নিফাক কী? অনেকেই জানে না!
তাফসীর সিরিজ || বাক্বারা ৮–১০
t.me/naseel · YouTube /@naseelshahrukh · YouTube /@২মিনিটকুরআন
স্লাইড ১ — ৮ থেকে পরবর্তী আয়াতগুলো মুনাফিকদের সম্পর্কে
- ইবনে মাসঊদ
- ইবনে আব্বাস
- আবুল আলিয়া
- মুজাহিদ
- কাতাদা
- ইসমাঈল আস সুদ্দী
- আর রাবী’ বিন আনাস
- মুকাতিল বিন সুলায়মান
- ইবনু জুরায়জ
- ইয়াহইয়া বিন সাল্লাম
তাবারী ইজমা উল্লেখ করেছেন
স্লাইড ২ — ঈমান ও কুফর
‘ঈমান’ শব্দের আভিধানিক অর্থ বিশ্বাস বা স্বীকৃতি। শরীয়তে ‘ঈমান’ এর দুটি দিক রয়েছে। প্রথম দিকটি হল আল্লাহ ও তাঁর রাসূল প্রদত্ত যাবতীয় সংবাদকে দৃঢ় বিশ্বাস সহকারে প্রশান্ত চিত্তে মেনে নেয়া এবং এর সত্যতার স্বীকৃতি দেয়া। আর ঈমানের দ্বিতীয় দিকটি হল কুরআন-হাদীসের বিধি-নিষেধের অনুগত হওয়ার মাধ্যমে দ্বীনের বাস্তবায়ন। অন্য কথায় ‘ঈমান’ বিশ্বাস, কথা ও কাজের সমন্বয়। যে ঈমান আনে, তাকে ‘মুমিন’ বলা হয়। ‘ঈমান’ এর অনুপস্থিতির নাম ‘কুফর’। কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তিকে ‘কাফের’ বলা হয়।
স্লাইড ৩ — ঈমানের জরুরী মাসায়েল
- ঈমান বিশ্বাস, কথা ও কাজ
- ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি আছে
স্লাইড ৪ — কুফরীর প্রকারভেদ
- অবিশ্বাস ও অস্বীকৃতি — التكذيب / الجحود / الإنكار
- সংশয় — الشكّ
- বিমুখতা — الإعراض
- অহংকার ও অবাধ্যতা — الاستكبار / الإباء / الامتناع
- কটুক্তি ও বিদ্রূপ — الاستهزاء والسبّ
- ঘৃণা — البغض
- নিফাক — النفاق
স্লাইড ৫ — নিফাক সম্পর্কে জ্ঞানার্জন কেন জরুরী?
- বৈশিষ্ট্য দেখে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য
- নিজেদেরকে এসব বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত করার জন্য
স্লাইড ৬ — নিফাক ২ প্রকার
| বড় নিফাক বা আকীদার নিফাক | ছোট নিফাক বা আমলের নিফাক |
|---|
স্লাইড ৭ — ইবনুল কাইয়িম (রহ.)
ইবনুল কাইয়িম বলেন, নিফাক দুই প্রকার: বড় এবং ছোট। বড় নিফাক এমন, যা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে চিরস্থায়ী অবস্থানকে অবধারিত করে। আর তা হলো, কোনো ব্যক্তি মুসলিমদের কাছে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান প্রকাশ করে, কিন্তু অন্তরে সে এসব কিছু থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এবং এগুলোকে অস্বীকার করে।
📜 মাদারিজুস সালিকীন ১/৩৭৬
স্লাইড ৮ — ইবনু রজব (রহ.)
