তবু মুখ ফিরিয়ে নেওয়া

তূর পর্বত তুলে ধরে এত ভয় দেখানোর পর, তাওরাত মেনে চলার অঙ্গীকার নেওয়ার পরও — বনী ইসরাইলের পরিণতি এই আয়াতে বিবৃত। এত কিছুর পরও তারা মুখ ফিরিয়ে নিল, আর কেবল আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতই তাদের ধ্বংস থেকে রক্ষা করল।

ثُمَّ تَوَلَّيْتُم مِّن بَعْدِ ذَٰلِكَ ۖ فَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَكُنتُم مِّنَ الْخَاسِرِينَ — সূরা আল-বাকারা, ২:৬৪

Thumma tawallaytum min baʿdi dhālika fa-lawlā fadlu’llāhi ʿalaykum wa rahmatuhu la-kuntum mina’l-khāsirīn

“এরপরও তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে; আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া না থাকলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে।”

আয়াতের শব্দে শব্দে

‘সুম্মা’ অর্থ এরপর। ‘তাওয়াল্লাইতুম’ — তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে; ‘তাওয়াল্লা’ অর্থ মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, আর শেষে ‘তুম’ যোগ হওয়ায় অর্থ দাঁড়ায় ‘তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে’। ‘মিম বাদি জালিক’ — এর পরে; ‘মিম বাদি’ অর্থ পরবর্তীতে, ‘জালিক’ অর্থ এর। অর্থাৎ এত ভয় দেখানো ও অঙ্গীকার নেওয়ার পরও তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে।

‘ফালাওলা’ অর্থ যদি না থাকত। ‘ফাদলুল্লাহি আলাইকুম’ — তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ, ‘ওয়া রাহমাতুহু’ — এবং তাঁর দয়া। ‘লাকুনতুম মিনাল খাসিরীন’ — তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে; ‘খাসির’ অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত, আর ‘খাসিরীন’ তার বহুবচন। অর্থাৎ এত কিছুর পর যখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তখনও আল্লাহর বিরাট অনুগ্রহ ও রহমত থাকায় তোমরা ধ্বংস হয়ে যাওনি; নতুবা তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে।

শিক্ষা

এই আয়াত মানুষের অবাধ্যতার স্বভাবকে অকপটে তুলে ধরে — পর্বতের ছায়ায় নেওয়া অঙ্গীকারও তাদের ধরে রাখতে পারল না — আর এর জবাবে দেয় একটি গভীরতর সত্য: তারা যে ধ্বংস হয়ে যায়নি, তা তাদের নিজেদের কৃতিত্ব নয়, বরং আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত। এটি একটি আয়না। আমাদের যে যেটুকু অবস্থান, তা-ও আমাদের অর্জন নয়, বরং আল্লাহর অনুগ্রহেরই আবরণ; সেই অনুগ্রহ না থাকলে আমরাও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।