বনী ইসরাঈলকে সম্বোধন: অঙ্গীকার, ঈমান ও আত্মসমীক্ষা (২:৪০–৪৬)
সূরা আল-বাকারার সূচনায় আল্লাহ তাআলা একে একে মানবজাতির প্রতিটি শ্রেণিকে আমাদের সামনে এনেছেন—প্রথমে মুত্তাকিদের কথা, এরপর কাফিরদের কথা, তারপর সমগ্র মানবজাতিকে সম্বোধন করে তাঁর ইবাদতের আহ্বান, এরপর আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টি ও চিরশত্রু ইবলিসের পরিচয়। এসবের পর আল্লাহ তাআলা এবার মানবজাতির একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কয়েকটি আয়াত নাযিল করেছেন। বারবার “হে বনী ইসরাঈল” সম্বোধন করে তিনি তাদের নিয়ামত স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, অঙ্গীকার পূরণের নির্দেশ দিচ্ছেন এবং শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণের দিকে আহ্বান করছেন।
يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ وَآمِنُوا بِمَا أَنزَلْتُ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُمْ وَلَا تَكُونُوا أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ ۖ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
হে বনী ইসরাঈল! তোমরা স্মরণ করো আমার সেই নিয়ামতের কথা, যা আমি তোমাদের দিয়েছি; আর তোমরা আমার সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূর্ণ করো, আমিও তোমাদের সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূর্ণ করব; আর কেবল আমাকেই ভয় করো। আর আমি যা নাযিল করেছি তার প্রতি ঈমান আনো, যা তোমাদের কাছে (তাওরাত-ইঞ্জিলে) আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে; আর তোমরা এর প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না। আর আমার আয়াতের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না, আর কেবল আমাকেই ভয় করো। আর তোমরা সত্যকে বাতিলের সঙ্গে মিশিয়ো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না। আর তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত দাও এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো। তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও অথচ নিজেদের কথা ভুলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব তিলাওয়াত করো? তবে কি তোমরা বুঝবে না? আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও; আর নিশ্চয়ই তা কঠিন, তবে বিনয়ীদের জন্য নয়— যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, নিশ্চয়ই তারা তাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এবং নিশ্চয়ই তারা তাঁরই দিকে ফিরে যাবে।
বনী ইসরাঈল কারা, আর কেন তাদের পৃথকভাবে সম্বোধন
এই সম্বোধন বুঝতে হলে নবী-রাসূলদের ধারাবাহিকতার দিকে তাকাতে হয়। ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) ছিলেন আল্লাহর নবী ও রাসূল, শ্রেষ্ঠ নবীদের একজন এবং আল্লাহর খলিল—অর্থাৎ যাঁকে আল্লাহ বিশেষ ঘনিষ্ঠতায় নিয়েছেন। আল্লাহর দুইজন খলিল: একজন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম), অপরজন শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় স্মরণযোগ্য: সব মুমিনের প্রতিই আল্লাহর একটি সাধারণ ভালোবাসা রয়েছে, তাই কেবল “আল্লাহর হাবিব” বলা নবীর মর্যাদার পূর্ণ প্রকাশ নয়; তিনি এর চেয়ে ঊর্ধ্বে—তিনি আল্লাহর খলিল।
