলো? কিন্তু শয়তান তাদের দুজনকে

জান্নাত থেকে পদস্খলন ঘটালোজমাফি তাদের দুজনকে বের করে দিল জান্নাত থেকে জান্নাতে যেই মিম্মাফি যেই সুখ শান্তি আরাম আয়েশের মধ্যে তারা ছিল সেখান থেকে তাদেরকে বের করল কিভাবে ধাক্কা দিয়ে জোর করে বের করেছে না ওসার মাধ্যমে একমাত্র বের করেছে সেটা সূরা আরাফের মধ্যে গিয়ে আমরা পেয়েছি এবং সূরা তাহার মধ্যে তাহলে এ ওয়াসওয়াসার কথা সূরা বাকারায় নাই কিন্তু আরাফ এবং কোরআনে এক অংশে অংশ ব্যাখ্যা করে সূরা আরাফ এবং আল্লাহ জীবিত রাখেন আমাদেরকে ইনশল্লাহ একদিন সেখানে যাব সেখানে আমরা পাব ইনশাআল্লাহ ওয়াসওয়াসার মাধ্যমে তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছে শয়তান কোন

বাধ্য করে নাই কোন জোর করে নাই কিন্তু বিভিন্নভাবে প্রলোচনা দিয়েছে তাহলে শয়তানদের পদস্ক্রমণ ঘটিয়ে তারা জান্নাতে যারা মায়েশের মধ্যে ছি সেখান থেকে বের করল ওয়াকুল আল্লাহ বলছেন আমি বললাম তোমরা এখান থেকে নেমে যাও পরস্পরের শত্রু হিসেবে ওলাকুমফলাহ পৃথিবীতে তোমাদের জন্য মুস্তাকার রয়েছে পৃথিবীতে অবস্থান করবে পৃথিবীতে একটা সময় পর্যন্ত ইলাহীন একটা সময় পর্যন্ত তোমাদের অবস্থানের জায়গা রয়েছে এবংমা মাথা তোমাদের মাথা রয়েছে তোমাদের জন্য ভোগ্য বস্তু রয়েছে মাথা বলা হয় যা কিছু মানুষ উপভোগ করে অথবা যা কিছু

দ্বারা মানুষ সাময়িকভাবে উপকৃত হয় এটাকে বলা হয় মাতা এই গোটা দুনিয়াটাই মাতাছেন আদ্দুনিয়া মাতা পুরা দুনিয়াটাই হচ্ছে সাময়িক ভোগের বস্তু সাময়িক উপভোগের উপকরণ সামগ্রী পুরো দুনিয়া খাইরুমাতা আল্লামাহা এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম মাতাহ হচ্ছে নেককার স্ত্রী। কারণ নেককার স্ত্রী শুধু পৃথিবীতেই স্বামীকে শান্তি দেয়। সেটাই না তাকে জান্নাতের পথে নিয়ে যায়। জান্নাত পথে চলতে সাহায্য করে। ইলাহীন একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। কাজেই আল্লাহ সুবহানাতালার এই কথার মধ্যে যদিও আল্লাহ সুবহানাতালা তাদের কাজের প্রতিফলস্বরূপ তাদেরকে

নামিয়ে দিলেন পৃথিবীতে। কিন্তু একটা সময় পর্যন্ত কাজেই এর মধ্যে আশ্বাস আছে যে আবার তোমরা এখানে ফিরে আসবে যদি শর্ত পূরণ করতে পারো সেটা কি এখন আসবে ফাতালা আদাম্বি কালিমাত তালাক্কা মানে রিসিভ করা কালিমাত কিছু বাক্য আদম আলাইহিস সালাম তার রবের কাছ থেকে কিছু বাক্য রিসিভ করলেন এবং সাদরে গ্রহণ করলেন ফাতাবা আলাইহি এই বাক্যগুলো আল্লাহ তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন যে এর মাধ্যমে তুমি তওবা করো। ফাতাবা আলাইহি এখানে কে কার দিকে তওবা করেছে? ফাতাবা আলাইহি এখানে যে তওবা করার কথা বলেছে কে তওবা করেছে? এখানে আদম আলাইহি সালামের

তওবার কথা বলা হচ্ছে না। এখানে আল্লাহর তওবার কথা বলা হচ্ছে। এর খুব ইম্পর্টেন্ট। কোরআন বুঝতে গেলে আপনাদের লাগবে। তাবা শব্দটার সাথে আলা অথবা ইলা আসতে পারে। এরপরের যেটা অব্যয় বা হারফ বা প্রিপজিশন সেটা আমাদেরকে দেখতে হবে। যদি মানুষের তওবার কথা বলা হয় তখন ইলা বলা হয়। যেমন আমি আল্লাহর কাছে তওবা করেছি। এটা আমি যদি বলতে চাই আরবিতে কিভাবে বলব? তুবতু ইলাল্লাহ। তুবতু আমি তওবা করেছি। ইলাল্লাহ। আমি আল্লাহর কাছে তওবা করেছি। কিন্তু আল্লাহর কাছে যদি আমি বলি দোয়া করি যে আল্লাহ আপনি আমাকে তওবার সুযোগ দেন তাহলে বলব রব্বিতুব আলাইয়াহ

ইলাইয়া বলবো না তুব আলাইয়া এইজন্য আপনাকে খেয়াল করতে হবে তাবা শব্দের পরে আলা আছে এখানে আলাইহি আলাইহি মানে আলা প্লাস হি হি মানে আদম আলাইহিস সালাম এজন্য আরবি ভাষা বুঝলে আপনি বুঝতে পারবেন এখানে আল্লাহর তওবার কথা বলেছে আচ্ছা আল্লাহর তওবা কি? আল্লাহর দুইটা তওবা। আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অপার অনুগ্রহ। আল্লাহ সুবহানাতায়ালার দুইটা তওবার মধ্যে বান্দা একটা তওবা করে। আল্লাহর প্রথম তওবা হচ্ছে তওবা মানে ফিরে আসা। আল্লাহ বান্দার দিকে ফিরেন। প্রথমবার কিভাবে? তাকে তওবার তৌফিক দেওয়ার মাধ্যমে। আমরা একটু আমাদের নিজের জীবনে চিন্তা করে

