দুই চেহারা: মুমিনদের সামনে ও শয়তানদের কাছে

মুনাফিকদের চরিত্রের আরেকটি দিক এই আয়াতে উন্মোচিত হয় — তাদের দ্বিমুখিতা। বিশ্বাসীদের সামনে তাদের এক রূপ, আর নিজেদের সঙ্গীদের মাঝে আরেক রূপ।

وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَىٰ شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ — সূরা আল-বাকারা, ২:১৪

Wa idhā laqu’lladhīna āmanū qālū āmannā wa idhā khalaw ilā shayātīnihim qālū innā maʿakum innamā nahnu mustahziʾūn

“আর যখন তারা ঈমানদারদের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’; কিন্তু যখন তারা তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি; আমরা তো কেবল উপহাস করছিলাম।'”

মুমিনদের সামনে: ‘আমরা ঈমান এনেছি’

যখন মুনাফিকরা ঈমানদারদের সাক্ষাৎ পায়, তখন তারা বলে ‘আমরা ঈমান এনেছি’। মুমিনদের তারা এই বুঝ দেয় যে তারাও তাঁদেরই মতো বিশ্বাসী।

শয়তানদের কাছে: ‘আমরা তোমাদের সাথেই’

কিন্তু যখন তারা তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন তাদের আসল রূপ প্রকাশ পায়। তারা বলে, ‘আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি; আমরা তো কেবল মুমিনদের সাথে একটু উপহাস করছিলাম।’ অর্থাৎ তারা মুমিনদের বোঝাচ্ছিল যে তারা ঈমানদার, কিন্তু আসলে তারা তাদের নিজেদের দলেই আছে।

‘শয়তান’ শব্দের অর্থ

এখানে ‘তাদের শয়তান’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? আরবি ভাষায় প্রত্যেক দুষ্ট ও অবাধ্যকেই শয়তান বলা হয়; শয়তান মানুষ হতে পারে, জীন হতে পারে, এমনকি পশুও হতে পারে — আরবিতে শয়তান কেবল জীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই আয়াতে শয়তান বলতে মানুষ-শয়তানকে বোঝানো হয়েছে — অর্থাৎ মুনাফিকদের সঙ্গী-সাথী ও তাদের নেতৃবৃন্দকে। তাই নিজেদের এই সঙ্গী ও নেতৃবৃন্দের কাছে ফিরে গিয়েই তারা বলে যে তারা এতক্ষণ মুমিনদের সাথে কেবল উপহাস করছিল।

শিক্ষা

এই আয়াত নিফাকের কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্যটি স্পষ্ট করে দেয় — দুই চেহারা। বিশ্বাসীদের সামনে ঈমানের প্রদর্শনী, আর নিজেদের দলে গিয়ে সেই ঈমানকেই উপহাসের বিষয় বানানো। তাদের এই উপহাসই ফাঁস করে দেয় যে তাদের কাছে ঈমান কোনো আন্তরিক বিশ্বাস নয়, বরং সুবিধা আদায়ের একটি মুখোশমাত্র।