সব নবী-রাসূলই তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং তাওহিদের দিকেই আহ্বান করেছেন। কিন্তু তাওহিদ প্রতিষ্ঠায় ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর আহ্বান, সংগ্রাম ও ত্যাগ ছিল অনন্য; এর প্রতিদানস্বরূপ আল্লাহ তাঁকে বিরাট মর্যাদা দিয়েছেন—তাঁর পরবর্তী প্রায় সব নবী-রাসূল এসেছেন তাঁরই বংশধারা থেকে। এই ধারা মূলত দুই শাখায় বিভক্ত। ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর ছেলে ইসহাক (আলাইহিস সালাম), তাঁর ছেলে ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)—যাঁর উপাধি ছিল “ইসরাঈল”, অর্থাৎ আল্লাহর অনুগত বান্দা। এই ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরদেরই বলা হয় বনী ইসরাঈল, যাদের অপর নাম ইয়াহুদি বা ইহুদি। ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর বারোজন সন্তান থেকে বনী ইসরাঈলের বারোটি গোত্রের উদ্ভব, আর নবী-রাসূলগণ এসেছেন এসব গোত্র থেকেই—ইউসুফ, মুসা ও হারুন, দাউদ, সুলাইমান, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা (আলাইহিমুস সালাম) এবং আরও অনেকে। ঈসা (আলাইহিস সালাম) পিতা ছাড়া জন্মগ্রহণ করেছিলেন আল্লাহর বিশেষ কুদরতের নিদর্শনস্বরূপ, তবে তাঁর মা মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) ছিলেন বনী ইসরাঈলেরই বংশধর।
অন্যদিকে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর আরেক ছেলে ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)—যাঁকে কুরবানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—তাঁর বংশধারা থেকে বহু পরে এসেছেন শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরই আরব। এদিক থেকে আরবরা বনী ইসরাঈলের জ্ঞাতিভাই। ইতিহাসে বনী ইসরাঈলের একটি অংশ শেষ নবীর ব্যাপারে যে বিদ্বেষ পোষণ করেছিল, তার মূলে ছিল এই আপত্তি: শেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী তাদের বংশধারায় (ইসহাকের ধারায়) না এসে কেন ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর ধারায় এলেন। তাওরাতে বর্ণিত পরিচয় অনুযায়ী তারা জানত শেষ নবী আসবেন এবং সে পরিচয় অনুসারে তিনি এলেনও, কিন্তু তাদের প্রত্যাশিত বংশে না আসায় তাদের একটি অংশ তা মেনে নিতে চায়নি।
সুতরাং বনী ইসরাঈল হলো বর্তমান মুসলিম উম্মাহর পূর্বে আল্লাহর কিতাব ও নবুওয়াতপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ জাতি। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাদের বিশেষভাবে সম্বোধন করছেন—কখনো সতর্ক করছেন, কখনো আশা দিচ্ছেন—এবং শেষ নবীর অনুসরণের মাধ্যমে সেই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার সুযোগের দিকে উৎসাহিত করছেন।
নিয়ামত স্মরণ ও অঙ্গীকার পূরণ
আল্লাহ প্রথমে নিয়ামতের কথা স্মরণ করাচ্ছেন। “নিয়ামত” শব্দটি একবচন হলেও তিনি একে নিজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে “আমার নিয়ামত” বলায় এর অর্থ ব্যাপক হয়ে গেছে—অর্থাৎ আমার সব নিয়ামত স্মরণ করো। এখানে একটি স্থায়ী শিক্ষা: মানুষ যখন নিয়ামত স্মরণ করে, তখন কৃতজ্ঞ হয়। তাই মনে যখন কোনো কুচিন্তা আসে কিংবা শয়তান কুমন্ত্রণা দেয়, তখন আল্লাহর নিয়ামতগুলো স্মরণ করা উচিত, কারণ আল্লাহর নিয়ামত এত অগণিত যে তা এড়িয়ে যাওয়া বা অস্বীকার করা কেবল চরম অহংকারী মানুষের পক্ষেই সম্ভব।