দেখি তো। আমরা এমন কত গুনাহ আমাদের জীবনে আছে যে গুনাহগুলো করার পর আমরা গুনাহর মধ্যে অটল থেকেছি দিনের পর দিন আমাদের মনে কোন তওবারই চিন্তাই নাই তারপর হঠাৎ একদিন আমার মনের মধ্যে অনুশোচনা জন্ম নিতে শুরু করে এবং আস্তে আস্তে এটা বাড়তে থাকে বা একসময় রিয়ালাইজ করি না অনেক হয়েছে এবার আমার আল্লাহর দিকে ফিরতে হবে এটা কোত্থেকে আসছে এই অন্তরের চিন্তাটা সৃষ্টি করা ইলহাম করা এবং তওবার তৌফিক দেওয়া সুযোগ দেওয়া এটা আল্লাহর কাজ এটা আল্লাহ দেন তারপরে আমি তওবা করি এবং তারপরে আরেকটা তওবা আছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সেটা কি

আল্লাহ সেই তওবাটা কবুল করেন ক্ষমা করে দেন এজন্য আল্লাহ সুবহানাতালার পক্ষ থেকে তওবা মানে হচ্ছে তওবার তৌফিক দেওয়া বান্দাকে এবং তারপর সেটা কবুল করা আর এর মাঝখানে আমার তওবাটা যে আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার এই দুই ধরনের তওবার মাঝে যদি আমাদেরকে ঘিরে না ফেলতেন তাহলে আমরা আমাদের তওবাটা করার সুযোগ আমাদের হতো না আল্লাহ সুবহাতা অপার অনুগ্রহ এবং আমি যেটা বললাম আপনি যদি আপনার নিজের জীবনের কথা চিন্তা করেন অনেক জায়গায় দেখবেন যে আমার এই গুনাহ থেকে তওবা করার কোন কথাই ছিল না আমি সম্পূর্ণ বেপরোয়া

ছিলাম এরপর আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দয়া করে আমার অন্তরে অনুশোচনার জন্ম দিয়েছেন এবং তওবার যে আগ্রহ সে আগ্রহ জন্ম দিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত তওবা করার তৌফিক দিয়েছেন আমি ছাড়তে পেরেছি ছাড়তে আমাকে সাহায্য করেছেন আল্লাহ এবং আশা করি আমি আল্লাহ আমার তওবাটা কবুল করেছেন। এজন্য এর অনুবাদ হচ্ছে ফলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করলেন। ফাতাবা আলাইহির অনুবাদ হচ্ছে আল্লাহ তাকে তওবা কবুল করলেন। অর্থাৎ আল্লাহ তাকে কি করলেন? ক্ষমা করলেন। ইন্নাহুবুর রহিম নিশ্চয় তিনি অধিক তওবা কবুলকারী এবং পরম দয়ালু। তাহলে বান্দার প্রতি আল্লাহর তওবার অর্থ হচ্ছে তওবা করার

তৌফিক দেওয়া এবং তওবা কবুল করা। বান্দা যখন তওবা করবে পাঁচটি শর্ত আছে। খেয়াল রাখতে হবে। এক নম্বর হচ্ছে অনুতপ্ত হওয়া। দুই নম্বর হচ্ছে গুনাহ ছেড়ে দেয়া আমরা অনেকেই তওবা জিনিসটা ভুল বুঝি গুনাহ করতে করতে একজন মানুষ বলে যে আমি গুনাহ করি আবার রোজ তওবা করি আমার খুব ভয় লাগে তওবা করি না এটা তওবা না আপনি বলতে পারেন যে হ্যাঁ আমি ক্ষমা চাই আল্লাহর কাছে এবং গুনাহ করতে করতে ক্ষমা চাওয়ার কোন ফায়দা নাই তাও না কেউ যদি গুনাহ করতে থাকে তার অনুশোচনা হয় এবং গুনাহ করতে করতেই সে আবার ইস্তেগফার করছে সেটাও ভালো বেপরোয়া হয়ে উঠাচ্ছে সেটাও

ভালো কিন্তু এটা তওবা না এটা কমপ্লিট তবা নয়। কমপ্লিট তওবার শর্ত হচ্ছে সে গুনাহটা ছেড়েই দিতে হবে। আপনি যখন ছেড়ে দিলেন অনুতপ্ত যে না শেষ আমি ছেড়ে দিয়েছি আর করবো না। স্টপ এবং ভবিষ্যতে না করার সংকল্প নিয়েছেন। করবো না তো করবই না। ব্যাস কালকেও করবো না। পরশু আজীবন করবো না। আর করবো না। ফিরে এসেছি আমি। এটা হচ্ছে তওবা। এরপর যদি কোন কাফফারা নির্ধারিত হয় সেটা আদায় করতে হবে। এর সাথে কোন কাফফারা থাকতে পারে। যেমন রোজা মাসে স্বামী-স্ত্রী মিলিত হওয়ার মাধ্যমে রোজা ভেঙেছেন। তাকে অনুতপ্ত হতেই হবে। এটার ভবিষ্যতে করা