ইবনু রজব বলেন, বড় নিফাক এই যে কোনো ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান প্রকাশ করে, অথচ অন্তরে সে এসব কিছুর সব বা কিছু অংশের বিপরীত বিষয় গোপন রাখে। এটিই সেই নিফাক, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে ছিল এবং যার অধিকারীদের নিন্দা করে ও তাদেরকে কাফির ঘোষণা করে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং কুরআন জানিয়েছে যে তারা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।
📜 জামিউল উলূমি ওয়াল হিকাম, পৃ. ৪০৩
স্লাইড ৯ — আকীদার নিফাক
- রাসূলকে অবিশ্বাস করা
- তাঁর আনীত কোন কিছুকে অস্বীকার করা
- রাসূলকে ঘৃণা করা
- তাঁর আনীত কোন কিছুকে ঘৃণা করা
- রাসূলের দ্বীন পরাজিত হলে আনন্দ লাভ করা
- রাসূলের দ্বীন বিজয়ী হলে তা অপছন্দ করা
স্লাইড ১০ — সূরা আল-বাকারা, ২ : ৮
﴿وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ ٨﴾
মানুষের মাঝে কিছু লোক এমন, যারা বলে: “আমরা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান এনেছি।” অথচ আদৌ তারা মুমিন নয়!
📖 সূরা আল-বাকারা, ২ : ৮
স্লাইড ১১ — সূরা আন-নিসা, ৪ : ১৪৫
﴿إِنَّ ٱلْمُنَٰفِقِينَ فِى ٱلدَّرْكِ ٱلْأَسْفَلِ مِنَ ٱلنَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا ١٤٥﴾
নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে! আর আপনি তাদের জন্য কখনোই কোন সাহায্যকারী পাবেন না।
📖 সূরা আন-নিসা, ৪ : ১৪৫
স্লাইড ১২ — সূরা আত তাওবা, ৯ : ৬৮
﴿وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلْمُنَٰفِقِينَ وَٱلْمُنَٰفِقَٰتِ وَٱلْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَا ۚ هِىَ حَسْبُهُمْ ۚ وَلَعَنَهُمُ ٱللَّهُ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيمٌ ٦٨﴾
আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও নারী এবং কাফেরদেরকে জাহান্নামের আগুনের ওয়াদা করেছেন – সেখানে অনন্তকাল তারা থাকবে! [জাহান্নামের আগুনই শাস্তি হিসেবে] তাদের জন্য যথেষ্ট! আর আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় রহমত থেকে বিতাড়িত করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি।
📖 সূরা আত তাওবা, ৯ : ৬৮
স্লাইড ১৩ — বাহ্যিক বিধান ও অন্তরের ঈমান
মুনাফিক যদি তার অন্তরে বিদ্যমান দ্বীনের বিরোধিতা প্রকাশ না করে এবং ইসলামের বাহ্যিক আমলগুলো প্রকাশ করে, তখন বাহ্যিকভাবে সে মুসলিম হিসেবে গণ্য হয়। দুনিয়ায় তার উপর ইসলামের বাহ্যিক বিধানগুলো কার্যকর হয় এবং তার সাথে মুসলিমদের মত আচরণ করা হয়। কারণ আমাদেরকে মানুষের অন্তর চিরে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, আর এটি মূলত মানুষের ক্ষমতারও বাইরে। যে বাহ্যিক ঈমানের ভিত্তিতে পার্থিব বিধান কার্যকর হয়, তা অন্তরের ঐ প্রকৃত ঈমানকে আবশ্যক করে না – যার দ্বারা কোনো ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে মুমিন হয়।
স্লাইড ১৪ — ছোট নিফাক বা আমলের নিফাক
এটি অন্তর ও বাহ্যিক অবস্থার অমিল, বিশেষ করে ওয়াজিব কাজগুলোতে। এর অর্থ মুনাফিকদের অনুরূপ কিছু কাজ করা, কিন্তু অন্তরে ঈমানের মূলটি অবশিষ্ট থাকা। এ ধরনের ব্যক্তিকে মিল্লাত থেকে বের হয় না, তার থেকে ঈমানের মূল নাকচ করা হয় না, আবার ইসলাম নামটিও তার থেকে তুলে নেওয়া হয় না। তবে সে অন্যান্য গুনাহগারের মতো শাস্তির উপযুক্ত, কিন্তু জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না। বরং আল্লাহর অনুমতিতে সুপারিশকারীদের সুপারিশ তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
স্লাইড ১৫ — ছোট নিফাক বা আমলের নিফাক (২)
এই ধরনের নিফাক বড় নিফাকের দিকে যাওয়ার প্রথম ধাপ ও পথ – যদি কেউ এ পথে চলতে থাকে এবং এটাই তার অভ্যাসে পরিণত হয়।