এরপর নির্দেশ—”তোমরা আমার অঙ্গীকার পূর্ণ করো, আমিও তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করব।” এই অঙ্গীকারের বিবরণ কুরআনে সূরা আল-মায়িদায় (৫:১২) এসেছে। আল্লাহ বনী ইসরাঈলের বারো গোত্র থেকে বারোজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি নিযুক্ত করে তাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন: তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে, আল্লাহর সব রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে ও তাঁদের সাহায্য করবে এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে। বিনিময়ে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি: তিনি তাদের পাপ ক্ষমা করবেন ও জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এই অঙ্গীকারের যে অংশটি এখানে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক, তা হলো—আল্লাহর সব রাসূলের প্রতি ঈমান ও তাঁদের সাহায্য; আর এর মধ্যে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যাঁর পরিচয় তাওরাতে রয়েছে। তাদের দায়িত্ব ছিল মানুষের সামনে ঘোষণা করা যে, এই-ই সেই সত্য নবী যাঁর বর্ণনা তাওরাতে পাওয়া যায়; এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনা ও তাঁকে সাহায্য করা।
কুরআনের সত্যতার এক জীবন্ত প্রমাণ
এখানে একটি গভীর তাদাব্বুরের বিষয় লক্ষণীয়। আল্লাহ যখন বনী ইসরাঈলকে তাদেরই অতীতের ঘটনা, নিয়ামত ও অঙ্গীকারের কথা শোনাচ্ছেন, তখন এসব বিবরণ কেবল তাদের আলিমরাই জানতেন। শেষ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন একজন উম্মি আরব—তিনি তাদের কিতাবের ভাষা জানতেন না, তাদের কিতাব পড়েননি, ইহুদি বা খ্রিষ্টান আলিমদের কাছে শিক্ষা নেননি, কোথাও ভ্রমণও করেননি। তবু তিনি যখন তাদের নিখুঁত ইতিহাস বর্ণনা করছেন, তখন ইহুদি আলিমদের—যাঁরা তাওরাতের জ্ঞানের অধিকারী—মনে সামান্যতম সন্দেহেরও অবকাশ থাকার কথা নয় যে, এই সংবাদের উৎস আল্লাহ ছাড়া আর কেউ হতে পারেন না। এটি কুরআনের সত্যতার এক অসাধারণ প্রমাণ, যা বুঝতে একটু চিন্তার প্রয়োজন।
তাসদিক: কুরআন কীভাবে তাওরাত-ইঞ্জিলের সত্যায়ন করে
আল্লাহ এরপর বলছেন—”আমি যা নাযিল করেছি তার প্রতি ঈমান আনো, যা তোমাদের কাছে আছে তার সত্যায়নকারীরূপে।” কুরআন কীভাবে তাওরাত-ইঞ্জিলকে সত্যায়ন করে, তা মুফাসসিরগণ দুইভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
প্রথমত, ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবায়নের দিক থেকে। তাওরাত-ইঞ্জিলে বলা হয়েছিল অমুক নবী আসবেন; কুরআনসহ শেষ নবী আসায় প্রমাণিত হলো যে, ওই কিতাবগুলো আল্লাহরই পক্ষ থেকে এসেছিল। ভিন্ন ভিন্ন যুগে—মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ (আলাইহিমুস সালাম)—এসে যে বক্তব্য পরস্পরের সঙ্গে মিলে যায়, তা প্রমাণ করে এই তিন কিতাবের উৎস এক এবং তা স্বয়ং আল্লাহ।
দ্বিতীয়ত, মূলনীতির সাদৃশ্যের দিক থেকে। সব নবী-রাসূলের বার্তা মৌলিকভাবে অভিন্ন: সবাই তাওহিদের আহ্বান করেছেন, আখিরাতের কথা বলেছেন। সব নবীর দ্বীনে সালাত ছিল, সিয়াম ছিল—এসব মৌলিক ইবাদত সব দ্বীনেই বিদ্যমান, যদিও বিস্তারিত রূপে ভিন্নতা থাকতে পারে। ব্যভিচার, জাদু ও পিতামাতার সঙ্গে দুর্ব্যবহার কোনো নবীর শরিয়তেই বৈধ ছিল না। এসব মৌলিক নীতির সাদৃশ্যই প্রমাণ করে উৎস এক।
তবে কুরআন কর্তৃক তাওরাতের সত্যায়নের অর্থ এই নয় যে, ইহুদি-খ্রিষ্টানদের হাতে আজ যেসব ধর্মগ্রন্থ আছে সেগুলোর সব বক্তব্যই আল্লাহর ওহি। কারণ তাওরাতের বহু বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে; ফলে স্বাধীনভাবে জানার উপায় নেই এসব গ্রন্থের কতটুকু সঠিক। এ ক্ষেত্রে কুরআনই সত্যের মানদণ্ড—ইহুদি-খ্রিষ্টান ধর্মগ্রন্থের যে অংশ কুরআনের সঙ্গে মিলে যায়, তা সঠিক বলে গণ্য হবে; আর যা কুরআন বা সহিহ হাদিসের বিরোধী, তা বিকৃত বলে গণ্য হবে।
