তাফসীর সিরিজ ০০০৫ — বাক্বারা ১১–১৬
কুরআন উন্মোচন করেছে… মুনাফিকদের আসল চেহারা!
চ্যানেল: t.me/naseel | YouTube /@naseelshahrukh | YouTube /@২মিনিটকুরআন
প্রেক্ষাপট
মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত মজবুত হওয়ার পর অবিশ্বাসীদের একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ইসলামের প্রতি তাদের বিদ্বেষ গোপন করে বাহ্যিকভাবে মুসলিম পরিচয় গ্রহণ করেছিল। অন্তরে কুফরী গোপন করে প্রকাশ্যে মুসলিম পরিচয় গ্রহণকে ‘নিফাক’ বলা হয়। এ কাজ যে করে তার নাম ‘মুনাফিক’। মুসলিম পরিচয়ের দ্বারা একদিকে মুনাফিকরা মুসলিমদেরকে প্রতারিত করত, অন্যদিকে ইহুদী এবং মুশরিক নেতৃবৃন্দের সাথে তাদের সখ্যতা ও আঁতাত ছিল। এভাবে ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাস করে তারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সূরা আল-বাক্বারার ৮ থেকে ২০ নম্বর আয়াত মুনাফিকদের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ।
দ্রষ্টব্য: তাবারী ১/২৭৭-২৭৮
আয়াত ১১–১২
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ ﴿١١﴾ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَٰكِن لَّا يَشْعُرُونَ ﴿١٢﴾
(১১) আর যখন তাদের বলা হয় “পৃথিবীর বুকে [আল্লাহর] অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ো না!” তারা বলে: “আমরা তো কেবল সংশোধনকারী।”
(১২) শোন! কেবল এরাই [আল্লাহর] অবাধ্যতায় লিপ্ত, যদিও তারা তা টের পায় না!
ফাসাদ অর্থ
- ভাষাগত অর্থ: কোনো কিছুর কাম্য বা সুষ্ঠু অবস্থা পরিবর্তিত হওয়া
- কোনো কিছুর উপকারিতা নষ্ট হয়ে তা ক্ষতিকর হওয়া
- কোনো কিছু শুরু থেকেই নষ্ট বা ক্ষতিকর হওয়া
- মুফাসসিরগণ ফাসাদের তাফসীরে কুফরী ও পাপের উল্লেখ করেছেন
- কেউ আপাতদৃষ্টিতে কারও ক্ষতি না করলেও তার কুফরী ও পাপ ফাসাদ
- কারণ তার কাঙ্ক্ষিত উবুদিয়্যার অবস্থা নষ্ট হয়েছে
- দ্বিতীয়ত পাপ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ
- আনুগত্যের কারণেই পৃথিবী ও আকাশ সুষ্ঠু অবস্থা বিরাজ করে – আবুল আলিয়া
- পাপের কারণে দুর্যোগ নেমে আসে – সূরা আর রূম, ৩০ : ৪১
(তথ্যসূত্র কিতাব: মাওসূআতুত তাফসীর আল মাসূর)
সালাফদের বক্তব্য (মাওসূআতুত তাফসীর আল মাসূর থেকে)
- ৫৫৮ — আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও নবী (ﷺ)-এর একদল সাহাবী থেকে (সুদ্দীর সূত্রে, মুররা আল-হামদানী থেকে)।
- ৫৫৯ — আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে (সুদ্দীর সূত্রে, আবু মালিক ও আবু সালিহ থেকে): ﴿لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ﴾ প্রসঙ্গে — “ফাসাদ হলো কুফর ও পাপ কাজ (الكفر والعمل بالمعصية)।”
- ৫৬১ — আবুল আলিয়া থেকে (রাবী ইবনে আনাসের সূত্রে): অর্থ — যমীনে আল্লাহর অবাধ্যতা করো না; তাদের ফাসাদ ছিল আল্লাহর অবাধ্যতা; কারণ যে যমীনে আল্লাহর অবাধ্যতা করে বা অবাধ্যতার নির্দেশ দেয় সে যমীনে ফাসাদ করেছে; কেননা যমীন ও আকাশের সুস্থতা আনুগত্যের মাধ্যমেই (لأن صلاح الأرض والسماء بالطاعة)।
- ৫৬২ — মুজাহিদ থেকে (ইবনে জুরাইজের সূত্রে): যখন তারা পাপ করত তখন বলা হতো “এমনটা করো না”; তারা বলত “আমরা তো হেদায়েতের উপর আছি (إنما نحن على الهدى)।”
সূরা আর রূম ৩০:৪১
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ﴿٤١﴾
(৪১) মানুষের কৃতকর্মের কারণে জলে-স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যেন [আল্লাহ মানুষের] অপকর্মের একাংশের স্বাদ তাদেরকে আস্বাদন করাতে পারেন – যাতে তারা ফিরে আসে।