এর উদাহরণ হলো: মিথ্যা বলা, ওয়াদা ভঙ্গ করা, আমানতের খেয়ানত করা, কুতর্ক করা, চুক্তি ও অঙ্গীকার ভঙ্গ করা। এছাড়া এমন রিয়া – যা আমলের মূলের ক্ষেত্রে নয় ইত্যাদি।
স্লাইড ১৬ — হাদীস: চারটি বৈশিষ্ট্য
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا، وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ، كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا: إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ، وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ، وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন: চারটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকে, সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে এগুলোর কোনো একটি বৈশিষ্ট্য থাকে, তার মধ্যে নিফাকের একটি বৈশিষ্ট্য থাকে, যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে। যখন তাকে আমানত দেওয়া হয়, সে খেয়ানত করে; যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে; যখন চুক্তি-অঙ্গীকার করে, তা ভঙ্গ করে; আর যখন তর্ক করে, সত্য থেকে সরে যায় (মিথ্যা ও বাতিল কথা বলে)।
📜 বুখারী (৩৪), মুসলিম (৫৮)
স্লাইড ১৭ — হাদীস: মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ
আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন, মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে, আর যখন তাকে আমানত দেওয়া হয় সে খেয়ানত করে।
📜 বুখারী (৩৩), মুসলিম (৫৯)
স্লাইড ১৮ — ছোট নিফাক বা আমলের নিফাক (৩)
আলেমগণ বলেন এগুলো মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য। কাজেই যার মধ্যে এর কোনোটি পাওয়া যাবে, তার মধ্যে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য থাকায় সে নিন্দার যোগ্য। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে চির অবস্থানকারী মুনাফিকদের দলভুক্ত হয়েছে। তার অন্তরে যদি ঈমানের মূল থাকে, তবে সে আকীদার নিফাকী থেকে রেহাই পেয়েছে। তবে মুনাফিকের চরিত্র ধারণ করায় সে শাস্তির যোগ্য। তেমনি ভয় আছে যে এ সকল বৈশিষ্ট্য বাড়তে থাকলে ক্রমান্বয়ে সে আকীদার নিফাকের মধ্যে চলে যেতে পারে।
স্লাইড ১৯ — সাহাবীদের নিফাকের ভয়
عَنْ حَنْظَلَةَ الْأُسَيِّدِيّ، قَالَ – وَكَانَ مِنْ كُتَّابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – قَالَ: لَقِيَنِي أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ: كَيْفَ أَنْتَ؟ يَا حَنْظَلَةُ! قُلْتُ: نَافَقَ حَنْظَلَةُ، قَالَ: سُبْحَانَ اللهِ مَا تَقُولُ؟ قَالَ: قُلْتُ: نَكُونُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يُذَكِّرُنَا بِالنَّارِ وَالْجَنَّةِ، حَتَّى كَأَنَّا رَأْيُ عَيْنٍ، فَإِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَافَسْنَا الْأَزْوَاجَ وَالْأَوْلَادَ وَالضَّيْعَاتِ، فَنَسِينَا كَثِيرًا، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَوَاللهِ إِنَّا لَنَلْقَى مِثْلَ هَذَا، فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ، حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قُلْتُ: نَافَقَ حَنْظَلَةُ، يَا رَسُولَ اللهِ! فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَمَا ذَاكَ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ نَكُونُ عِنْدَكَ، تُذَكِّرُنَا بِالنَّارِ وَالْجَنَّةِ، حَتَّى كَأَنَّا رَأْيُ عَيْنٍ، فَإِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِكَ، عَافَسْنَا الْأَزْوَاجَ وَالْأَوْلَادَ وَالضَّيْعَاتِ، نَسِينَا كَثِيرًا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنْ لَوْ تَدُومُونَ عَلَى مَا تَكُونُونَ عِنْدِي، وَفِي الذِّكْرِ، لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلَائِكَةُ عَلَى فُرُشِكُمْ وَفِي طُرُقِكُمْ، وَلَكِنْ يَا حَنْظَلَةُ سَاعَةً وَسَاعَةً» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
