মুত্তাকিদের পাঁচ বৈশিষ্ট্য (২:৩–৫)

আগের আয়াতে জেনেছি, কুরআন “মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত।” স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এই মুত্তাকি কারা, তাঁদের বৈশিষ্ট্য কী? কুরআন বুঝে পড়লে দেখা যায়, প্রশ্ন জাগামাত্রই আল্লাহ পরবর্তী আয়াতে উত্তর দেন। তিন থেকে পাঁচ নম্বর আয়াতে মুত্তাকিদের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য এসেছে, যেগুলোর আয়নায় আমাদের নিজেদের যাচাই করতে হবে।

الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ ۝ وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ۝ أُولَٰئِكَ عَلَىٰ هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে; আর যারা ঈমান আনে তার প্রতি যা তোমার প্রতি নাযিল হয়েছে এবং যা তোমার পূর্বে নাযিল হয়েছে, আর তারা আখিরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর তারাই সফলকাম।

হিদায়াতের দুই অর্থ ও ফাতিহা-বাকারার সংযোগ

আগেই দেখেছি হিদায়াতের দুটি অর্থ—এক, সত্য চিহ্নিতকারী জ্ঞান (হিদায়াতুল ইলম), যা সবার জন্য; এই অর্থে নবী-রাসূল ও দাঈরাও মানুষকে “হিদায়াত” দেন। আল্লাহ নবীকে বলেন, “নিশ্চয়ই তুমি সরল পথের দিকে পথ দেখাও” (সূরা আশ-শুরা, ৪২:৫২)। দুই, জ্ঞান অনুযায়ী চলার তাওফিক (হিদায়াতুত তাওফিক), যা কেবল আল্লাহ সৃষ্টি করেন। তাই তিনি নবীকে বলেন, “তুমি যাকে ভালোবাসো তাকে হিদায়াত দিতে পারবে না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন” (সূরা আল-কাসাস, ২৮:৫৬)। এতে আমাদের জন্য সান্ত্বনা—আমরা যাদের সবচেয়ে ভালোবাসি, তাদেরও ইসলামের পথে আনতে না পারলে বুঝতে হবে, তাওফিক কেবল আল্লাহর হাতে।

তবে “যারা আমার পথে চেষ্টা-সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথগুলোর দিকে পরিচালিত করব” (সূরা আল-আনকাবুত, ২৯:৬৯)—এখানে “পথ” বহুবচনে এসেছে, কারণ ইসলামে করণীয় বহু। তাই সামান্য তাকওয়া নিয়ে আল্লাহর কাছে এলেও প্রচুর হিদায়াত আশা করা যায়; যত বেশি তাকওয়া নিয়ে কুরআনের কাছে আসা হয়, তত বেশি হিদায়াত মেলে।

এখানে সূরা ফাতিহা ও সূরা বাকারার সুন্দর সংযোগ লক্ষণীয়: ফাতিহায় আমরা প্রার্থনা করেছি “ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম” (আমাদের সরল পথ দেখাও); বাকারার শুরুতেই এর উত্তর—”এই কিতাব মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত।” সূরা ও আয়াতের এই পারস্পরিক সংযোগ (মুনাসাবাত) নিয়ে ইমাম আল-বিকাঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর “নাযমুদ দুরার” এক অনন্য তাফসির।

প্রথম বৈশিষ্ট্য: গায়েবে ঈমান

মুত্তাকিদের প্রথম বৈশিষ্ট্য—তারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে। গায়েব মানে যা ইন্দ্রিয়ের অতীত, অদৃশ্য। গায়েবে ঈমান মানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ইন্দ্রিয়াতীত বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন। এটি অন্ধবিশ্বাস নয়—কুরআন-হাদিস বরং সর্বদা অন্ধবিশ্বাসের নিন্দা করেছে। একজন সত্যবাদী ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস যুক্তিসঙ্গত; আজও আদালতে বিশ্বস্ত সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচার হয়। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিশ্বাস করা যুক্তিসঙ্গত—এর পাঁচটি কারণ।