এখান থেকেই ইসরাঈলি বর্ণনা (ইসরাঈলিয়্যাত) প্রসঙ্গে একটি নীতি স্পষ্ট হয়। বিকৃত বর্ণনাগুলোতে নবী-রাসূলদের চরিত্রে নানা কালিমা লেপন করা হয়েছে, অথচ কুরআন সেই ঘটনাগুলো বর্ণনা করেও নবী-রাসূলদের সেই অপবাদ থেকে মুক্ত রেখেছে; নবী-রাসূলদের চরিত্র কখনোই ওইসব বর্ণনার মতো হতে পারে না। তাই ইসরাঈলি বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনটি মূলনীতি স্মরণযোগ্য: (এক) কখনো কখনো ঘটনা বোঝার সহায়ক হওয়ায় এসব বর্ণনা উল্লেখ করা জায়েয; (দুই) দলিল ছাড়া এগুলোকে সত্য বা মিথ্যা—কোনোটাই বলা যাবে না; (তিন) কুরআন বা সহিহ হাদিসের বিরোধী হলে তা প্রত্যাখ্যাত। তাই তাফসিরের কোনো বর্ণনায় যদি নবীর চরিত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু দেখা যায়, নিশ্চিত থাকতে হবে—তা কুরআনে নেই এবং তা বিকৃতি।
“প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না; আয়াত তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না”
এরপর আল্লাহ বলছেন—”তোমরা এর প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না।” ইমাম তাবারি (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যায়, এখানে বিশেষভাবে সম্বোধিত হচ্ছেন সেকালের আহলে কিতাবের আলিমগণ: তোমরাই যেন নিজেদের উম্মাহর মধ্যে প্রথম অস্বীকারকারী না হও। কারণ কুরআনের সত্যতা তোমাদের কাছে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট; তোমরা যদি অস্বীকার করো, তবে তোমাদের অনুসারীরা তোমাদের অনুসরণে অস্বীকারে লিপ্ত হবে এবং তাদের পাপের বোঝা তোমাদের কাঁধে বর্তাবে।
এরপর—”আমার আয়াতের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না।” এই অংশের সঠিক তাফসির জানা জরুরি, কারণ না জানলে বহু মানুষ একে ভুলভাবে প্রয়োগ করে। অনেকে মনে করেন, এই আয়াতের অর্থ কুরআন বা দ্বীন শিক্ষা দিয়ে পারিশ্রমিক নেওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু এই আয়াত সেই প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়নি। এখানে “আয়াত” বলতে মূলত তাওরাতের আয়াতগুলোই বোঝানো হয়েছে। আহলে কিতাবের আলিমগণ তাওরাত-ইঞ্জিলের বর্ণনা থেকে শেষ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে জানতেন, অথচ পার্থিব স্বার্থে সেই বর্ণনা গোপন বা পরিবর্তন করেছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল—এই সত্য প্রকাশ পেলে নেতৃত্ব চলে যাবে শেষ নবীর হাতে, আর মানুষ তাঁদের কাছে আসা ও সম্মান-সুবিধা দেওয়া বন্ধ করে দেবে। তাই এই “তুচ্ছ মূল্য” হলো সেই সামান্য পার্থিব স্বার্থ, যার বিনিময়ে তাঁরা সত্য গোপন করেছিলেন।
সুতরাং এই আয়াত কুরআন বা দ্বীন শিক্ষা দিয়ে ন্যায্য পারিশ্রমিক গ্রহণের নিষেধাজ্ঞা নয়। দ্বীনি শিক্ষাদানকারীর সময় ও শ্রমের মূল্যায়ন এবং তাঁদের প্রতি যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা উম্মাহর সম্মিলিত দায়িত্ব; এ ব্যাপারে উদাসীনতা কোনো প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য নয়। মূল আয়াতের সতর্কবাণী ভিন্ন—তা হলো পার্থিব স্বার্থে জ্ঞানের সত্য গোপন করা।
সত্যকে বাতিলের সঙ্গে মিশিয়ো না, জেনেশুনে গোপন করো না