হানযালা আল-উসাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন – তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর লেখকদের একজন – তিনি বলেন, একদিন আবু বকর (রাঃ) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, হে হানযালা! তোমার কী অবস্থা? আমি বললাম, হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! তুমি কী বলছ! আমি বললাম, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে থাকি, তখন তিনি আমাদেরকে জাহান্নাম ও জান্নাতের কথা এমনভাবে স্মরণ করান, যেন আমরা তা চোখের সামনে দেখছি। কিন্তু যখন আমরা তাঁর কাছ থেকে বের হয়ে যাই, তখন আমরা স্ত্রী-সন্তান ও জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, ফলে অনেক কিছু ভুলে যাই। তখন আবু বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, আমরাও তো এমন অবস্থার সম্মুখীন হই। এরপর আমি ও আবু বকর (রাঃ) একসঙ্গে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে গেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, কী ব্যাপার? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যখন আপনার কাছে থাকি, আপনি আমাদেরকে জাহান্নাম ও জান্নাতের কথা এমনভাবে স্মরণ করান, যেন আমরা তা চোখের সামনে দেখছি। কিন্তু যখন আপনার কাছ থেকে বের হয়ে যাই, তখন আমরা স্ত্রী-সন্তান ও জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, ফলে অনেক কিছু ভুলে যাই। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, যদি তোমরা সর্বদা আমার কাছে থাকাকালীন অবস্থার মতো এবং যিকিরে স্থির থাকতে পারতে, তাহলে ফেরেশতারা তোমাদের বিছানায় এবং পথেঘাটে তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হাত মেলাত। কিন্তু হে হানযালা! কিছুক্ষণ স্মরণ আর কিছুক্ষণ ব্যস্ততা (এটাই স্বাভাবিক)। তিনবার বললেন।
📜 মুসলিম (২৭৫০)
স্লাইড ২০ — ইবনু আবি মুলাইকা
قَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ: أَدْرَكْتُ ثَلَاثِينَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّهُمْ يَخَافُ النِّفَاقَ عَلَى نَفْسِهِ، مَا مِنْهُمْ أَحَدٌ يَقُولُ: إِنَّهُ عَلَى إِيمَانِ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ
ইবনু আবি মুলাইকা বলেন, আমি নবী ﷺ-এর ত্রিশজন সাহাবীকে পেয়েছি, তাঁদের প্রত্যেকেই নিজের ব্যাপারে নিফাকের ভয় করতেন। তাঁদের মধ্যে কেউই বলতেন না যে, তিনি জিবরীল ও মীকাঈলের মত ঈমানের অধিকারী।
📜 বুখারী ১/১৮
স্লাইড ২১ — আয়াত ৮ : শুধু মৌখিক স্বীকৃতি ঈমান নয়!
﴿وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ ٨﴾
(৮) মানুষের মাঝে কিছু লোক এমন, যারা বলে: “আমরা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান এনেছি।” অথচ আদৌ তারা মুমিন নয়!
শুধু মৌখিক স্বীকৃতি ঈমান নয়!
- জাহমিয়্যাহ – শুধু জানার নামই ঈমান!
- আশআরী, মাতুরিদী – ঈমান অন্তরের বিশ্বাস, মৌখিক ঘোষণা অতিরিক্ত রোকন
- কাররামিয়্যাহ – ঈমান শুধু মৌখিক ঘোষণা
- ফকীহগণের মধ্যে যারা মুরজিআহ – ঈমান বিশ্বাস ও কথা
- খারেজী – ঈমান বিশ্বাস, কথা ও কাজ কিন্তু এর একাংশ কমলে পুরোটা চলে যায়
- মুতাযিলা – খারেজীদের মতই তবে পৃথিবীতে সে মুমিনও নয় কাফেরও নয়
আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ: ঈমান বিশ্বাস, কথা ও কাজ; এর হ্রাস-বৃদ্ধি আছে তথা তারতম্য আছে
স্লাইড ২২ — আয়াত ৯
﴿يُخَٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّآ أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ ٩﴾
(৯) আল্লাহ ও মুমিনদের সাথে প্রতারণা করতে গিয়ে তারা কেবল নিজেদেরই ধোঁকা দিয়ে থাকে – অথচ তারা তা টের পায় না!
