সূরা আল-বাকারা ২ঃ৫৩ — কিতাব ও ফুরকান
ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি ও বাছুরের পর ক্ষমা — এই নিয়ামতগুলোর ধারায় এবার আসছে সবচেয়ে বড় নিয়ামত: হিদায়াতের নিয়ামত। আল্লাহ মুসা আলাইহিস সালামকে কিতাব দান করলেন, যাকে “ফুরকান” — সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী — বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যেন বনু ইসরাইল সঠিক পথ পায়।
وَإِذْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَالْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
Wa idh ātaynā Mūsā-l-kitāba wa-l-furqāna laʿallakum tahtadūn
“আর (স্মরণ করো) যখন আমি মুসাকে কিতাব ও ফুরকান দিলাম, যেন তোমরা হিদায়াত পাও।”
কিতাব ও ফুরকান: দুটি নয়, এক
“আতাইনা মুসাল কিতাব” — আমি মুসাকে কিতাব দিলাম, অর্থাৎ তাওরাত। এরপর “ওয়াল ফুরকান” — এবং ফুরকান। এখানে ফুরকান আলাদা কোনো জিনিস নয়। আরবি ভাষার একটি রীতি অনুযায়ী, “ওয়াও” সংযোজকের মাধ্যমে কোনো বস্তুর সাথে তারই একটি বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়। ফুরকান হলো সেই কিতাবেরই একটি বৈশিষ্ট্য — “ফুরকান” অর্থ যা সত্যকে (মিথ্যা থেকে) পৃথক করে। সুতরাং “কিতাব ও ফুরকান” মানে দুটি পৃথক জিনিস নয়, বরং সেই একই কিতাব যা সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী — অর্থাৎ তোমাদের এমন এক কিতাব দিলাম যা সত্যকে স্পষ্ট করে দেয়।
সকল ঐশী কিতাবই ফুরকান, উদ্দেশ্য হিদায়াত
এই বৈশিষ্ট্য কেবল তাওরাতের নয়। আল্লাহ তাঁর প্রতিটি কিতাব — ইঞ্জিল, জবুর, এমনকি আল কোরআন — ফুরকানরূপেই অবতীর্ণ করেছেন; আল কোরআনকে সরাসরি “ফুরকান” বলা হয়েছে। আল্লাহর সমস্ত কিতাবই ফুরকান, কারণ এগুলোর মাধ্যমেই সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপিত হয়।
আয়াতের শেষে বলা হচ্ছে “লাআল্লাকুম তাহতাদুন” — যেন তোমরা হিদায়াত পাও। কিতাব দানের উদ্দেশ্যই এই: মানুষ যেন সত্য চিনে সঠিক পথে চলতে পারে। কিতাব সত্য-মিথ্যা পৃথক করে বলেই তা হিদায়াতের মাধ্যম।
শিক্ষা
আল্লাহর কিতাব নিছক একটি গ্রন্থ নয় — তা ফুরকান, সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা টেনে দেওয়া কষ্টিপাথর। তাওরাত থেকে কোরআন পর্যন্ত প্রতিটি ঐশী কিতাবের এই একই ভূমিকা, আর সবগুলোর একই উদ্দেশ্য — হিদায়াত। তাই কিতাব পাওয়া মানুষের প্রতি আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত, কারণ এর মাধ্যমেই সে সত্যকে চিনে সঠিক পথ খুঁজে পায়; এই নিয়ামতের যথার্থ মূল্যায়ন হলো কিতাব অনুযায়ী পথ চলা।