প্রথমত, তিনি নবুওয়াতের আগে-পরে শত্রুদের কাছেও বিশ্বস্ত ছিলেন; তাঁর উপাধিই ছিল “আল-আমিন।” দ্বিতীয়ত, তাঁর চরিত্র ছিল সর্বজনস্বীকৃত উত্তম; আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা নিকৃষ্টতম মানুষের কাজ, যা তাঁর সম্পর্কে কল্পনাও করা যায় না। তৃতীয়ত, তিনি ছিলেন উম্মি—আল্লাহ বলেন, “তুমি এর আগে কোনো কিতাব পড়োনি, নিজ হাতে লেখোনি; নতুবা বাতিলপন্থীরা সন্দেহ করত” (সূরা আল-আনকাবুত, ২৯:৪৮); অর্থাৎ তিনি লেখাপড়া জানলে আবু জাহল-উমাইয়ারা সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি তুলত। চতুর্থত, এই উম্মি নবীর মুখ থেকে এমন এক অতুলনীয় গ্রন্থ এলো, যা কবিতা বা গদ্য—কোনো শ্রেণিতেই পড়ে না; আর এর মতো একটি সূরা রচনার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হলো সেই যুগের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের—যারা ছিল তাঁর বিরোধী শিবিরে—তবু তারা পারল না (জিন ও মানুষ একত্র হয়েও: সূরা আল-ইসরা, ১৭:৮৮)। পঞ্চমত, মিথ্যা বলার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না; বরং দাওয়াত ছাড়তে তাঁকে ধন-সম্পদ ও ক্ষমতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন—মিথ্যাবাদীর তো একটি উদ্দেশ্য থাকে।

গায়েবে ঈমানের মূল বিষয় ছয়টি: আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, নবী-রাসূল, আখিরাত এবং তাকদির (ভালো-মন্দ)। তাই মুত্তাকির প্রথম পাঠ্য—ঈমান, আর যে বিষয়ে ঈমান শেখা যায় তার নাম আকিদা।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: সালাত কায়েম

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য—তারা সালাত কায়েম করে। সালাত “কায়েম” করার সুন্দর অর্থ সালাফ থেকে বর্ণিত। ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রুকু, সিজদা ও কিরাআত পূর্ণ করা এবং খুশুর সঙ্গে—মনোযোগ ও গুরুত্বের সঙ্গে—আদায় করা। হাসান আল-বাসরি (রহিমাহুল্লাহ) যুক্ত করেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত যথাযথভাবে, অজুসহ ও সময়মতো আদায় করা। কাতাদা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সময় রক্ষা, রুকু-সিজদা ও যত্নসহকারে সংরক্ষণ।

এই মানদণ্ডে নিজেদের যাচাই করা দরকার। মসজিদে যাঁরা যান তাঁরা সমাজের উত্তম মানুষ; অথচ সেই উত্তমদের সালাতের অবস্থাও অনেক সময় শোচনীয়—তাড়াহুড়া, রুকু থেকে সোজা না হওয়া, ধুপ করে সিজদায় যাওয়া, সিজদায় দুই পা উঠে থাকা, এমনকি অজুর মাসআলা না জানা। সালাত যথাযথ কায়েম করতে হলে অজু ও সালাতের বিধান জানা জরুরি—আর এই বিষয়ের নাম ফিকহুল ইবাদাত।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: রিযিক থেকে ব্যয়

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য—”আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।” এখানে “রাযাকনা” (আমি দিয়েছি)-তে বহুবচনের সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে মহিমা ও কর্তৃত্ব প্রকাশে (মাজমাউত তাযিম), বহুত্বের অর্থে নয়; আরবরা এ ভাষারীতি জানত বলে এতে কোনো বিভ্রান্তি হতো না।

লক্ষণীয়, এখানে “দান করে” বা “যাকাত দেয়” না বলে “ব্যয় করে” (ইউনফিকুন) বলা হয়েছে—শব্দটি ব্যাপক, যাতে সব ধরনের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত: যাকাত, সদকা, ব্যবসা-লেনদেন, এমনকি পরিবারের ভরণপোষণও। স্বামীর কর্তব্য স্ত্রীর জন্য কী ব্যয় করবে তা জানা; এসব বিধান না জানা দাম্পত্য সমস্যার একটি কারণ। আর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ; হাদিসে এসেছে, ইবলিসের কাছে তার সেই অনুচরই সর্বাধিক প্রিয়, যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায় (মুসলিম)। তাই এই ব্যয় ও দায়িত্ব সম্পর্কিত জ্ঞানের নাম ফিকহুল মুআমালাত।