স্লাইড ২৩ — ইয়ুখাদিঊনা শব্দের সম্ভাব্য ২টি অর্থ
| প্রতারণার চেষ্টা ও এর প্রতিবিধান | এক তরফা প্রতারণা অর্থে |
|---|
স্লাইড ২৪ — সূরা আন-নিসা, ৪ : ১৪২
﴿إِنَّ ٱلْمُنَٰفِقِينَ يُخَٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَهُوَ خَٰدِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوٓا۟ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ قَامُوا۟ كُسَالَىٰ يُرَآءُونَ ٱلنَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ ٱللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا ١٤٢﴾
নিশ্চয়ই মুনাফিকেরা আল্লাহর সাথে প্রতারণার আশ্রয় নেয়, কিন্তু পাল্টা তিনিই তাদেরকে ধোঁকায় নিক্ষেপকারী। আর যখন তারা সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ায়, তখন লোক দেখানোর জন্য আলস্য নিয়ে দাঁড়ায় এবং আল্লাহকে তারা সামান্যই স্মরণ করে।
📖 সূরা আন-নিসা, ৪ : ১৪২
স্লাইড ২৫
তাবারীর মতে এই আয়াতে এটি দ্বিপাক্ষিক এবং তিনি ২টি আয়াতের আলোকে একে ব্যাখ্যা করেছেন
স্লাইড ২৬ — সূরা আলে ইমরান, ৩ : ১৭৮
﴿وَلَا يَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَنَّمَا نُمْلِى لَهُمْ خَيْرٌ لِّأَنفُسِهِمْ ۚ إِنَّمَا نُمْلِى لَهُمْ لِيَزْدَادُوٓا۟ إِثْمًا ۚ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ ١٧٨﴾
কাফেররা যেন মনে না করে তাদেরকে আমার অবকাশ দেয়া তাদের জন্য কল্যাণকর। আমি তাদেরকে কেবল এজন্য অবকাশ দেই যেন তাদের পাপ বৃদ্ধি পায়। আর তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
📖 সূরা আলে ইমরান, ৩ : ১৭৮
স্লাইড ২৭ — সূরা আল হাদীদ, ৫৭ : ১৩
﴿يَوْمَ يَقُولُ ٱلْمُنَٰفِقُونَ وَٱلْمُنَٰفِقَٰتُ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱنظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ٱرْجِعُوا۟ وَرَآءَكُمْ فَٱلْتَمِسُوا۟ نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَّهُۥ بَابٌۢ بَاطِنُهُۥ فِيهِ ٱلرَّحْمَةُ وَظَٰهِرُهُۥ مِن قِبَلِهِ ٱلْعَذَابُ ١٣﴾
যেদিন মুনাফিক নরনারী ঈমানদারদেরকে বলবে: “তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা কর, তোমাদের আলো থেকে আমরা এক খণ্ড আলো নেব!” বলা হবে: “তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে গিয়ে আলোর খোঁজ কর।” তারপর [মুনাফিক ও মুমিনদের] মাঝখানে দরজা-ওয়ালা একটি দেয়াল দিয়ে দেয়া হবে – এর ভিতরে রহমত থাকবে আর বাইরের দিকে থাকবে শাস্তি।
📖 সূরা আল হাদীদ, ৫৭ : ১৩
স্লাইড ২৮ — প্রতারণা একপাক্ষিক হলে এর অর্থ
- রাসূল বা মুমিনদের প্রতারণাকে আল্লাহ নিজের সাথে প্রতারণা গণ্য করেছেন (ইয়াহইয়া বিন সাল্লাম, ইবনু আবী যামানাইন ১/১২২)
- লুকানো অর্থে বা যা মনে আছে তার বিপরীত কিছু দেখানো অর্থে (যাদুল মাসীর, বাগাবী, সা’দী প্রমুখ)
- তাদের ধারণা তারা প্রতারণা করতে সক্ষম (ইবনু কাসীর)
- তারা যে কাজটি করে সেটা সৃষ্টির ক্ষেত্রে হলে তা প্রতারণা (যামাখশারী)
- তাদের কাজটির নাম প্রতারণা যদিও প্রকৃতপক্ষে কেউ প্রতারিত হয়নি (কুরতুবী, আদ দুর্র আল মাসূন)
স্লাইড ২৯ — আয়াত ১০
﴿فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ ٱللَّهُ مَرَضًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۢ بِمَا كَانُوا۟ يَكْذِبُونَ ١٠﴾
(১০) তাদের অন্তরে রোগ আছে, ফলে আল্লাহ তাদের রোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন; আর তাদের জন্য যন্ত্রণাকর শাস্তি রয়েছে কারণ তারা নিয়মিত মিথ্যা বলত!
