সূরা আল-বাকারা ২ঃ৪৫–৪৬ — সবর, সালাত ও খাশিঈনের পরিচয়

এই আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সাহায্য লাভের এক পথ বাতলে দিচ্ছেন — ধৈর্য ও সালাত — এবং সেই সাথে জানিয়ে দিচ্ছেন যে এ পথে চলা সহজ নয়, কেবল বিনয়ীদের (খাশিঈন) জন্যই তা সহজ। এরপরের আয়াতে সেই খাশিঈন কারা, তা স্পষ্ট করা হচ্ছে: যারা নিশ্চিতভাবে জানে যে তাদের রবের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হবে এবং তাঁরই কাছে তাদের ফিরে যেতে হবে।

وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ

Wa-staʿīnū bi-s-sabri wa-s-salāti, wa innahā la-kabīratun illā ʿala-l-khāshiʿīn

“আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো; আর নিশ্চয়ই তা কঠিন, তবে বিনয়ীদের জন্য নয়।”

الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ

Alladhīna yazunnūna annahum mulāqū rabbihim wa annahum ilayhi rājiʿūn

“যারা নিশ্চিতভাবে জানে যে তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, আর তারা তাঁরই কাছে ফিরে যাবে।”

সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য

আল্লাহ বলছেন, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। কিন্তু এ কাজ সহজ নয় — “ওয়া ইন্নাহা লাকাবিরাতুন,” নিশ্চয়ই তা কঠিন ও ভারী, “ইল্লা আলাল খাশিঈন,” তবে বিনয়ীদের জন্য নয়। অর্থাৎ যাদের অন্তরে খুশু তথা বিনয় ও ভীতি আছে, কেবল তারাই ধৈর্য ও সালাতের এই ভারী পথে অবিচলভাবে সাহায্য চাইতে পারে; তাদের কাছে এ কঠিন মনে হয় না।

খাশিঈন কারা — এবং “ইয়াজুন্নুন”-এর অর্থ

পরের আয়াতে খাশিঈনের পরিচয়: “আল্লাজিনা ইয়াজুন্নুনা আন্নাহুম মুলাকু রাব্বিহিম” — যারা নিশ্চিতভাবে জানে যে তাদের রবের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হবে, “ওয়া আন্নাহুম ইলাইহি রাজিউন” — এবং তারা তাঁরই কাছে ফিরে যাবে।

এখানে “ইয়াজুন্নুন” শব্দটি লক্ষণীয়। “জন” শব্দের অর্থ কখনো ধারণা, আবার কখনো নিশ্চিত বিশ্বাস — প্রসঙ্গই তা নির্ধারণ করে। কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন, কোরআনে এ ধরনের “ইয়াজুন্নুন” বা “জন” নিশ্চিত জ্ঞান অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই এখানে “ধারণা” নয়, বরং নিশ্চিত প্রত্যয়ের কথা বলা হচ্ছে — যারা দৃঢ়ভাবে জানে যে আল্লাহর সাথে তাদের সাক্ষাৎ অবধারিত এবং তাঁর কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন।

এই নিশ্চিত প্রত্যয়ই খুশুর উৎস। যে অন্তর আল্লাহর সাক্ষাৎ ও তাঁর কাছে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত, সেই অন্তরই বিনয়ী হয়; আর সেই বিনয়ীরাই ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করতে পারে।

শিক্ষা

সাহায্যের প্রকৃত অবলম্বন ধৈর্য ও সালাত, কিন্তু এ পথ সহজ হয় কেবল তাদের জন্য যাদের অন্তরে খুশু আছে। আর সেই খুশুর মূল হলো আখিরাত সম্পর্কে নিশ্চিত প্রত্যয় — আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন যে অবধারিত, এই জ্ঞান যখন নিছক ধারণার স্তর পেরিয়ে নিশ্চয়তায় পৌঁছায়, তখনই অন্তর নরম হয় ও সালাত ভারী মনে হয় না। তাই সালাতে প্রশান্তি ও ধৈর্যে শক্তি পেতে হলে সবার আগে অন্তরে আখিরাতের এই নিশ্চিত বিশ্বাসকে জীবন্ত করতে হবে।