যাবে না। সংকল্প নিতে হবে। সেই সাথে কি করতে হবে? কাফফারা দিতে হবে। দাস মুক্ত করতে হবে। সম্ভব না হলে একটা না দুই চান্দ্র মাস রোজা রাখতে হবে। নতবা 60 জন মিস খাইতে হবে। যদি এটা হচ্ছে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করার কাফফারা। পাঁচ নম্বর যেটা মানুষের হক নষ্ট হলে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে এটা সবচেয়ে কঠিন ভাইয়েরা আমার এজন্য মানুষের হকের ব্যাপারে সাবধান এর ভয়াবহতাটা একটু আমি বুঝাই যেন আমরা ভয় করি মানুষের হক নষ্ট করার ক্ষেত্রে একটা মানুষ একটা মানুষের জমি দখল করেছি 20 বছর পরে সে তওবা করলো জমিটা ফেরত দিয়ে

দিবে যে ভাই তোমার জমি আমি নিয়েছিলাম 20 বছর আগে তোমাকে আজকে ফেরত দিয়ে দিলাম এটা যথেষ্ট না আলেমরা বলছেন এই 20 বছর সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে না এই লোকটা সে হয়তো এখানে একটা বাসা করতো ভাড়া দিত কত টাকা ইনকাম করতো এই 20 বছরে এই সবটা তাকে দিতে হবে জমি তো দিতেই হবে সবটা এই তওবা তো কেউ করে না যে আসলে আপনি বাস্তবতা দেখবেন কি যে এরকম ভাবে যারা মানুষের জমি দখল করছে বা হত্যা করছে অন্যায় করছে তাদের আসলে সাধারণত আপনি দেখবেন না যে তারা তওবা করছে ফিরে আসছে ইল্লা মাশাআল্লাহ খুব অল্প এবং আমি হতাশ করবো না কাউকে। এটাও আমি আশা

দিব যে সত্যিই যদি আপনি অনুতপ্ত হন জেনুইন অনুশোচনা যদি এটা হয় তাহলে আল্লাহ সুবহানাতালা আশা করি আপনার তওবার সুযোগটা সহজ করে দিবেন ব্যবস্থা করে দিবেন আল্লাহ। কারণ এই এটার জন্য আল্লাহর কাছ থেকে তৌফিক হওয়ার দরকার আছে। আমি হতাশ করবো না কাউকে। কিন্তু আমরা যেন এই জুলুমের পথে পা না বাড়াই এজন্য ভয় দেখাচ্ছি। এই 20 বছরের তার ক্ষতিপূরণ কিভাবে সে দিবে? কোত্থেকে দিবে? দিবে কিনা আদৌ? দিতে হবে। এবং তারপর তাকে এই যে বিশ্লে মানসিক কষ্ট দিয়েছেন না? তার জমিটা দখল করে তাকে যে 20 বছর মানসিক কষ্ট রেখেছেন তাকে তার সন্তানদেরকে

এটার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে না। এই মনের কষ্ট আপনি কি দিয়ে পূরণ করবেন? এজন্য তওবা মানুষের হক নষ্ট। আল্লাহর হক অনেক বড় ব্যাপার। কিন্তু তারপরও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়া যথেষ্ট। আল্লাহ ক্ষমাশীল ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু মানুষের হকটা তো থেকে যাবে কেয়ামতের দিন। আল্লাহ খুব কঠিন ব্যাপার। জুলুম। এইজন্য এ তওবার পাঁচটা শর্তগুলো মুখস্ত রাখেন। সবসময় বলবেন মানুষকে। নিজেরা মনে রাখবেন বলবেন ক্ষমা প্রার্থনার জন্য আল্লাহ তাআলা যে বাক্যটা আদম শিখিয়েছিলেন সেটা সূরা আরাফের মধ্যে এসেছে রব্বানালাম আমফুসানাল্লাতাফলানাহামনালানা

হে আমাদের রব আমরা নিজেদের উপর নফসের উপর জুলুম করেছি আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ব আদম সালাম হাওয়া আলাইহিস সালাম তারা অপরাধ করার পরে সাথে সাথে তারা তাদের রিয়াকশন কি ছিল এখন হচ্ছে এই কথাটা তাদের রিএকশন ছিল অনুতাপ অনুশোচনা কিভাবে ক্ষমা লাভ করব এরপর আল্লাহ তাকে তৌফিক দিলেন বাক্য শিখিয়ে দিলেন তেমনিভাবে আল্লাহ আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ সুবহানাতালা কত বড় অনুগ্রহ আমাদের উপর আল্লাহ আমাদেরকে গুনাহ করার পর ধ্বংস করে

না দিয়ে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন যে ঠিক আছে তুমি এটা বলো ছেড়ে দাও গুনাহ ছেড়ে দাও ফিরে আসো এটা বলো এই বাক্যগুলি বলো অনেক বাক্য শিখানো হয়েছে আমাদেরকে তওবা করার জন্য আবার গুনাহ করেছো আবার আসো আবার বলো আবার করেছো আবার আসো আবার বলো কয়বার 10 বার 1000 কোন লিমিট দিয়ে দেন নাই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এগুলো চিন্তা করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যেকোন মানুষের চেয়ে কত গুণ বেশি দয়ালু যেটা কোন তুলনা হয় না এবং তখন আপনি আল্লাহর প্রতি আপনার ভালোবাসা আসবে আল্লাহর রহমতের প্রতি আপনার

আশা জন্ম নিবে এত দয়ালু যে আল্লাহ তার কাছে আমরা আশা করতে পারি। এই হচ্ছে আমাদের আদম সন্তানদের রিএকশন। আমাদের পিতার রিয়াকশন। আমাদের পিতা-মাতার রিয়াকশন এবং আমাদের এটাই রিয়াকশন। এজ লং এজ আমরা এই রিয়াকশনের উপর থাকবো। আল্লাহর কাছে ছোট হয়ে থাকবো যে না আল্লাহ আমার দোষ। আমার দোষ। কোন এক্সকিউজ নাই। কোন জাস্টিফিকেশন দিব না যে এই কারণে এই সেই কারণে সেই এটা কেন গুনাহ হইতে যাবে? এইটা কেন অন্যায় হইতে যাবে? এখান থেকে বের হয়ে আসি আমরা। এতে কোন ফায়দা নাই। আমি নিজেকে জাস্টিফাই করে আল্লাহর কাছে কোন ক্ষমা আনতে পারবো না