মানুষের পাপের কারণে জলে-স্থলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পাপাচার, জুলুম-নির্যাতন, রোগ-শোক কিংবা অন্যান্য বিপদাপদ ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের অপকর্মের প্রতিফলের অংশ হিসেবেই এগুলো ঘটে, যেন মানুষ সতর্ক হয়ে পাপ ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর আনুগত্যের পথে ফিরে আসে। তবে এগুলো মানুষের পাপের পরিপূর্ণ শাস্তি নয়, বরং এর খানিকটা অংশ মাত্র। যারা এতে সতর্ক হয়ে পাপ পরিত্যাগ করবে না, তাদের পূর্ণ প্রতিফল আখিরাতে অপেক্ষা করছে যা অত্যন্ত কঠোর।
দ্রষ্টব্য: বাদাইউত তাফসীর ২/৩১৩-৩১৫, ফাতহুল ক্বাদীর ৪/২৬৩, মাহাসিনুত তাউইল ৮/১৮, সাদী পৃ. ৬৪৩, তাফসীর ইবনু উসায়মীন—সূরা আর রূম পৃ. ২৫৩, আত তাফসীর আল মুহাররার
যাবতীয় কুফরী ও পাপ কাজ আরবী ‘ফাসাদ’ শব্দের অন্তর্ভুক্ত। যেমন: কুফরী কাজ, আল্লাহর অবাধ্যতা, মুনাফেকী, জুলুম-নির্যাতন, রাহাজানি, রক্তপাত, মুসলিমদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা, মানুষকে দ্বীনের পথে আসতে বাধা দেয়া ইত্যাদি।
তাবারী ১/২৯৯, ৩/৫৮২, তাফসীর ইবনু তায়মিয়া ১/৪৮৫, ইবনু কাসীর ১/২৮৭-২৮৮, সাদী পৃ. ৩২, আত তাফসীর আল মুহাররার ১/৮৮, ৫৮৪, মাওসূআতুত তাফসীর আল মাসূর ২/১০১-১০৩, ৩/৬৩৬-৬৩৭
মুসলিহ অর্থ
- দুই পক্ষের মাঝে মীমাংসাকারী
- নিজেকে সংশোধনকারী তথা সৎকর্মশীল
আয়াত ১৩
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ ۗ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَٰكِن لَّا يَعْلَمُونَ ﴿١٣﴾
(১৩) আর যখন তাদেরকে বলা হয়: “সবাই যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন।”, তারা বলে: “আমরাও কি তেমন ঈমান আনব যেমন ঈমান নির্বোধরা এনেছে?” শোন! নিশ্চয়ই কেবল এরাই নির্বোধ, অথচ সে কথা তারা জানে না!
এখানে ‘সবাই’ বলতে নবী মুহাম্মাদ (সা.) এঁর সাহাবীদেরকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ সাহাবীরা যেমনিভাবে আল্লাহ, ফেরেশতা, নবী-রাসূল, কিতাব, মৃত্যুর পরের জীবন ইত্যাদি সম্পর্কে প্রাপ্ত সংবাদের সত্যতাকে মৌখিক স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি অন্তরে এসবের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করার মাধ্যমে সত্যবাদিতার সাথে ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পালন করেছে – তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো।
দ্রষ্টব্য: তাবারী ১/৩০২, ইবনু কাসীর ১/২৮৯, সাদী পৃ. ৩২, মাওসূআতুত তাফসীর আল মাসূর ২/১০৫-১০৬
সাফীহ অর্থ
- যাদের বুদ্ধি অপরিপক্ক, কল্যাণ-অকল্যাণ সম্পর্কে অজ্ঞ। (তাবারী)
- চরম অজ্ঞ – কিসে কল্যাণ আছে না জানার পাশাপাশি যাতে ক্ষতি আছে সেটা বেছে নেয়। (ইবনুল কাইয়িম)
আয়াত ১৪
وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَىٰ شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ ﴿١٤﴾
(১৪) ঈমানদারদের সাক্ষাতে তারা বলে “আমরা ঈমান এনেছি।” আর যখন সরে গিয়ে নিভৃতে তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে: “আমরা তোমাদের সাথেই আছি, আমরা তো কেবল ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে থাকি।”
আরবীতে প্রত্যেক দুষ্ট-অবাধ্যকে ‘শয়তান’ বলা হয় – সে মানুষ হোক, জ্বিন হোক বা হোক কোন পশু। এখানে শয়তান বলতে মুনাফিকদের সঙ্গীসাথী ও নেতৃবৃন্দকে বোঝানো হয়েছে।
