ভিডিও লেকচারটির এই অংশ থেকে সূরা আল-বাকারার ৬৪ নম্বর আয়াতের তাফসির এবং বনী ইসরাইলের চরম অকৃতজ্ঞতার পরেও আল্লাহর অপার অনুগ্রহ ও রহমতের বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নিচে এর একটি গুছানো পাঠ্য-নোট দেওয়া হলো:
সূরা আল-বাকারা তাফসির: অঙ্গীকার ভঙ্গ ও আল্লাহর রহমত (আয়াত ৬৪)
১. “সুম্মা তাওয়াল্লাইতুম মিম বাদি জালিকা” (অতঃপর এর পরেও তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে)
-
চরম ঔদ্ধত্য: তুর পাহাড় মাথার ওপর তুলে ধরে কঠিন ভয় দেখিয়ে তাওরাত মেনে নেওয়ার মতো চূড়ান্ত অঙ্গীকার নেওয়ার পরও বনী ইসরাইল তাদের স্বভাবসুলভ অবাধ্যতা থেকে সরে আসেনি।
-
মুখ ফিরিয়ে নেওয়া: সুযোগ পেলেই তারা আল্লাহর বিধান ও সেই অঙ্গীকার থেকে পিছু হটেছে বা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মানুষের পক্ষ থেকে এর চেয়ে বড় অকৃতজ্ঞতা আর কী হতে পারে!
২. “ফালাওলা ফাদলুল্লাহে আলাইকুম ওয়া রহমাতুহু…” (যদি না থাকত তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া…)
-
ধ্বংসের মুখোমুখি: নিয়ম অনুযায়ী এত বড় অঙ্গীকার ভঙ্গের পর তাদের ওপর তাৎক্ষণিক কঠিন আজাব বা ধ্বংস নেমে আসা ছিল অনিবার্য।
-
ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা: কিন্তু আল্লাহর অপার অনুগ্রহ (ফাদল) এবং রহমতের কারণে তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে সমূলে ধ্বংস করা হয়নি; বরং তওবা করার এবং সংশোধিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তারা নিশ্চিতভাবে চিরকালের মতো ক্ষতিগ্রস্তদের (খাসিরিন) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত।
মূল শিক্ষা: মানুষের অপরাধ যতই বড় হোক না কেন, আল্লাহর রহমত ও অবকাশ দানের ক্ষমতা তার চেয়ে অনেক বেশি। তবে এই সুযোগকে দুর্বলতা ভেবে বারবার আল্লাহর বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।