তাফসির-যাত্রার সূচনা: হুরুফে মুকাত্তাআত ও কুরআনের পরিচয় (২:১–২)

এই আলোচনার লক্ষ্য গোটা কুরআনের অর্থ জানা, এর শিক্ষা অনুধাবন করা এবং জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন। যাত্রা শুরু হচ্ছে সূরা আল-বাকারা দিয়ে। প্রথম দুই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বিচ্ছিন্ন অক্ষর “আলিফ লাম মিম” দিয়ে সূচনা করে কুরআনের পরিচয় দিচ্ছেন—এটি এমন এক কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত। এই দুই আয়াত বুঝতে গিয়ে তাফসিরের কয়েকটি মৌলিক পদ্ধতিও আমাদের সামনে আসবে।

الم ۝ ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ

আলিফ লাম মিম। এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত।

সূরা আল-বাকারার ফজিলত

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ، إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ

“তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না; নিশ্চয়ই যে ঘরে সূরা আল-বাকারা পড়া হয়, শয়তান তা থেকে পালিয়ে যায়।” (মুসলিম)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ঘর যেন কুরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতে সজীব থাকে, শূন্য-নীরব কবরের মতো না হয়ে যায়; আর সূরা আল-বাকারা শয়তানের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী রক্ষাকবচ।

আরেকটি হাদিসে এসেছে:

اقْرَؤُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ

“তোমরা কুরআন পড়ো, কারণ কিয়ামতের দিন তা তার সঙ্গীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে।” (মুসলিম)। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়: “কুরআন পড়ো” বলতে কেবল না বুঝে অক্ষর পাঠ বোঝানো হয়নি। অন্য যেকোনো গ্রন্থ পড়তে বললে আমরা বুঝি অর্থ বুঝে পড়তে হবে; কেবল কুরআনের বেলায়ই আমরা ধরে নিই না বুঝে পড়ার কথা। অথচ আল্লাহ কুরআন নাযিল করেছেন অর্থ বোঝা ও জানার জন্য। না বুঝে তিলাওয়াতেও সওয়াব আছে সত্য, কিন্তু “কুরআনের সঙ্গী” (সাহিবুল কুরআন)—যে কিয়ামতে সুপারিশপ্রাপ্ত হবে—সে-ই, যে কুরআন তিলাওয়াত করে, অর্থ জানে, অন্তরে এর ঈমান রাখে, অঙ্গে এর আমল করে এবং চরিত্রে এর আখলাক ধারণ করে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন, তোমরা দুটি আলোকোজ্জ্বল সূরা—আল-বাকারা ও আলে ইমরান—পড়ো; কারণ কিয়ামতের দিন এই দুই সূরা দুই খণ্ড মেঘ বা ডানা মেলা পাখির ঝাঁকের মতো এসে তাদের সঙ্গীদের পক্ষে সুপারিশ করবে। আর সূরা আল-বাকারা সম্পর্কে এসেছে:

تَعَلَّمُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ وَلَا تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ

“তোমরা সূরা আল-বাকারা শেখো, কারণ তা গ্রহণ করা বরকত, ত্যাগ করা আক্ষেপের কারণ, আর জাদুকররা তার মোকাবিলা করতে পারে না।” (মুসলিম)। লক্ষণীয়, সাহাবিগণের ভাষায় কেউ কোনো সূরা “শিখেছে” বা “পড়েছে” মানে ছিল—তা মুখস্থ করা, অর্থ বোঝা, এর বিধি-বিধান আয়ত্ত করা ও বাস্তবায়ন করা, সব মিলিয়ে। সূরা আল-বাকারা ও আলে ইমরান মাদানি যুগে নাযিল হয়েছে, মুমিন সমাজের জন্য বহু বিধান নিয়ে; তাই এ দুই সূরার গুরুত্ব বিশেষ।