কোনদিন। অন্যায় হয়ে গেছে। হ্যাঁ ভুল ভুল দোষ হয়ে গেছে। আমি আমি আমার দোষ। স্বীকার করি। মানুষের কাছে এপোলজাইজ করা অভ্যাস করি। আমরা আল্লাহর কাছে এপোলজাইজ করা অভ্যাস করি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া অভ্যাস করি। আমার দোষ। কোন এক্সকিউজ নাই। এটা হারাম। এটা অন্যায়। এটা আমি করেছি। এটা ভুল দোষ। আমার। আল্লাহ আপনাকে মাফ করে দেন। এটা হচ্ছে আদম আলাইহি সালামের রাস্তা। আর এটাতে অসুবিধা কি? এটা এটা কেন দোষ হবে? এটা কেন গুনাহ হবে? আমি তো এইজন্য এটা করি নাই। আমি তো সেই জন্য সেটা করছি। এটা শয়তানের রাস্তা। এটা ইবলিশের পথ।

আমাদেরকে আল্লাহ তালা চিনিয়ে দিচ্ছেন। আমাদের কোরআন পড়ার ফায়দা এই জায়গায়। কোরআন পড়ার ফায়দা কম্পিটিশন জিতার মধ্যে না। কোরআন পড়ার ফায়দা খালি সুরেলা কন্ঠের হাফেজ তৈরি করার মধ্যে না। কোরআন পড়ার ফায়দা হচ্ছে এই জায়গায়। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই আয়াতগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত বাকারা আমরা মাত্র 39 নম্বর আয়াতে অর্থাৎ 30 পারার মধ্যে এক পারা। সেই এক পারার 1/4 আমরা শেষ করতে পারিনি এখনো। ইনশাল্লাহ করব। এর মধ্যে আমাদের কত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আল্লাহ আমাদেরকে চিনিয়ে দিচ্ছেন যে তোমরা অপরাধ করার পর ইবলিশের রাস্তায় যেও না।

তোমরা তোমাদের পিতা-মাতা আদম হাওয়া আলাইহিস সালামের পথে যাও। কোন গাছের ফল খেয়েছে সেটা নিয়ে আমাদের বেশি ব্যস্ত হওয়ার কোন দরকার নাই। আমাদের দরকার হচ্ছে তাদের রিয়াকশনটা কি ছিল এটা খেয়াল করা। রব্বানালামুলাফলানা ওতারহামনা এই দোয়াটা এখন থেকে আমরা বুঝে বুঝে পড়বো মনে রাখবো যে এই দোয়াটাই হচ্ছে সেই বাক্য যে বাক্যের কারণে আদম হাওয়া আলাইহিস সালামকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন কিন্তু পৃথিবীতে তাদেরকে পাঠাবেন পরীক্ষার জন্য সেটা ভিন্ন সিদ্ধান্ত আল্লাহর এর মানে এই না যে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করেননি কারণ আল্লাহ বলছেন ফাতা আলাইহ

আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেছেন কিন্তু ক্ষমা করার সত্ত্বেও আল্লাহ পরীক্ষা নিবেন এটা তার সিদ্ধান্ত এজন্য আবার বলা হচ্ছে যে তোমরা সবাই নেমে যাও তোমাদেরকে যেতে হবে সেখানে কিন্তু এবার আসা আছে নেমে যাও কিন্তু তোমাদের আশা আছে তোমরা সবাই নেমে যাও যদি আমার থেকে হেদায়েত আসে যে আমার হেদায়েতের অনুসরণ করবে তাদের কোন ভয় বা দুঃখ থাকবে না আলেমগণ বলেন খফ বলা হয় ভবিষ্যতের আশঙ্কা ভয়কে হাসান বলা হয় অতীত কোন কিছু নিয়ে দুঃখ পাওয়াকে কাজেই হেদায়েতের অনুসরণ করলে এই দুইটাই হচ্ছে মানুষের সমস্ত বিষন্নতার মূল এইজন্য বারবার আপনারা দেখবেন কখনো খাওফের

সাথে হাসান কখনো হামের সাথে হাজান হাম এবং খাওফ কাছাকাছি হাম হচ্ছে ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা আল্লাহুম্মা হাসান এগুলো পাশাপাশি এসে থাকে কারণ আপনি যদি ভবিষ্যতের ভয় থেকে নিরাপত্তা লাভ করেন আর অতীতের যে জীবনের বিভিন্ন এক্সপেরিয়েন্স সেই কষ্টটা যদি আপনাকে আমাকে দুঃখ না দেয় এবং ইনশআল্লাহ মুমিন হিসেবে মৃত্যুবরণ করলে আমাদের স্থায়ীভাবে এটা বন্ধ হবে তাহলে এটাই হচ্ছে সাফল্য এটাই নিরাপত্তা এটাই সুখ তাহলে আল্লাহর হেদায়েত আল্লাহ সতালা নামিয়ে দেওয়ার সময় আশ্বাস দিলেন যে তোমাদের কাছে আমার গাইডলাইন আসবে হেদায়েত আসবে তোমরা সেটা মেনে চলবে তাহলে ভয় বা

দুঃখের কোন কারণ নাই ওলাফতিনা যারা কুফরি করবে এবং আমার আয়াতগুলোকে অস্বীকার করবে যে আয়াতগুলো তাদের কাছে আসবে সেগুলোকে অস্বীকার করবে উলাইকা আসহাবুনার তারা জাহান্নামের আসহাব আসহাব হচ্ছে সাহেবের বহুবচন জাহান্নামের সঙ্গী অর্থাৎ জাহান্নাম থেকে তারা বের হবে না এজন্য তাদেরকে সঙ্গী বলা উফি খালিদুন তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে গ্রামারের পার্টে চলে আসি ওই আর যখন এখানে স্মরণ করো উজ্জ্ব আছে ধরতে হবে কারণ যখন আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে বললেন তখন কি এর সাথে একটা কিছু লিংক থাকতে হবে। হয় সেটা প্রকাশ্যে উল্লেখ থাকবে অথবা যদি