তাবারী ১/১০৯, ৩০৬, ইবনু কাসীর ১/২৯০-২৯১
আয়াত ১৫
اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ ﴿١٥﴾
(১৫) আল্লাহই তাদের সাথে বিদ্রূপ করেন, আর [কুফরী ও অবাধ্যতায়] বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরতে থাকা অবস্থায় [তাদের পরিত্যাগ করার মাধ্যমে] তাদের সীমালঙ্ঘন আরও বাড়িয়ে দেন।
এটি তাদের প্রতিফল, কারণ তারা আল্লাহর বান্দাদের সঙ্গে বিদ্রূপ করত। তাদের সঙ্গে আল্লাহর উপহাসের একটি দিক হলো, তাদের নিকৃষ্ট অবস্থাকেই আল্লাহ তাদের নিকট সুশোভিত করেন। ফলে তারা ভাবতে থাকা তারা মুমিনদের সাথেই আছে – যেহেতু আল্লাহ মুমিনদেরকে তাদের উপর চড়াও করেননি। আর কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে আল্লাহর উপহাসের একটি দিক হলো, তিনি মুমিনদের সঙ্গে তাদেরকেও বাহ্যিক আলো দেবেন। তারপর যখন মুমিনরা নিজেদের আলো নিয়ে সামনে অগ্রসর হবে, তখন মুনাফিকদের আলো নিভে যাবে। ফলে তারা আলো পাওয়ার পর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে দিশেহারা হয়ে যাবে। আশার পর এমন হতাশা কতই না কঠিন! – সাদী
সূরা আল হাদীদ ৫৭:১৩
يَوْمَ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءَكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَّهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِن قِبَلِهِ الْعَذَابُ ﴿١٣﴾
যেদিন মুনাফিক নরনারী ঈমানদারদেরকে বলবে: “তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা কর, তোমাদের আলো থেকে আমরা এক খণ্ড আলো নেব!” বলা হবে: “তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে গিয়ে আলোর খোঁজ কর।” তারপর [মুনাফিক ও মুমিনদের] মাঝখানে দরজা-ওয়ালা একটি দেয়াল দিয়ে দেয়া হবে – এর ভিতরে রহমত থাকবে আর বাইরের দিকে থাকবে শাস্তি।
“উপহাস” ও “কৌশল” যখন এমন আচরণ যেখানে সত্যকে অস্বীকার করা কিংবা জুলুমের উদ্দেশ্য মন্দ গোপন রেখে বাহ্যিকভাবে কল্যাণকামিতা প্রকাশ করা হয় – তখন তা নিন্দনীয়। কিন্তু মুনাফিকদের সাথে আল্লাহর উপহাস তাদের নিকৃষ্ট আচরণের প্রতিফল, তাই তা উত্তম ন্যায়বিচার ও প্রশংসনীয়। — ইবনু তায়মিয়া
আয়াত ১৬
أُولَٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ ﴿١٦﴾
(১৬) ওরাই হেদায়েতের বিনিময়ে বিভ্রান্তি কিনেছে, কিন্তু তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা সঠিক পথেও ছিল না।
মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য
- তারা পাপ-অপকর্ম ও অবিশ্বাসীদের সাথে আঁতাতকে ‘ইসলাহ’ দাবী করে
- তারা সাহাবীদেরকে ও প্রকৃত মুমিনদেরকে নির্বোধ মনে করে
- তারা বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী উভয় দলের সাথে সুসম্পর্ক বজায়ে রাখে
- তারা গোপনে মুমিনদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে
শব্দে শব্দে ব্যাকরণ
আয়াত ১১
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ — আর যখন তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়
- قِيلَ ← قَالَ (বলা হয়)
- لَهُمْ = لَ + هُمْ (তাদের উদ্দেশ্যে)
لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ — পৃথিবীর মধ্যে ফ্যাসাদ করো না
- تُفْسِدُوا ← أَفْسَدَ – يُفْسِدُ – تُفْسِدُ – تُفْسِدُونَ
- لَا تُفْسِدُوا ← لَا تُفْسِدُونَ (নুন উঠে যায়)
قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ — তারা বলে: আমরা তো কেবল সংশোধনকারী