তাফসিরের ভিত্তি: সালাফের বোঝাপড়া

কুরআন কার প্রতি নাযিল হয়েছিল? খাঁটি আরবি ভাষাভাষী আরবদের প্রতি, যাঁরা ভাষা শুনেই এর মূল অর্থ বুঝতে পারতেন। এ কারণেই কুরআনকে বারবার “আরবি কুরআন” বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে আল্লাহ একে সহজ করে দিয়েছেন। ফলে সাহাবিগণ ও তাঁদের সমকালীনরা কুরআনের সিংহভাগ ব্যাখ্যা ছাড়াই বুঝতেন; কেবল কিছু শব্দ বা যেসব ক্ষেত্রে শরিয়তে বিশেষ অর্থ যুক্ত হয়েছে, সেগুলোই ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতো। তাই সাহাবি ও তাবিয়িগণ আজকের মতো শব্দে-শব্দে তাফসির করতেন না; প্রয়োজন দেখা দিলেই কেবল ব্যাখ্যা করতেন। এ থেকে একটি নীতি স্পষ্ট: কোনো শব্দ বিশেষভাবে ব্যাখ্যা করা না হলে ধরে নিতে হবে তা আরবিতে এর বাহ্যিক অর্থেই ব্যবহৃত।

এর একটি উদাহরণ যুলুম-সংক্রান্ত আয়াত। আল্লাহ বলেন, “যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুমের সঙ্গে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা, আর তারাই সৎপথপ্রাপ্ত” (সূরা আল-আনআম, ৬:৮২)। সাহাবিগণ প্রথমে আরবি বাহ্যিক অর্থে বুঝলেন—ঈমানের পর কোনো যুলুম (ছোট-বড় যেকোনো অন্যায়) না করলে তবেই নিরাপত্তা; এতে তাঁরা চিন্তিত হলেন, কারণ কে-ই বা সব যুলুম থেকে বাঁচতে পারে? তাঁরা চুপ থাকেননি, প্রশ্ন করলেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্পষ্ট করলেন, এখানে “যুলুম” মানে শিরক—লুকমান (আলাইহিস সালাম)-এর বাণীর আলোকে: “হে বৎস, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করো না; নিশ্চয়ই শিরক বড় যুলুম” (সূরা লুকমান, ৩১:১৩)। লক্ষণীয়, সাহাবিগণ আয়াত না বুঝে বসে থাকেননি; বাস্তবায়নের তাগিদেই অর্থ জানতে উদ্‌গ্রীব ছিলেন।

এসব ব্যাখ্যা সাধারণত বর্ণনার আকারে পাওয়া যায়—অমুক আয়াত সম্পর্কে ইবনু আব্বাস বা ইবনু মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই বলেছেন, সনদসহ। এই তিন প্রজন্ম—সাহাবি, তাবিয়ি ও তাবি-তাবিয়িন—কে বলা হয় সালাফ; রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাক্ষ্যে তাঁরা শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম, তাই কুরআন সম্পর্কে তাঁদের বোঝাপড়াই আমাদের তাফসিরের ভিত্তি। “সালাফ” কোনো দলের নাম নয়; এটি ইসলামের মূলধারা, কারণ দ্বীন নতুন করে কেউ আবিষ্কার করবে না—কুরআন-হাদিসের মূল ও তার ব্যাখ্যা আমরা এই তিন প্রজন্মের হাত ধরেই পেয়েছি। এই বর্ণনাগুলো একত্র করে বিশ্লেষণসহ উপস্থাপনকারী প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ ইমাম আত-তাবারি (রহিমাহুল্লাহ)-এর তাফসির (মৃত্যু ৩১০ হিজরি), যিনি সালাফের বক্তব্যের সঙ্গে ভাষাবিদদের মতামতও যুক্ত করেছেন।

হুরুফে মুকাত্তাআত: আলিফ লাম মিম

প্রথম আয়াত “আলিফ লাম মিম”—এগুলো বিচ্ছিন্ন অক্ষর (হুরুফে মুকাত্তাআত)। যেকোনো ভাষার মতোই বিচ্ছিন্ন অক্ষরের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই; অক্ষর মিলে শব্দ, শব্দ মিলে বাক্য অর্থ দেয়। কুরআনের ২৯টি সূরার শুরুতে এমন বিচ্ছিন্ন অক্ষর আছে, আর মোট অক্ষরসংখ্যা চৌদ্দ।