প্রকাশ্যে উল্লেখ না থাকে আমাদেরকে ধরে নিতে হবে যে আল্লাহ বলছেন যে ওই সময়টার কথা স্মরণ করো যখন এই এই ঘটনা হয়েছে এখানে উজ আছে যে স্মরণ করুন হে নবী উজকুর যখন কুলনা আমরা বললাম লিল মালাইকা ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে উসজুদু তোমরা সেজদা করো কাকে লি আদম আদমের উদ্দেশ্যে সেজদা করো কলা হচ্ছে তিনি বলেছিলেন এর সাথে না হচ্ছে আমরা এই এই সর্বনাম এটা যুক্ত হলে তখন কলানা বলা হয় না বলা হয় কুলনা এটা আরবি ভাষার রীতি কলার সাথে না যুক্ত হয়ে কুলনা মানে আমরা বললাম উসজুদু শব্দটা সে সাজাদা থেকে সাজাদা মানে সে সেজদা করেছিল ইয়াসজুদু সে সেজদা করে

বা করবে এখান থেকে আদেশ হচ্ছে উসজুদ ফেলের তিনটা আরবিতে ফর্ম একটা হচ্ছে মাদি পাস ফাস্ট একটা মুদারে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ তিন নম্বর হচ্ছে আমর আদেশ উসজুদের সাথে ওয়াও লাগালে উসজুদু মানে তোমরা সেজদা করো লি আদাম আদমের উদ্দেশ্যে তোমরা সেজদা করো উসজুদুর সাথে লি আসে লি টা এই যে লি আদাম আদমের সাথে একটা লাম আছে অর্থাৎ সেজদাটা আদমের উদ্দেশ্যে এটা বোঝানোর জন্য আল্লাহ হলে বলা হতো উসজুদুলিল্লাহ তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেজদা করো আল্লাহর জন্য তোমরা সেজদা করো এখানে বলা হচ্ছে আদম আদমের জন্য তোমরা সেজদা করো। আল্লাহর জন্য সেজদা করো বা আল্লাহকে সেজদা করো। এই

জিনিসটা নিয়ে অনেক সোশ্যাল মিডিয়া মাঝখানে আলাপ আলোচনা হয়েছে। একটা বিষয় হচ্ছে যে আসলে আমরা যখন আল্লাহকে সেজদা করো বলি তখন এটা বুঝাই না যে আল্লাহ এই দুনিয়াতে আছেন অথবা আল্লাহর উপর গিয়ে আমরা পড়বো এরকম কোন চিন্তা মুমিনের অন্তরে আসে না। আমরা যেটা ওই অর্থটাই বাংলায় মানে এটা ভাষার ব্যাপার। যে বাংলায় যখন আমরা বলি আল্লাহকে সেজদা করো আমাদের মাথায় ওটাই থাকে যে সেজদাটা আল্লাহর জন্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে তো সে ক্ষেত্রে এটা কোন অসুবিধার কিছু না বাংলায় আমরা এটাই বুঝাই হ্যাঁ তো সেজন্য এখানে তো আদম আলাইহি সালামের কথা আছে আর আল্লাহর

ক্ষেত্রে যদি বলা হয় যে আল্লাহকে সেজদা করো বাংলা ভাষাভাষীরা আল্লাহকে সেজদা করো তো আল্লাহর জন্য সেজদা করো টাই বুঝে সঠিক অর্থটাই বুঝে যদি না সে কোন ভ্রান্ত আকিদার লোক হয় সেটা আলাদা কথা তো কাজেই এটা নিয়ে আমাদের বেশি আমার মনে হয় বিচলিত হওয়ার কিছু নাই যে কিভাবে বলা হয়েছে। তাহলে এই জন্য লি আসে যে আদমের উদ্দেশ্যে অথবা লিল্লাহ আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেজদা করো তখন কি হলো ফাসাজাদু এই ফাটা হচ্ছে লিতাকিব সাজাদু ইল্লা ইবলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তারা সেজদা করল সাজাদু সাজাদার সাথে ওয়াও যুক্ত হয়ে সাজাদা হচ্ছে সে সেজদা করেছিল ওয়াও হচ্ছে তারা

সেজদা করেছিল সাজাদু তৎক্ষণাৎ তারা সেজদা করল ইল্লা ইবলিশ। ইবলিশ ছাড়া ইবলিশ ব্যতিক্রম সে সি সেজদা করেনি। আবা সে অস্বীকার করল। ওস্তাকবারা এবং অহংকার করল। সে অস্বীকার করল। ওস্তাকবার এবং অহংকার করল। ওয়াকানা মিনাল কাফিরীন এবং সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হলো। ওয়াকুলনা এবং আমরা বললাম ইয়া আদম হে আদম উসকুন সাকানা থেকে সাকানা মানে বসবাস করা। সে বসবাস করেছিল। ইয়াসকন সে বসবাস করে বা করবে। উসকুন মানে তুমি বসবাস করো। আনতা তুমি ওজাজুকা এবং তোমার জাউজ মানে তোমার স্ত্রী আল জান্না। তুমিও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো। ওলা আকালা

