সূরা আল-বাকারা ২ঃ৫৯ — কথা বদলে দেওয়া ও আকাশ থেকে শাস্তি

আগের আয়াতে (২ঃ৫৮) বনু ইসরাইলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল — বায়তুল মাকদিসে বিনয়ের সাথে, নতশিরে প্রবেশ করো আর “হিত্তা” বলে ক্ষমা চাও। এই আয়াতে সেই আদেশের বিপরীতে তাদের একদলের বিদ্রূপ ও তার পরিণতি বর্ণিত — যারা জালেম ছিল তারা নির্দেশিত কথা বদলে দিল, আর তার ফলে তাদের উপর আকাশ থেকে শাস্তি নেমে এলো।

فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَنزَلْنَا عَلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا رِجْزًا مِّنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ

Fa-baddala-lladhīna zalamū qawlan ghayra-lladhī qīla lahum fa-anzalnā ʿala-lladhīna zalamū rijzan mina-s-samāʾi bimā kānū yafsuqūn

“কিন্তু যারা জালেম ছিল তারা তাদের যা বলতে বলা হয়েছিল, তার পরিবর্তে ভিন্ন একটি কথা বলল; ফলে সেই জালেমদের উপর আমি আকাশ থেকে শাস্তি অবতীর্ণ করলাম, তাদের অবাধ্যতার কারণে।”

“যারা জালেম, তারা কথা বদলে দিল”

“ফাবাদ্দালাল্লাজিনা জালামু” — কিন্তু যারা জালেম ছিল তারা বদলে দিল। এখানে “ফা” শব্দটি “কিন্তু” অর্থে এসেছে, আর “বাদ্দালা” অর্থ পরিবর্তন করা। লক্ষণীয়, আয়াতে বলা হয়েছে “যারা জালেম ছিল” — অর্থাৎ তাদের একটি দল, সবাই নয়। এই জালেমরা “কাওলান গাইরাল্লাজি কিলা লাহুম” — তাদের যা বলতে বলা হয়েছিল, তার পরিবর্তে ভিন্ন একটি কথা বলল। বিনয়ের শব্দ “হিত্তা”র বদলে তারা এক অর্থহীন বিদ্রূপাত্মক কথা বলল (“হাব্বাতুন ফি শাআরাতিন” — চুলের মধ্যে গমের দানা জাতীয় কিছু), যা আগে আলোচিত হয়েছে। বিনয়ের নির্দেশকে তারা ঠাট্টায় পরিণত করল।

“আকাশ থেকে শাস্তি” — তাদের অবাধ্যতার কারণে

এর ফলাফল — “ফা-আনজালনা আলাল্লাজিনা জালামু রিজজান মিনাস সামা,” ফলে সেই জালেমদের উপর আমি আকাশ থেকে শাস্তি অবতীর্ণ করলাম। এখানে আবারও “যারা জালেম” বলা হয়েছে — অর্থাৎ শাস্তি নেমেছিল বিশেষভাবে সেই অন্যায়কারীদের উপর, সবার উপর নয়। “রিজজ” অর্থ শাস্তি বা আজাব; এটি ঠিক কী ধরনের শাস্তি ছিল, তা এখানে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

শেষে বলা হচ্ছে “বিমা কানু ইয়াফসুকুন” — তাদের অবাধ্যতার কারণে। “ফাসাকা” অর্থ অবাধ্য হওয়া, সীমা লঙ্ঘন করা; “কানু ইয়াফসুকুন” অর্থ তারা অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকত। এখানে “বিমা”-র “বা” কারণ নির্দেশ করছে — অর্থাৎ তাদের বারবার অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকার কারণেই এই শাস্তি। কুরআনে এই ধরনের বাক্যাংশ বারবার আসে — “বিমা কানু ইয়াফসুকুন” (কারণ তারা অবাধ্য হতো), “বিমা কানু ইয়াকফুরুন” (কারণ তারা অবিশ্বাস করত), “বিমা কানু ইয়াকজিবুন” (কারণ তারা মিথ্যা বলত) — প্রতিটিই কর্মের সাথে পরিণতির সম্পর্ক স্পষ্ট করে দেয়।

শিক্ষা

এই আয়াত একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনসাফের দিক তুলে ধরে: শাস্তি নেমেছিল কেবল “যারা জালেম” তাদের উপর — আল্লাহ অন্যায়কারীকেই তার অন্যায়ের জন্য পাকড়াও করেন। আর সেই শাস্তির কারণও স্পষ্ট — তাদের বিচ্ছিন্ন কোনো একটি ভুল নয়, বরং অবাধ্যতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়া। বিনয়ের একটি সহজ শব্দকে ঠাট্টায় পরিণত করা তাদের সেই অভ্যস্ত অবাধ্যতারই বহিঃপ্রকাশ। আমাদের জন্য শিক্ষা স্পষ্ট: আল্লাহর আদেশকে হালকা করে দেখা বা দ্বীনি বিষয়কে ঠাট্টার পাত্র বানানো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে; আর প্রকৃত নিরাপত্তা বিনয় ও আনুগত্যের মধ্যেই।