এসব অক্ষরের তাৎপর্য নিয়ে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো সহিহ বর্ণনা নেই, তবু মুফাসসিরগণ অতীত থেকেই এর অর্থ ও ইঙ্গিত অনুসন্ধান করেছেন। এখানে একটি ভুল ধারণা সংশোধন জরুরি: অনেকে বলেন, “হুরুফে মুকাত্তাআতের কোনো তাফসির নেই, কেউ কিছু বলেননি, কেবল আল্লাহই ভালো জানেন।” অথচ সালাফ এ ব্যাপারে চুপ থাকেননি; তাঁরা এর তাৎপর্য নিয়ে বহু মত দিয়েছেন—যা প্রমাণ করে অর্থ বোঝার ব্যাপারে তাঁদের আগ্রহ ও নিষ্ঠা। ইবনুল জাওযি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর “যাদুল মাসির” গ্রন্থে এ সম্পর্কে কয়েকটি মত একত্র করেছেন: কেউ বলেছেন এগুলো আল্লাহর ইসমে আজম বা মহানামের ইঙ্গিত; কেউ বলেছেন এসব আল্লাহর নাম, যেগুলোর কসম তিনি করেছেন; কেউ বলেছেন এগুলো কুরআনের বা সূরাগুলোর নাম; কেউ বলেছেন এগুলো কোনো বাক্যের সংক্ষিপ্তরূপ—যেমন ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, “আলিফ লাম মিম” মানে “আনাল্লাহু আলাম” (আমি আল্লাহ, সর্বাধিক জ্ঞানী)।

তবে সবচেয়ে শক্তিশালী মত—যা ইবনু কাসির (রহিমাহুল্লাহ) সমর্থন করেছেন এবং সাম্প্রতিক যুগে ইবনু উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ)—এই যে, এই অক্ষরগুলো কুরআনের ইজায বা অলৌকিকতার প্রতি ইঙ্গিত করে। যেন আরবদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হচ্ছে: এই যে কুরআন, তা তোমাদের চেনা এই অক্ষরগুলোরই সমন্বয়; অথচ এমন একটি সূরাও রচনা করা তোমাদের সাধ্যাতীত—সুতরাং বোঝো, এই কুরআন আল্লাহরই পক্ষ থেকে। যেহেতু কোনো মতই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়, তাই কোনোটিকে নিশ্চিতভাবে সত্য বা মিথ্যা বলা যায় না।

“এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই”

দ্বিতীয় আয়াতে “জালিকা” শব্দটি ইঙ্গিতবাচক (ইসমুল ইশারা), যা সাধারণত দূরের বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করতে ব্যবহৃত হয়; কাছের বস্তুর জন্য আসে “হাজা।” কুরআন তো আমাদের কাছেই—তবু “হাজাল কিতাব” না বলে “জালিকাল কিতাব” বলার তাৎপর্য কী? ইবনু উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এতে কুরআনের উচ্চ মর্যাদার দিকে ইঙ্গিত—যেন বলা হচ্ছে এই কিতাবের মর্যাদা অতি উঁচু, আর যারা একে আঁকড়ে ধরবে তাদের মর্যাদাও উঁচু হবে।

“লা রাইবা ফিহি”—এতে কোনো সন্দেহ নেই। এর তিনটি অর্থ, আর তিনটিই এখানে গ্রহণযোগ্য: এক, এই কুরআন যে সত্য তাতে কোনো সন্দেহ নেই; দুই, এর কোনো অংশে সন্দেহ বা ভুলের অবকাশ নেই; তিন, এটি যে রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে নাযিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। একটি আয়াত অন্য আয়াত দিয়ে ব্যাখ্যা করলে এই তিন অর্থেরই সমর্থন মেলে। আল্লাহ বলেন, “তারা কি কুরআন নিয়ে গভীরভাবে ভাবে না? এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে এলে তারা এতে বহু অসংগতি পেত” (সূরা আন-নিসা, ৪:৮২)। কুরআনে বিশ্বাস, ইবাদত, অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র, যুদ্ধ, প্রকৃতি—এত বিচিত্র বিষয় সত্ত্বেও এর কোনো অংশ অপর অংশের বিরোধী নয়; আপাত অসংগতি মনে হলেও গভীরে গেলে কোনো বিরোধ থাকে না। আরেক আয়াতে এসেছে, “এই কিতাবের অবতরণ, যাতে কোনো সন্দেহ নেই, রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে” (সূরা আস-সাজদা, ৩২:২)।