মানে সে খেয়েছিল। ইয়াকুলু সে খায়। কুল মানে খাও। কুলের সাথে আলিফ যুক্ত হলে দ্বিবচন। আরবিতে একবচন দ্বিবচন বহুবচন তিনটা আছে। আমরা এতদিন বহুবচন দেখেছি ওয়াও যুক্ত হয়। এখন দ্বিবচন আসা শুরু হয়েছে। কারণ এখানে আদম এবং হাওয়া এই দুজনকে বলা হচ্ছে। কুল তুমি খাও। কুলা তোমরা দুজনে খাও। আলিফ যুক্ত হলে। তাহলে আলিফ দিয়ে দ্বিবচন বোঝায়। ওয়াও দিয়ে বহুবচন বোঝা। খেয়াল রাখবেন। যদি কুলু বলা হতো ওয়াও দিয়ে তাহলে অর্থ হতো তোমরা বহুবচনে। আর দ্বিবচন কুলা ওয়াকুলা তোমরা দুজনে খাও মিনহা সেখান থেকে মানে জান্নাত থেকে রগাদান অর্থ আমরা আগেই

বলেছি আরাম করে প্রচুর পরিমাণে হাইসু যেখানে খুশিতুমাতুমা মানে ইচ্ছাশা মানে সে ইচ্ছা করেছে শিক্ততা অথবা শিতি মানে তুমি ইচ্ছা করেছশিতা বললে পুরুষবাচকশিতি বললে জের দিয়ে বললে শিক্ত এজন্য দুইটা দিয়েছি জবর জেরশিতি বললে স্ত্রীবাচকশিতুমা তোমরা দুজনে যা ইচ্ছা করো হ্যা তোমাদের দুজন ইচ্ছাশিতুম তোমরা ইচ্ছা করেছতুন্না এটাও তোমরা ইচ্ছা করেছ যদি ফিমিনিন হয় এখানে দুইজন ছিল এজন্য বলা হয়েছেশিতুমা অর্থাৎ যেখানে তোমাদের ইচ্ছা যেখান থেকে ইচ্ছা বাংলা করতে গেলে সহজ করে সাবলীল করে যেখানে ইচ্ছা জান্নাতের যেখান থেকে ইচ্ছা খাও

ওয়ালাতাবা কারিবা নিকটবর্তী হওয়া ইয়াকরা সে হয় বা হবে তাকরাবু তুমি এর সাথে আলিফ নুন যুক্ত করলে তাকরাবানি তোমরা দুজনে তাকরাবানী মানে তোমরা দুজনের নিকটবর্তী হবে। লা যুক্ত করলে এই নুনটা পড়ে যাবে। হয়ে যাবে লা তাকরাবা। অর্থাৎ এটা লা নাহিয়া যুক্ত করলে যেই লা দিয়ে নিষেধ করা হয় সেই লা যুক্ত করলে বলতে হবে লা তাকরাবা। তোমরা দুজন নিকটবর্তী হো না। ওয়ালা তাকরাবা। তোমরা দুজনে নিকটবর্তী হয় না। হাদিহি এই আশাজারা গাছ। এই গাছের নিকটবর্তী হো না। এই ফা বলতে সাবাবিয়া বলা হয় এটাকে। অর্থাৎ যদি নিকটবর্তী হও তাহলে কি হবে সেটা

বোঝানো হচ্ছে ফাতাকুনা তাকুনা শব্দটাও কানা থেকে এসেছে কানা মানে হওয়া ইয়াকুনু সে হয় তাকুনু তুমি তাকুনানি তোমরা দুজনে কিন্তু যখন ফা সাবাবিয়ার ফাটা আসে নিষেধাজ্ঞার পরে ফাবাবিয়াটা আসলে এই নুনটা পড়ে যায় সেজন্য পড়ে গিয়ে হয়ে যায় ফাতাকুনা বলতে হয় নুনটা ফেলে দিয়ে বলতে হয় ফাতাকুনা মিনাজালিমিন মিন মানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বুঝাচ্ছে এখানে জালিম এর প্লুরাল হচ্ছে জালিম জালিমদের অন্তর্ভুক্ত তোমরা হয়ে যাবেলাহুমা এখানে ফা দিয়ে বুঝাচ্ছে যে আগেরটার ফলাফলে কি হলো ঘটনার প্রবাহ কোন দিকে গেল সেই ফা বুঝাচ্ছে এটাকে বলাফতাফরি বলা হয়

সেজন্য আমরা অনুবাদে এটা সাবলীল করতে কিন্তু বললাম কিন্তু আজালা পদস্খলন ঘটালো আজাল্লাহ হুমা সে অর্থাৎ শয়তান আজা এখানে মানে পদস্লন ঘটানো সে পদস্লন ঘটানো সে কে শয়তান হুমা তাদের দুজনের পদস্লন ঘটানো ঘটালোজাল্লাহুমা আশতান শয়তান কর্তাটা উল্লেখ করা আছে শয়তান তাদের দুজনের পদস্খলন ঘটালো আনহা আনহা মানে আজাললা আনহা হায়ে জান্নাতকে বোঝাচ্ছে হাটা সর্বনাম ফিমিনিন জান্নাত শব্দটা যেহেতু ফিমিনিন সেজন্য হা দিয়ে বোঝানো হচ্ছে পদস্খরণ ঘটলো আন দিয়ে বলা সেখান থেকে আনের মধ্যে সরিয়ে দেওয়ার একটা সেন্স আছে অর্থাৎ পদস্খরণ ঘটিয়ে জান্নাত

থেকে সরিয়ে দিল এজন্য আন দিয়ে এসেছে একটা অব্যয় হারফ বা প্রিপজিশন যেটাই বলেনহুমা এই ফাটা হচ্ছে বিভিন্ন ফায়ের একটা অর্থ তাফসল এখন এটা ব্যাখ্যা করার ফা আসছে যে এই যে পদস্খরণ ঘটাল সে পদস্লনটা কি ধরনের ছিল জান্নাত থেকে তাদেরকে জান্নাতে যে আরা মধ্যে ছিল সেখানে তাদেরকে বের করল সেজন্য অর্থাৎ দিলাম অনুবাদে আখরাজা সে বের করল হুমা তাদের দুজনকে মিম্মা সেই বস্তু থেকে মিন থেকে মা মানে আল্লাজি অর্থে অর্থাৎ ওই জিনিস থেকে যা কানা ফি যার মধ্যে তারা দুজনে ছিল কানার সাথে আলিফ লাগালে দ্বিবচন কানা তারা দুজনে ছিল ফিহি এর মধ্যে অর্থাৎ যেই