“তোমরা সত্যকে বাতিলের সঙ্গে মিশিয়ো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।” এখানে আলিমদের বড় পরীক্ষার কথা এসেছে। প্রতিটি যুগেই যখন সত্য প্রকাশের সময় আসে, তখন কুরআন-হাদিসের জ্ঞানকে ব্যাখ্যা করে সত্য উপস্থাপন করা আলিমের দায়িত্ব। এটিই আলিমের কঠিন পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় যে আলিম ব্যর্থ হন—পার্থিব সম্পদ বা নেতৃত্বের লোভে সত্য চেপে যান কিংবা সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে ফেলেন—তিনি সাধারণ মানুষের চেয়েও নিকৃষ্ট স্তরে নেমে যান। ধর্মীয় নেতৃত্বের সঙ্গে প্রায়ই নানা পার্থিব সুবিধা যুক্ত থাকে; সেই সুবিধা হারানোর আশঙ্কাই মানুষকে সত্য গোপনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আল্লাহর বিচারে এ বিষয়ে আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
সালাত-যাকাত কায়েম করো, রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো
“তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত দাও এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।” “রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো”—এর অর্থ কেবল নিজের মতো করে নামাজ পড়া নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত হয়ে তাদের সঙ্গে মাথা নত করা। অর্থাৎ তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো, শেষ নবীর প্রতি ঈমান আনো এবং তাঁর জামাআতের অংশ হয়ে সালাত আদায় করো। এখন শেষ শরিয়ত এসে গেছে, শেষ নবী এসে গেছেন; তাই সবার দায়িত্ব এই নবীর অনুসরণ করা ও তাঁর দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া।
অন্যকে সৎকাজের আদেশ দাও, অথচ নিজেকে ভুলে যাও?
“তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও অথচ নিজেদের ভুলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব তিলাওয়াত করো?” এখানে সেই আলিম বা উপদেশদাতার ভয়াবহ বিপদের কথা বলা হয়েছে, যিনি মানুষকে ভালো কাজের কথা বলেন কিন্তু নিজে আমল করেন না। ইহুদি আলিমদের বেলায় বিষয়টি ছিল—তাওরাতেই তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শেষ নবী এলে তাঁকে মেনে নেওয়া ও তাঁর কথা মানুষের সামনে তুলে ধরা; অথচ তাঁরা নিজেরাই তা করছিলেন না।
আনাস ইবনু মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى قَوْمٍ تُقْرَضُ شِفَاهُهُمْ بِمَقَارِيضَ مِنْ نَارٍ، فَقُلْتُ: مَنْ هَؤُلَاءِ؟ قَالُوا: خُطَبَاءُ مِنْ أُمَّتِكَ، كَانُوا يَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَيَنْسَوْنَ أَنْفُسَهُمْ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ
“যে রাতে আমাকে মিরাজে নেওয়া হলো, আমি এমন একদল লোকের পাশ দিয়ে গেলাম যাদের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? বলা হলো, এরা তোমার উম্মাতের সেসব বক্তা যারা মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দিত অথচ নিজেদের ভুলে যেত, অথচ তারা কিতাব তিলাওয়াত করত।”
আরেকটি হাদিসে উসামা ইবনু যায়দ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
يُجَاءُ بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ، فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُ بَطْنِهِ فَيَدُورُ بِهَا كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِالرَّحَى، فَيَجْتَمِعُ إِلَيْهِ أَهْلُ النَّارِ فَيَقُولُونَ: يَا فُلَانُ، مَا لَكَ؟ أَلَمْ تَكُنْ تَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ؟ فَيَقُولُ: بَلَى، كُنْتُ آمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا آتِيهِ، وَأَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ
“কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে; ফলে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে পড়বে এবং সে তা নিয়ে ঘুরপাক খাবে, যেমন গাধা জাঁতাকল ঘিরে ঘোরে। জাহান্নামিরা তার চারপাশে জড়ো হয়ে বলবে, হে অমুক, তোমার কী হলো? তুমি কি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করতে না? সে বলবে, হ্যাঁ, আমি সৎকাজের আদেশ দিতাম অথচ নিজে তা করতাম না, আর অসৎকাজে নিষেধ করতাম অথচ নিজে তা করতাম।”
এই আয়াত ও হাদিসগুলো কেবল অতীতের এক জাতির জন্য নয়; এতে আমাদের জন্যও গভীর আত্মসমীক্ষার আহ্বান আছে। আমরা মানুষকে অনেক ভালো কথা বলি, কিন্তু নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার—আমরা কি নিজেরা তা আমল করি? সন্তানকে কুরআন মুখস্থ করাতে না পারলে আমরা রাগ করি, অথচ অফিস থেকে ফিরে সন্তান বসে কুরআন নিয়ে আর আমরা বসি মোবাইল নিয়ে। অন্যকে উপদেশ দেওয়া সহজ, নিজের ওপর তা প্রয়োগ করা কঠিন—এই বিপদ থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও
“তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও।” আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত মনে হয়—ধৈর্য ও সালাতের সঙ্গে অঙ্গীকার পূরণের সম্পর্ক কী? ইমাম তাবারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বনী ইসরাঈলকে অঙ্গীকার পূরণে বাধা দিচ্ছিল নেতৃত্ব ও পার্থিব লোভ; নেতৃত্ব ও দুনিয়ার আকর্ষণ ত্যাগ করে শেষ নবীর অনুসরণ ও আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য ধৈর্য ও সালাতের সাহায্য নিতে বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি জ্ঞান অনুযায়ী আমল করতে ব্যর্থ হয়, তার কর্তব্য ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা—তাহলে প্রবৃত্তি ও লোভের ওপর জয়ী হওয়া সহজ হয়।
ধৈর্য তিন প্রকার, যদিও আমরা সাধারণত কেবল বিপদের সময়ের ধৈর্যকেই ধৈর্য মনে করি। প্রথমত, আল্লাহর আদেশ পালনে ধৈর্য—প্রতিদিন ফজরে ওঠা, সময়মতো সালাত আদায় করা, যাকাত দেওয়া, সিয়াম রাখা, পিতামাতার প্রতি সদাচরণ ও পারিবারিক দায়িত্ব পালন—এসব নিরবচ্ছিন্নভাবে করতে বিরাট ধৈর্য লাগে। দ্বিতীয়ত, নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকায় ধৈর্য—দৃষ্টি অবনত রাখা, ব্যভিচার থেকে দূরে থাকা, গিবত থেকে বেঁচে থাকা; গিবত এমন এক মিষ্টি জিনিস যা থেকে বাঁচতে অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন। তৃতীয়ত, বিপদ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ধৈর্য—আল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রকাশ না করা, “আমার সঙ্গেই কেন এমন হলো” জাতীয় অসন্তোষ থেকে বিরত থাকা। আমরা যদি আল্লাহর জন্য ধৈর্য ধরতে পারি, তবে আল্লাহর সাহায্য আসবে।
তবে আল্লাহ বলছেন সালাত কঠিন—”বিনয়ীদের জন্য ছাড়া।” একাগ্রতা ও বিনয়ের সঙ্গে সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া খুশু-অধিকারী ছাড়া অন্যদের জন্য কঠিন।
খাশিঈন কারা
“যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, নিশ্চয়ই তারা তাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এবং নিশ্চয়ই তারা তাঁরই দিকে ফিরে যাবে।” খুশু অর্থ ভয়, বিনয়, আনুগত্য ও একাগ্রতার সঙ্গে স্থির থেকে সালাত আদায় করা এবং সালাতে এদিক-ওদিক না তাকানো; পাশের মুসল্লির জন্য কাঁধ নরম রাখা—জামাআতের ক্ষেত্রে এটিও খুশুর অন্তর্ভুক্ত বলে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন।