- قَالُوا = قَالَ + و
- مُصْلِحُونَ ← أَصْلَحَ – مُصْلِح – مُصْلِحُونَ
আয়াত ১২
أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ — শোন: নিশ্চয়ই তারা তারাই ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী
- الْمُفْسِدُونَ ← أَفْسَدَ – مُفْسِد – مُفْسِدُونَ – الْمُفْسِدُونَ
وَلَٰكِن لَّا يَشْعُرُونَ — কিন্তু তারা উপলব্ধি করে না
- يَشْعُرُونَ ← شَعَرَ – يَشْعُرُ – يَشْعُرُونَ
আয়াত ১৩
آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ — তোমরা ঈমান আনো লোকেদের ঈমানের মত
- آمِنُوا = آمِن + و ← آمَنَ
- كَمَا آمَنَ النَّاسُ ← كَإِيمَان النَّاس ← كَ + مَا آمَنَ النَّاسُ
قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ — তারা বলে: আমরা ঈমান আনব কি? নির্বোধদের ঈমানের মত?
- أَنُؤْمِنُ ← آمَنَ – يُؤْمِنُ – نُؤْمِنُ – أَنُؤْمِنُ
- السُّفَهَاءُ ← سَفِيه – سُفَهَاءُ – السُّفَهَاءُ
أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَٰكِن لَّا يَعْلَمُونَ — শোন নিশ্চয়ই কেবল তারাই নির্বোধ, কিন্তু তারা তা জানে না
- يَعْلَمُونَ ← عَلِمَ – يَعْلَمُ – يَعْلَمُونَ
আয়াত ১৪
وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا — আর যখন তারা মিলিত হয় তাদের সাথে যারা ঈমান এনেছে তারা বলে আমরা ঈমান এনেছি
- لَقُوا = لَقِيَ + و
- آمَنُوا = آمَنَ + و
- قَالُوا = قَالَ + و
- آمَنَّا = آمَنَ + نَا
وَإِذَا خَلَوْا إِلَىٰ شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا — আর যখন তারা তাদের শয়তানদের দিকে (সরে গিয়ে তাদের সাথে) একান্তে মিলিত হয় বলে:
- شَيَاطِينِهِمْ = شَيَاطِين + هِم ← شَيْطَان – شَيَاطِين
- خَلَوْا = خَلاَ + و (بِ)
- অর্থ: انْصَرَفُوا إلى شياطينهم وخَلَوْا بهم — অর্থাৎ خَلاَ ক্রিয়ার সাথে إِلَى আসায় انْصَرَفَ (সরে যাওয়া) অর্থও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ — নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সাথেই আছি। আমরা তো কেবল উপহাসকারী।
- مُسْتَهْزِئُونَ = مُسْتَهْزِئ + ون
আয়াত ১৫
اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ — আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন
- يَسْتَهْزِئُ ← اِسْتَهْزَأَ – يَسْتَهْزِئُ
وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ — আর তাদেরকে ছাড় দেয়ার মাধ্যমে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে বৃদ্ধি করেন – তারা বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরতে থাকে
- يَمُدُّ ← مَدَّ – يَمُدُّ
- يَعْمَهُونَ ← عَمَهَ – يَعْمَهُ – يَعْمَهُونَ
আয়াত ১৬
أُولَٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ — ওরাই তারা যারা ক্রয় করেছে পথভ্রষ্টতা হেদায়েতের বিনিময়ে
- اشْتَرَوُا = اشْتَرَىٰ + و
- بِالْهُدَىٰ = بِ + الْهُدَىٰ
فَمَا رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ — কিন্তু তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি
- رَبِحَت ← رَبِحَ – رَبِحَت – مَا رَبِحَت
- تِّجَارَتُهُمْ = تِجَارَة (تِجَارَة) + هُمْ
وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ — আর তারা ছিল না হেদায়েতপ্রাপ্ত
- كَانُوا = كَانَ (সে ছিল) + و → كَانُوا (তারা ছিল)
- مُهْتَدِينَ ← اِهْتَدَى – مُهْتَدٍ + ين → مُهْتَدِينَ