এখানে রোগ বলতে কী বুঝানো হয়েছে?
- সন্দেহ: ইবনু মাসঊদ, ইবনু আব্বাস, আবুল আলিয়া, মুজাহিদ, কাতাদা, ইকরিমা, আল হাসান আল বাসরী, আর রাবী’ বিন আনাস, আস সুদ্দী, মুকাতিল বিন সুলায়মান, আব্দুর রহমান বিন যাইদ বিন আসলাম
- ব্যভিচার: ইকরিমা, তা-ঊস
যাইদ বিন আলী থেকে বর্ণিত যে উভয় রোগ
শুবুহাত ও শাহাওয়াতের রোগের ব্যাপারে সতর্কতা!
স্লাইড ৩০ — প্রতিদান আমলের অনুরূপ
সা’দীর (রহ.) বক্তব্য
﴿فَلَمَّا زَاغُوٓا۟ أَزَاغَ ٱللَّهُ قُلُوبَهُمْ﴾
“তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন” (আস-সফ, ৫)
﴿وَنُقَلِّبُ أَفْـِٔدَتَهُمْ وَأَبْصَٰرَهُمْ كَمَا لَمْ يُؤْمِنُوا۟ بِهِۦٓ أَوَّلَ مَرَّةٍ﴾
আমি তাদের অন্তর ও দৃষ্টিকে উল্টে দেব, কারণ তারা প্রথমবার [কুরআনের প্রতি] ঈমান আনেনি (আল-আনআম, ১১০)
স্লাইড ৩১ — সূরা আত তাওবা, ৯ : ১২৫
﴿وَأَمَّا ٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَتْهُمْ رِجْسًا إِلَىٰ رِجْسِهِمْ وَمَاتُوا۟ وَهُمْ كَٰفِرُونَ ١٢٥﴾
আর যাদের অন্তরে রোগ আছে, [এই সূরা] তাদের [সংশয় ও কুফরের] নোংরামির সাথে নতুন নোংরামি যোগ করে; আর কাফের অবস্থায় তাদের মৃত্যু ঘটে।
📖 সূরা আত তাওবা, ৯ : ১২৫
স্লাইড ৩২ — সূরা মারইয়াম, ১৯ : ৭৬
﴿وَيَزِيدُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ٱهْتَدَوْا۟ هُدًى ۗ وَٱلْبَٰقِيَٰتُ ٱلصَّٰلِحَٰتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ مَّرَدًّا ٧٦﴾
যারা সঠিক পথে চলে আল্লাহ তাদের হেদায়েত বাড়িয়ে দেন। আর যে নেক-আমলের সওয়াব চিরস্থায়ী, তা আপনার রবের নিকট প্রতিদান ও পরিণতিতে উত্তম।
📖 সূরা মারইয়াম, ১৯ : ৭৬
স্লাইড ৩৩ — যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ২টি কারণ
১. মিথ্যা ২. অবিশ্বাস
﴿فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ ٱللَّهُ مَرَضًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۢ بِمَا كَانُوا۟ يَكْذِبُونَ ١٠﴾
(১০) তাদের অন্তরে রোগ আছে, ফলে আল্লাহ তাদের রোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন; আর তাদের জন্য যন্ত্রণাকর শাস্তি রয়েছে কারণ তারা নিয়মিত মিথ্যা বলত!