রিযিক কেবল সম্পদ নয়। ইবনু আতিয়্যা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (যা আল-কুরতুবি উদ্ধৃত করেছেন), রিযিক দুই প্রকার—যা দিয়ে দেহ বাঁচে (খাদ্য, পানীয়, বস্ত্র, বাসস্থান, বাহন) এবং যা দিয়ে দ্বীন বাঁচে (জ্ঞান ও ঈমান)। তাই সম্পদের মতো জ্ঞান ও ঈমান থেকেও আল্লাহর জন্য ব্যয় করতে হয়—মানুষকে ঈমানের দিকে আহ্বান করা এই ব্যয়েরই অংশ।

চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: সব ওহিতে ঈমান

চতুর্থ বৈশিষ্ট্য—”তারা ঈমান আনে তার প্রতি যা তোমার প্রতি নাযিল হয়েছে এবং যা তোমার পূর্বে নাযিল হয়েছে।” নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি কী নাযিল হয়েছে? আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন” (সূরা আন-নিসা, ৪:১১৩)। ইবনু কাসির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে “কিতাব” মানে কুরআন আর “হিকমত” মানে সুন্নাহ; দুটিই ওহি। তাই কুরআন ও সুন্নাহ—উভয়ের প্রতিই ঈমান আনতে হবে। এ থেকে স্পষ্ট, কেউ যদি বলে “আমি কেবল কুরআন মানি, হাদিস নয়,” তবে তা স্ববিরোধী; কারণ সত্যিকার কুরআন-অনুসারী হলে তাকে এই আয়াত অনুযায়ী সুন্নাহতেও ঈমান আনতে হবে। এক আয়াত দিয়ে অন্য আয়াতের এই ব্যাখ্যাকে বলে তাফসিরুল কুরআন বিল কুরআন, যাতে ইবনু কাসির ও আশ-শিনকিতি (রহিমাহুমাল্লাহ) বিশেষ খ্যাত।

আর “যা তোমার পূর্বে নাযিল হয়েছে”—পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ, যেমন তাওরাত ও যাবুর; আমরা এসবের মূল অবতীর্ণ রূপে ঈমান আনি, তবে বর্তমানে বিকৃত রূপে নয়। এটিও আকিদার অংশ।

পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: আখিরাতে দৃঢ় প্রত্যয়

পঞ্চম বৈশিষ্ট্য—”তারা আখিরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।” “ইউকিনুন” শব্দটি “ইয়াকিন” (দৃঢ় নিশ্চয়তা) থেকে; অর্থাৎ আখিরাত সম্পর্কে কেবল ভাসা-ভাসা ধারণা নয়, দৃঢ় প্রত্যয়। তাই আখিরাত সম্পর্কেও জ্ঞান রাখা প্রয়োজন।

“তারাই সফলকাম”

“তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর তারাই সফলকাম।” “রব” শব্দে একাধিক অর্থ নিহিত—স্রষ্টা, পরিচালক (মুদাব্বির), রিযিকদাতা, রক্ষক, প্রতিপালক, শিক্ষাদাতা; তবে সবচেয়ে মৌলিক অর্থ স্রষ্টা, যা কেবল আল্লাহর জন্যই প্রযোজ্য—তাই কেবল তাঁরই ইবাদত হয়।