জিনিসের মধ্যে তারা ছিল অর্থাৎ আরাম আয়েশ এবং সুখ শান্তি সেখান থেকে তাদেরকে বের করল ওকুলনা এবং আমরা বললাম ইহু হাবা মানে সে নেমে গিয়েছে ইয়াহবিতু সে নেমে যায় বা যাবে তুমি নেমে যাও অর্ডার ইহু তোমরা নেমে যাও কিভাবে নাম তোমরা এমনভাবে নেমে যাও যে অবস্থাটা এইযেদু তোমরা একে অপরের শত্রুবা মানে অংশ বাদু মানে তোমাদের একাংশ তোমাদের একাংশ কি আদু শত্রু লি কার শত্রু সেটা বুঝাতে লি আসে। যেমন আমি বলতে চাচ্ছি যে সে আমার শত্রু। হুয়া আদুলি সে আমার শত্রু। হ্যা এখানে বলা হচ্ছে বাদুকুম তোমাদের একাংশ আদু শত্রু কার? লিবা

আরেক অংশের। মানে তোমরা পরস্পরের শত্রু হিসেবে নেমে যাও। মানুষ এবং জীনদের মধ্যে যারা শায়াতিন ইবলিশ এবং তার বংশধরদের মধ্যে যারা শয়তান তারা আদম আলাই সালাম এবং তার বংশধরদের মধ্যে যারা মুমিন তারা পরস্পর শত্রু হবে তোমরা পরস্পর শত্রু হিসেবে নেমে যাও ওয়ালাকুমফিল তোমাদের জন্য রয়েছে ফিল পৃথিবীতে মুস্তাকার আবাস অথবা বাসস্থান অথবা অবস্থানের জায়গা ওমাতা উপভোগের বস্তু আগেই ব্যাখ্যা করেছি ইলা মানে সময় একটি সময় পর্যন্ত একটি সময় পর্যন্ত তোমাদের জন্য অবস্থানের জায়গা এবং উপভোগের সামগ্রী থাকবে পৃথিবীতে ফাতালা এরপর এখানে ফাদি এরপর বোঝাচ্ছে তালাক মানে

গ্রহণ করা আদম আদম গ্রহণ করল রব্বিহ তার রবের কাছ থেকে কালিমাত কিছু বাক্য কালিমাতুনের প্লুরাল কালিমা মানে আমরা অনেক সময় বুঝি যে শব্দ শুধু শব্দ না বাক্যকে আরবিতে কালিমা বলে কালিমাত মানে কিছু বাক্য গ্রহণ করলেন আদম আলাই তার রবের কাছে থেকে ফাতাবা আলাইহি ফলে তওবা করলেন। অর্থাৎ এখানে আলেম বলছে একটা বাক্য উজ্য আছে। অর্থাৎ এই বাক্য গ্রহণ করার পরে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করছেন না। বাক্য গ্রহণ করলেন এবং সেই বাক্য পাঠ করে ক্ষমা চাইলেন। এটা উজ্য আছে বাক্যটা। ইমাম উল্লেখ করেছেন এটা উজ্য আছে। বাক্যটা গ্রহণ করার কি হলো? যে বাক্যটা ব্যবহার

করে তিনি আল্লাহর কাছে কি করলেন? ক্ষমা চাইলেন ফলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করলেন এজন্য ফাটা হচ্ছে ফাস সাবাবি। এটা দিয়ে ফলে বুঝাচ্ছে। তাবা আলাইহি আমরা ব্যাখ্যা করেছি যে তিনি তার তওবা কবুল করলেন অর্থে অর্থাৎ তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন এই অর্থে এখানে আল্লাহ প্রত্যাবর্তন করলেন আদম আলাই সালামের দিকে ক্ষমা নিয়ে এই অর্থে আলাইহ ইন্নাহু নিশ্চয় তিনি হুয়াত তাওয়াবুর রহিম নিশ্চয় তিনি তাওয়াব যিনি অধিক তওবা কবুলকারী রহিম মানে অত্যন্ত দয়ালু এই হুয়াটা অতিরিক্ত একটা দমির এসে অর্থের দিক থেকে এটাকে আরো এমফাসাইজ করছে অনুবাদে এটাকে ধারণ করা

মুশকিল এজন্য অনুবাদে আমরা সিম্পল লিখেছি নিশ্চয় তিনি অধিক তওবা কবুলকারীদ দয়ালু কুলনা আমরা বললাম ইহবিত তোমরা নেমে যাও মিনহা এখান থেকে মিন মানে থেকে হায়ে জান্নাত অথবা ঊর্ধ্বজগৎ বোঝানো হচ্ছে সামা আকাশ ঊর্ধ্বজগত এখান থেকে তোমরা নেমে যাও জামিন সবাই তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও ফাইম্মা এই শব্দটা হচ্ছে এখানে তিনটা শব্দ আছে ফা ইন এবং মা এই ফাটা হচ্ছে বাক্য শুরুর ফা এটাকে ফাইনাফিয়া বলা হয় ইন হচ্ছে যদি আর এই মা হচ্ছে এই যদি যে কন্ডিশনটা অর্থাৎ যদি মানে এখানে কন্ডিশনাল সেন্টেন্স এটা একটা শর্ত থাকবে ফলাফল থাকবে শর্তের সাথে ফলাফল যে