শব্দে শব্দে বিশ্লেষণ
আয়াত ৮
| অংশ | নোট | অর্থ |
|---|---|---|
| وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ | قَالَ – يَقُولُ | আর মানুষের একাংশ (রয়েছে) যে বলে |
| مَن = (ٱلَّذِي) | আর মানুষের একাংশ (রয়েছে) যে বলে | |
| ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ | ءَامَنَ + نَا = ءَامَنَّا | আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিবসের প্রতি |
| بِ + ٱللَّهِ = بِٱللَّهِ | ঐ | |
| بِ + ٱلْيَوْمِ = بِٱلْيَوْمِ | ঐ | |
| وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ | بِ + مُؤْمِنِينَ | অথচ নয় তারা ঈমানদার |
﴿وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ ٨﴾
(৮) মানুষের মাঝে কিছু লোক এমন, যারা বলে: “আমরা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান এনেছি।” অথচ আদৌ তারা মুমিন নয়!
আয়াত ৯
| অংশ | নোট | অর্থ |
|---|---|---|
| يُخَٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ | خَادَعَ – يُخَادِعُ – يُخَادِعُونَ | তারা প্রতারণার আশ্রয় নেয় আল্লাহর (সাথে) এবং যারা ঈমান এনেছে (তাদের সাথে) |
| ءَامَنَ + وا = ءَامَنُوا۟ | ঐ | |
| وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّآ أَنفُسَهُمْ | خَدَعَ – يَخْدَعُ – يَخْدَعُونَ | অথচ না তারা প্রতারণা করে ব্যতীত তাদের নিজেদের (সাথে) |
| أَنفُسَهُمْ = أَنفُس (نَفْس) + هُمْ | অথচ তাদের নিজেদের (সাথে) ব্যতীত (অন্য কারও সাথে) তারা প্রতারণা করে না | |
| وَمَا يَشْعُرُونَ | شَعَرَ – يَشْعُرُ – يَشْعُرُونَ | অথচ তারা উপলব্ধি করে না |
﴿يُخَٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّآ أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ ٩﴾
(৯) আল্লাহ ও মুমিনদের সাথে প্রতারণা করতে গিয়ে তারা কেবল নিজেদেরই ধোঁকা দিয়ে থাকে – অথচ তারা তা টের পায় না!
আয়াত ১০
| অংশ | নোট | অর্থ |
|---|---|---|
| فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ | قُلُوب (قَلْب) + هِم | তাদের অন্তরসমূহের মধ্যে রোগ (আছে) |
| فَزَادَهُمُ ٱللَّهُ مَرَضًا | زَادَ + هُم + مَرَضًا | ফলে আল্লাহ তাদের রোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন |
| وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۢ بِمَا كَانُوا۟ يَكْذِبُونَ | كَانُوا۟ = كَانَ + و (ছিল তারা) | আর তাদের জন্য (রয়েছে) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি কারণ তারা মিথ্যা বলত |
| كَذَبَ – يَكْذِبُ + (ون) = يَكْذِبُونَ | ঐ | |
| كَانُوا۟ يَكْذِبُونَ (তারা মিথ্যা বলত) | ঐ | |
| بِمَا = بِ (সাবাব) + مَا (মাসদার) | ঐ |
ব্যাকরণগত উদাহরণ
| গঠন | অর্থ |
|---|---|
| عَلِمْتُ مَا حَاوَلْتَ | আমি তোমার চেষ্টার কথা জানি |
| نَصَحْتُ زَيْدًا بِمَا يَكْذِبُ | যায়দকে মিথ্যা বলার কারণে নসীহত করেছি |
| نَصَحْتُ زَيْدًا بِمَا يَكْذِبُ | যায়দকে নসীহত করেছি কারণ সে মিথ্যা বলে |
| نَصَحْتُ زَيْدًا بِمَا كَانَ يَكْذِبُ | যায়দকে নসীহত করেছি কারণ সে মিথ্যা বলত |
﴿فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ ٱللَّهُ مَرَضًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۢ بِمَا كَانُوا۟ يَكْذِبُونَ ١٠﴾
(১০) তাদের অন্তরে রোগ আছে, ফলে আল্লাহ তাদের রোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন; আর তাদের জন্য যন্ত্রণাকর শাস্তি রয়েছে কারণ তারা নিয়মিত মিথ্যা বলত!