এক আয়াত অন্য আয়াত দিয়ে ব্যাখ্যা করার এই পদ্ধতিকে বলা হয় “তাফসিরুল কুরআন বিল কুরআন”—তাফসিরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। এতে খ্যাতি অর্জন করেছেন দুই মুফাসসির: ইবনু কাসির (রহিমাহুল্লাহ), এবং সাম্প্রতিক যুগে মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শিনকিতি (রহিমাহুল্লাহ), যাঁর গ্রন্থ “আদওয়াউল বায়ান।”

“মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত”

এবার “হুদাল্লিল মুত্তাকিন”—মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত। মুত্তাকি সেই ব্যক্তি যার তাকওয়া আছে। তাকওয়া হলো আল্লাহর আদেশ পালন ও নিষেধ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করা। এর একটি অন্তর্গত দিক আছে, একটি বাহ্যিক দিক। অন্তর্গত দিকের শুরু ভয় থেকে—আল্লাহর অবাধ্যতা করলে তিনি শাস্তি দেবেন, এই ভয় থেকে আত্মরক্ষার তাগিদ জন্মে; আর সেই রক্ষার জন্য আদেশ-নিষেধ মেনে চলা তাকওয়ার বাহ্যিক দিক।

এখানে একটি প্রশ্ন ওঠে: কুরআন কি তবে কেবল মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত? অথচ আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল হয়েছে “হুদাল্লিন্নাস”—সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াত (সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৫)। উভয়ই সঠিক, কারণ হিদায়াতের দুটি অর্থ আছে। এক অর্থ—সত্য চিহ্নিতকারী জ্ঞান (হিদায়াতুল ইলম); এই অর্থে কুরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াত, কারণ এটি সবার সামনে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করে। আরেক অর্থ—সেই জ্ঞান অনুসরণের তাওফিক বা সামর্থ্য (হিদায়াতুত তাওফিক); এই অর্থে কুরআন সবার জন্য হিদায়াত নয়, কারণ সত্য জেনেও সবাই তা গ্রহণ করে না—কেবল মুত্তাকিরাই কুরআন অনুসরণে উপকৃত হয়।

এর দৃষ্টান্ত আবু তালিব, যিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেছিলেন, তিনি জানেন এই দ্বীনই সত্য, তবু বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগের “অপবাদ” মেনে নিতে পারলেন না। এক তুচ্ছ আত্মমর্যাদাবোধের কারণে সত্য জেনেও তিনি তা গ্রহণ করলেন না। তাই আল্লাহর কাছে হিদায়াত চাইতে গিয়ে আমরা কেবল জ্ঞান নয়, জ্ঞান অনুযায়ী আমলের তাওফিকও চাইব—যেন সত্যকে সত্য জেনে অনুসরণ করতে পারি এবং মিথ্যাকে মিথ্যা জেনে এড়িয়ে চলতে পারি।

শিক্ষা

কুরআন নাযিল হয়েছে অর্থ বুঝে জানা ও আমল করার জন্য; না বুঝে তিলাওয়াতেও সওয়াব আছে, কিন্তু কিয়ামতে যে সুপারিশপ্রাপ্ত “সাহিবুল কুরআন,” সে কুরআন বোঝে, অন্তরে এর ঈমান, অঙ্গে এর আমল ও চরিত্রে এর আখলাক ধারণ করে। তাফসিরের প্রকৃত ভিত্তি সালাফের বোঝাপড়া—দ্বীন নতুন করে আবিষ্কারের নয়, বরং শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্মের হাত ধরে প্রাপ্ত; মতভেদ নিরসনে এই মূলেই ফিরে যেতে হয়।

হুরুফে মুকাত্তাআতের নিশ্চিত অর্থ হাদিসে না থাকলেও সালাফ এর তাৎপর্য অনুসন্ধানে নিষ্ঠাবান ছিলেন, আর সবচেয়ে শক্তিশালী মত অনুযায়ী এগুলো কুরআনের ইজাযের দিকে ইঙ্গিত করে। কুরআন এমন কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই—তা সত্য, নির্ভুল ও রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ; আর এক আয়াতকে অন্য আয়াত দিয়ে ব্যাখ্যা করাই তাফসিরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। সবশেষে, হিদায়াত দুই প্রকার—সত্য চিহ্নিতকারী জ্ঞান, যা সবার জন্য; আর অনুসরণের তাওফিক, যা কেবল মুত্তাকিদের; তাই আমাদের প্রার্থনা কেবল জ্ঞানের নয়, জ্ঞান অনুযায়ী আমলের তাওফিকেরও।