সূরা আল-বাকারা ২ঃ৫০ — সাগর বিভক্ত ও ফেরাউনের ধ্বংস
নিয়ামতের ধারাবাহিক বর্ণনায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এবার সেই চূড়ান্ত মুহূর্তটি স্মরণ করাচ্ছেন — ফেরাউনের দলবল যখন পিছু ধাওয়া করছিল, তখন সাগর বিভক্ত করে বনু ইসরাইলকে পার করানো, আর ফেরাউনের বাহিনীকে সেই সাগরেই ডুবিয়ে দেওয়া। আগের আয়াতে ছিল সাধারণভাবে উদ্ধারের নিয়ামত; এখানে সেই উদ্ধারের সবচেয়ে বড় নিদর্শন — সাগরের ঘটনা — সরাসরি বর্ণিত।
وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ فَأَنجَيْنَاكُمْ وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ
Wa idh faraqnā bikumu-l-bahra fa-anjaynākum wa aghraqnā āla Firʿawna wa antum tanzurūn
“আর (স্মরণ করো) যখন আমি তোমাদের জন্য সাগরকে বিভক্ত করলাম, অতঃপর তোমাদের রক্ষা করলাম আর ফেরাউনের দলবলকে ডুবিয়ে দিলাম, আর তোমরা তাকিয়ে দেখছিলে।”
সাগর বিভক্ত ও ফেরাউনের দলবলের ধ্বংস
“ফারাকনা” — আমি বিভক্ত করলাম (ফারাকা অর্থ আলাদা করে দেওয়া)। “বিকুম” অর্থ তোমাদের জন্য। অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদের জন্য সাগরকে ভাগ করে দিলেন। এরপর “ফা-আনজাইনাকুম” — অতঃপর তোমাদের উদ্ধার করলাম; “আনজাইনা” শব্দটি আগের আয়াতের (২ঃ৪৯) “নাজ্জাইনা”র মতোই — অর্থ একই, উদ্ধার করা, কেবল ক্রিয়ারূপ ভিন্ন। আর “ওয়া আগরাকনা আলা ফেরাউন” — এবং ফেরাউনের দলবলকে আমি ডুবিয়ে দিলাম। এভাবে একই সাগর একদিকে হলো বনু ইসরাইলের মুক্তির পথ, আর অন্যদিকে ফেরাউন ও তার বাহিনীর ধ্বংসের সমাধি।
“তোমরা তাকিয়ে দেখছিলে”: চোখের সামনে শত্রুর ধ্বংস
আয়াতের শেষে বলা হচ্ছে “ওয়া আনতুম তানজুরুন” — আর তোমরা তাকিয়ে দেখছিলে। এই অংশটি একটি বিশেষ নিয়ামতের দিকে ইঙ্গিত করে। যে শত্রু বছরের পর বছর নির্যাতন চালিয়েছে, তার ধ্বংস নিজেই একটি নিয়ামত; আর সেই ধ্বংস নিজের চোখের সামনে প্রত্যক্ষ করা — যেন অন্তর প্রশান্ত হয় এবং আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে বিশ্বাস দৃঢ় হয় — তা আরেকটি নিয়ামত।
শিক্ষা
সাগরের এই একটি ঘটনায় আল্লাহর দুই ফয়সালা একসাথে প্রকাশিত — মুমিনের মুক্তি ও অত্যাচারীর ধ্বংস। বনু ইসরাইলকে স্মরণ করানো হচ্ছে যে এই উদ্ধার নিছক ঘটনা নয়, বরং তাদের প্রতি আল্লাহর সুস্পষ্ট অনুগ্রহ, যা তারা নিজেরাই চোখে দেখেছে। অত্যাচারীর পতন ও তা প্রত্যক্ষ করার এই নিয়ামত মনে করিয়ে দেয় — আল্লাহর সিদ্ধান্ত অবশ্যম্ভাবী, আর তাঁর অনুগ্রহ স্মরণ করাই কৃতজ্ঞ বান্দার পথ।