“তারাই সফলকাম”-এ “হুম” (দামিরুল ফাসল) দুটি অর্থ যোগ করে। এক, সাফল্য কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ (হাসর)—অন্য কেউ সফল নয়, কেবল এই পাঁচ বৈশিষ্ট্যধারী মুত্তাকিরাই সফল। দুই, তাদের সাফল্য নিশ্চিত (তাকিদ)। আবু হাইয়ান (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর “আল-বাহরুল মুহিত”-এ “ফালাহ”-এর অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন (ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, ইবনু জারির ও ইবনু আবি হাতিম যা উল্লেখ করেছেন): সব কাঙ্ক্ষিত বিষয় অর্জন এবং সব অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় থেকে মুক্তি। দুনিয়ার সাফল্য প্রায়ই আংশিক—কেউ বড় পদ পায়, কিন্তু পরিবারকে সময় দিতে পারে না; কাঙ্ক্ষিতের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিতও জোটে। কিন্তু মুত্তাকিদের জান্নাতি সাফল্য পূর্ণ—সব কামনা পূর্ণ হবে, সব অনাকাঙ্ক্ষিত থেকে মুক্তি মিলবে।

ভাষাগত কয়েকটি লক্ষণীয় দিক

কয়েকটি ভাষাগত বিষয় অর্থ বুঝতে সহায়ক। আরবি ক্রিয়ার তিন রূপ—মাদি (অতীত), মুদারি (বর্তমান/ভবিষ্যৎ, প্রসঙ্গ থেকে নির্ধারিত) ও আমর (আদেশ)। যেমন “আকামা” (কায়েম করল, মাদি) থেকে “ইউকিমু” (মুদারি); ওয়াও-নুন যুক্ত হয়ে “ইউকিমুন” (তারা কায়েম করে)। এখানে মুত্তাকিদের স্থায়ী বৈশিষ্ট্য বোঝাতে মুদারি বর্তমান অর্থে—প্রসঙ্গ থেকেই তা বোঝা যায়। একইভাবে “ইউমিনুন” (তারা ঈমান আনে), “ইউনফিকুন” (তারা ব্যয় করে)।

“ইউমিনুনা বিল গায়ব”-এ “বি” এখানে ক্রিয়াকে তার কর্মের সঙ্গে যুক্ত করে (বাউত তাদিয়া); কিছু ক্রিয়া সরাসরি কর্ম ধরে, কিছু ক্রিয়া মধ্যবর্তী অক্ষরের মাধ্যমে—”ইউমিনু” তেমন ক্রিয়া, তাই “বি” প্রয়োজন। “উনজিলা” (নাযিল করা হয়েছে) কর্মবাচ্য (মাজহুল), যেখানে কর্তা উহ্য; আর “ইলাইকা”-র “কা” সম্বোধিত ব্যক্তিকে (নবীকে) বোঝায়। “বিল আখিরাতি হুম ইউকিনুন”-এও “বি” দিয়ে ক্রিয়াকে কর্মের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

শিক্ষা

মুত্তাকিরাই কেবল কুরআনের হিদায়াতে পূর্ণ উপকৃত হয়, আর তাদের পাঁচ বৈশিষ্ট্য একইসঙ্গে যেন এক পাঠ্যসূচি: গায়েবে ঈমান, সব ওহিতে ঈমান ও আখিরাতে দৃঢ় প্রত্যয়—এসবের জন্য আকিদার জ্ঞান; সালাত কায়েম—এর জন্য ফিকহুল ইবাদাত; আর রিযিক থেকে ব্যয়—এর জন্য ফিকহুল মুআমালাত। গায়েবে ঈমান অন্ধবিশ্বাস নয়, বরং সত্যবাদী নবীর সাক্ষ্যভিত্তিক যুক্তিসংগত বিশ্বাস।

সালাত কায়েম মানে নিছক পড়া নয়, বরং রুকু-সিজদা-কিরাআত পূর্ণ করে, সময়মতো ও খুশুর সঙ্গে আদায় করা—সালাফের এই মানদণ্ডে নিজেদের যাচাই করা জরুরি। “ব্যয়” শব্দের ব্যাপকতায় ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব—পরিবারের ভরণপোষণসহ সব লেনদেন—অন্তর্ভুক্ত; আর রিযিক দেহের খোরাকের পাশাপাশি জ্ঞান ও ঈমানও, যা থেকেও আল্লাহর জন্য ব্যয় করতে হয়। সবশেষে, প্রকৃত সাফল্য কেবল এই মুত্তাকিদেরই, আর তা পূর্ণ ও নিশ্চিত—দুনিয়ার আংশিক সাফল্যের মতো নয়।