লিংকটাকে এমফাসাইজ করার জন্য একটা এক্সট্রা মা আসেমমা অর্থের দিক থেকে এখানে যদি বলতে হবে বাংলায় এটা ধারণ করা সম্ভব নাইমমা যদি কি হয় ইয়াতিয়ানাকুম তোমাদের কাছে আসে আতা থেকে আতা মানে সে এসেছে ইয়াতি মানে সে আসে বা আসবে এর সাথে নুন তাওকিদ ফেল ভার্ব ভবের অর্থটাকে এমফাসাইজ করার জন্য এক ধরনের নুন আছে নুন তাসদিদ যুক্ত নুন এটা এখানে আসে যখন ইম্মা আসে তার সাথে ভার্ব আসলে ভার্বের সাথে নুন তাসদি নুন দিয়ে এমফাসাইজ করা এটা হচ্ছে ভাষার নিয়ম এজন্য শুধু ইয়াতিনা বলে ইয়াতিয়ান্না বলা হয়েছে অর্থাৎ তোমাদের কাছে যদি আসে কুম

ইয়াতিয়ান্নাকুম মানে তোমাদের কাছেইতিয়ান্না মানে আসা কুম মানে তোমাদের কাছে যদি আসে মিন্নি আমার থেকে আমার কাছ থেকে মিন নি মিন্নি এখানে মিনের সাথে থেকে যদি আমি বুঝায় যে আমার থেকে তাহলে ইয়া যুক্ত হয় মিন্নি হুদান হেদায়াত আসে ফা মান সেক্ষেত্রে হেদায়াত আসলে কি হবে সেটা বলা হচ্ছে এটা ফা বলা হচ্ছে এটাকে বলা হয় জাওয়াবুর শর্ত মানে ওটা হচ্ছে শর্ত যদি আসে তখন কি হবে এটা হচ্ছে ফলাফল সে ফলাফলের সাথে একটা ফা লাগে অনেক সময় সেই ফা টা হচ্ছে এটা মান যে তাবেয়া অনুসরণ করা অনুসরণ করবে হুদায়া হুদার সাথে ইয়া যুক্ত হচ্ছে মানে আমার হেদায়েত যেটা একটু

আগে বললাম যে ইয়া দিয়ে আমার বোঝায় ফামানতা হুদায়া যে আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে এটাও আরেকটা কন্ডিশনাল সেন্টেন্স একটা কন্ডিশনাল সেন্টেন্স মধ্যে আরেকটা কন্ডিশনা তখন কি হবে যদি হেদায়েত অনুসরণ করে কি হবে ফলাফল এই ফলাফলের ফা এটা হচ্ছে রাবেশ বলা হয় আরবিতে ফলাফলের ফা তখন কি হবে লা খাফ আলাইহিম তাদের ভয় থাকবে না খফ মানে ভয় আলাইহি তাদের উপর মানে তাদের কোন ভয় নেই তাদের কোন ভয় থাকবে না ওয়ালাহুমজানুন এবং তারা দুঃখ করবে না হাজিনা সে দুঃখ করেছিল ইয়াহজানু সে দুঃখ করে বা করবে ওয়াুন লাগিয়ে তারা তারা দুঃখ করবে না

তাদের ভয় নেই তারা দুঃখ করবে না ওল্লাজিনা আর যারা কাফারু কাফার সাথে ওয়া যুক্ত করে কাফারা সে কুফরি করেছে ও হচ্ছে তারা আর যারা কুফরি করবে কারণ এখানে আসলে এটা এক ধরনের কন্ডিশনের অর্থ দিচ্ছে অর্থাৎ কুফরি করলে কি হবে সেটা বলছে এজন্য এখানে পাস্টের অর্থ না ওল্লাজিনা কাফারু যারা কুফরি করবে ওয়াজবু এবং অস্বীকার করবে কাজবার সাথে ওয়াও যুক্ত হয়ে কাজবু হয়েছে কাজবা সে অস্বীকার করেছিল ওয়া হচ্ছে সে তারা অস্বীকার করেছিল অর্থাৎ যারা কুফরি করবে আল্লাজিনা কাফারু যারা কুফরি কাজবু অস্বীকার করবে বি আয়াতিনা আমার আয়াতগুলোকে

কাজবুর সাথে বি আসে এখানে বি আয়াতিনা এবং আয়াতিনা অর্থাৎ আমার আয়াতগুলোকে অস্বীকার আমাদের আয়াতগুলোকে অস্বীকার করবে। আয়া হচ্ছে একবচন। বহুবচন হচছে আয়াত এবং সাথে না মানে আমাদের আয়াতিনা আমাদের আয়াত। এটাকে আরবি ভাষায় এই আলিফটাকে ছোট আলিফ দিয়ে এভাবে লেখা হয়। যারা কুফরি করবে আমাদের অস্বীকার করবে তাদের কি হবে? উলাইকা আসহাবুন। ওরাই জাহান্নামের বাসিন্দা। উলাইকা ওরাই আসহাব সাহেবের প্লুরাল। সাহিব মানে সাথী। তাদেরকে জাহান্নামের সাথী বলা হয়েছে। কারণ তারা জাহান্নামের চিরস্থায়ী হবে। নার হচ্ছে জাহান্নাম। হুম তারা ফিহা এর মধ্যে

হাচ্ছে ফিমিনিন সর্বনাম। কারণ না শব্দটা আরবিতে ফিমিনিন। হুম ফিহা খলিদুন মানে আপনারা আগেও দেখেছেন খালিদ মানে চিরস্থায়ী হওয়া ওয়া নুন যুক্ত হলে খালিদুন হয়ে যায়। তারা চিরস্থায়ী হবে বহুবচন। আর সেক্ষেত্রে আলিফটাকে কোরআনের রীতি হচ্ছে ছোট আলিফ দিয়ে লেখা। খলিদুন ওরা এতে চিরস্থায়ী হবে। আলহামদুলিল্লাহ। আজকে আমাদের আলোচনা এতটুকুই। সুবহানাকহামদিক আশাদুল্লাহ।