এখানে “ইয়াযুন্নূন” শব্দটি লক্ষণীয়। এই শব্দ কখনো সন্দেহ বোঝায়, কখনো দৃঢ় বিশ্বাস বোঝায়। কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন, কুরআনে “যন্ন” জাতীয় শব্দ যেখানে এসেছে, সেখানে তা নিশ্চিত জ্ঞান বোঝায়। তাই এখানে অর্থ সন্দেহ নয়, বরং দৃঢ় প্রত্যয়—যারা নিশ্চিতভাবে জানে যে তারা তাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে ও তাঁর দিকে ফিরে যাবে। এই দৃঢ় প্রত্যয়ই খুশুর উৎস; আর যাদের এই খুশু আছে, তারাই ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাইতে সক্ষম।
ভাষাগত কয়েকটি লক্ষণীয় দিক
এই আয়াতগুলোতে কয়েকটি ভাষাগত সৌন্দর্য অর্থ বুঝতে সহায়ক। “ইয়া বানী ইসরাঈল”—এখানে সম্বোধন করা হয়েছে “হে ইসরাঈলের বংশধরগণ” অর্থে। “ওয়া ইয়্যায়া ফারহাবূন”-এ “ইয়্যায়া” (আমাকে) শব্দটি ক্রিয়ার আগে নিয়ে আসায় অর্থ দাঁড়ায় “কেবল আমাকেই ভয় করো”—যেমন “ইয়্যাকা নাবুদু”-তে আগে আনায় অর্থ হয় “কেবল তোমারই ইবাদত করি।” এই কাঠামোয় “ফা” একটি ঊহ্য ক্রিয়ার (সতর্ক হও) ফলকে যুক্ত করে—অর্থাৎ “সতর্ক হও, আর তাই আমাকে ভয় করো।” “আরহাবূন” ও “ইত্তাকূন”-এর শেষে নূন (নূনুল ওয়িকায়া) থেকে বোঝা যায় এর সঙ্গে “ইয়া” (আমাকে) ঊহ্য আছে, অর্থাৎ “আমাকে ভয় করো।” আবার “আরহাবূন” (অন্তরের ভয়) ও “ইত্তাকূন” (আদেশ-নিষেধ মেনে চলার মাধ্যমে সেই ভয়ের বাস্তব প্রকাশ)—এ দুইয়ের জোড়ায় হৃদয়ের ভয়কে কর্মে রূপান্তরের ইঙ্গিত। “আউফি বিআহদিকুম”-এ শর্তের জবাব হওয়ায় ভাষার নিয়মে “ইয়া” লোপ পেয়েছে—অর্থাৎ “তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করলে আমিও পূর্ণ করব।” আর “ইন্নাহা লাকাবিরাতুন”-এ সর্বনামটি সালাতের দিকে ইঙ্গিত করে, আর “লাম” গুরুত্ব আরোপের জন্য।
শিক্ষা
আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ করা কৃতজ্ঞতার জন্ম দেয় এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হৃদয়কে রক্ষা করে; তাই কুচিন্তার মুহূর্তে নিয়ামত স্মরণই প্রথম আশ্রয়। আল্লাহর অঙ্গীকার পূরণের মূল দাবি ছিল প্রতিশ্রুত শেষ নবীর প্রতি ঈমান আনা ও তাঁকে সাহায্য করা, আর এর প্রতিদান ছিল ক্ষমা ও জান্নাত; এই দায়িত্বে ব্যর্থতাই ছিল বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার ভঙ্গের কেন্দ্রবিন্দু। একজন উম্মি নবীর মুখে তাদেরই গোপন ইতিহাসের নিখুঁত বিবরণ কুরআনের ঐশী উৎসের এক অকাট্য প্রমাণ।
কুরআনই সত্যের চূড়ান্ত মানদণ্ড—পূর্ববর্তী কিতাবের যা কুরআনের সঙ্গে মেলে তা সত্য, আর যা কুরআন ও সহিহ হাদিসের বিরোধী তা বিকৃত; আর নবী-রাসূলদের চরিত্রে কালিমা-লেপনকারী কোনো বর্ণনা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। পার্থিব স্বার্থ বা নেতৃত্বের লোভে জ্ঞানের সত্য গোপন করা আলিমের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা, যা তাকে সাধারণ মানুষের চেয়েও নিকৃষ্ট স্তরে নামিয়ে দেয়। অন্যকে সৎকাজের আদেশ দিয়ে নিজেকে ভুলে যাওয়ার পরিণতি ভয়াবহ, তাই প্রতিটি উপদেশদাতার প্রথম দায়িত্ব নিজের আমল।
জ্ঞান অনুযায়ী আমলে ব্যর্থতা কাটাতে এবং প্রবৃত্তি ও লোভের ওপর জয়ী হতে ধৈর্য ও সালাতই বিশ্বাসীর প্রকৃত অবলম্বন; ধৈর্য কেবল বিপদে নয়, বরং আদেশ পালনে ও নিষেধ থেকে বিরত থাকায়ও প্রয়োজন। আর সালাতের এই ভার কেবল তাদের জন্যই হালকা, যাদের হৃদয়ে রবের সঙ্গে সাক্ষাতের দৃঢ় প্রত্যয় থেকে জন্ম নেওয়া খুশু বিদ্যমান।