সূরা আল-বাকারা ২ঃ৪২ — সত্যকে মিথ্যায় মিশিও না, সত্য গোপন কোরো না
আগের আয়াতে (২ঃ৪১) আহলে কিতাবকে নিষেধ করা হয়েছিল তুচ্ছ স্বার্থে আল্লাহর আয়াত বিকিয়ে দেওয়া থেকে — অর্থাৎ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিবরণ গোপন বা বিকৃত করা থেকে। এই আয়াতে সেই একই প্রসঙ্গে দুটি ঘনিষ্ঠ নিষেধাজ্ঞা আসছে: সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে না ফেলা, আর জেনে-বুঝে সত্য গোপন না করা।
وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
Wa lā talbisū-l-haqqa bi-l-bātili wa taktumū-l-haqqa wa antum taʿlamūn
“আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত কোরো না, এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন কোরো না।”
সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত কোরো না
“ওয়ালা তালবিসুল হাক্কা বিল বাতিল” — সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে একাকার করে দিও না। “তালবিস” অর্থ ঢেকে দেওয়া বা গুলিয়ে ফেলা — সত্য ও মিথ্যাকে এমনভাবে মিশিয়ে দেওয়া যে সাধারণ মানুষ আর দুটোকে আলাদা করতে পারে না। আহলে কিতাবের পন্ডিতরা তাদের কিতাবের সত্য বক্তব্যের সাথে নিজেদের বিকৃতি মিশিয়ে দিয়েছিল, যেন শেষ নবীর প্রকৃত বিবরণ মানুষের চোখে ঝাপসা হয়ে যায়।
জেনে-বুঝে সত্য গোপন কোরো না
“ওয়া তাকতুমুল হাক্কা ওয়া আনতুম তালামুন” — এবং সত্য গোপন কোরো না, অথচ তোমরা জানো। এখানে “তোমরা জানো” কথাটিই অপরাধকে গুরুতর করে তোলে। তারা অজ্ঞতাবশত ভুল করছিল না; বরং যে সত্য তারা নিশ্চিতভাবে জানত — নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্যতা — তা-ই তারা সচেতনভাবে চেপে যাচ্ছিল। জেনে-বুঝে সত্য গোপন করা সবচেয়ে নিন্দনীয়, কারণ এতে জ্ঞানকে সত্য প্রতিষ্ঠার বদলে সত্য ঢাকার কাজে লাগানো হয়।
শিক্ষা
এই দুই নিষেধাজ্ঞা একে অপরের পরিপূরক: কখনো সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে ঝাপসা করে দেওয়া হয়, আবার কখনো সত্যকে পুরোপুরি চেপে রাখা হয় — দুটোই সত্যকে মানুষের কাছ থেকে আড়াল করার কৌশল, আর দুটোই জেনে-বুঝে করা হলে অপরাধ আরও ভারী। এর বিপরীতে বিশ্বাসীর কর্তব্য স্পষ্ট: জানা সত্যকে অবিকৃতভাবে, স্পষ্ট করে মানুষের সামনে তুলে ধরা — গোপন করা বা অন্য কিছুর সাথে মিশিয়ে দেওয়া নয়।