সূরা আল-বাকারা ২ঃ৫৫–৬১ — বনু ইসরাইলের ঘটনাধারা

স্বর্ণের বাছুরের ঘটনার পর বনু ইসরাইলের ইতিহাসের একটি ধারাবাহিক অংশ এই সাতটি আয়াতে এসেছে — একদিকে তাদের একের পর এক দাবি ও অবাধ্যতা, অন্যদিকে আল্লাহর বারবার অনুগ্রহ ও সতর্কতা। আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখার দাবি ও শাস্তি, পুনর্জীবন, মেঘের ছায়া ও মান্না-সালওয়া, বায়তুল মাকদিসে বিনয়ে প্রবেশের আদেশ ও তার বিদ্রূপ, পাথর থেকে পানি, আর সবশেষে নিয়ামতকে তুচ্ছ করে সাধারণ খাবারের আবদার — এসবই ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত। উল্লেখ্য, কুরআনে এই ঘটনাগুলো সবসময় কালানুক্রমে সাজানো নয়; ঘটনা বর্ণনার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষা গ্রহণ।

২ঃ৫৫ — আল্লাহকে দেখার দাবি ও সাইকা

وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَىٰ لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّىٰ نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ

Wa idh qultum yā Mūsā lan nuʾmina laka hattā nara-llāha jahratan fa-akhadhatkumu-s-sāʿiqatu wa antum tanzurūn

“আর (স্মরণ করো) যখন তোমরা বলেছিলে, হে মুসা, আল্লাহকে প্রকাশ্যে না দেখা পর্যন্ত আমরা তোমাকে কিছুতেই বিশ্বাস করব না; অতঃপর বজ্র তোমাদের পাকড়াও করল, আর তোমরা তাকিয়ে দেখছিলে।”

তাওরাত আঁকড়ে ধরার অঙ্গীকারের সময় তাদের ঔদ্ধত্য আবার প্রকাশ পেল — “জাহরাতান,” অর্থাৎ কোনো আড়াল ছাড়া, একেবারে স্বচক্ষে আল্লাহকে না দেখা পর্যন্ত তারা বিশ্বাস করবে না। এর ফলে “সাইকা” তাদের পাকড়াও করল। “সাইকা”র অনুবাদ সাধারণত “বজ্র,” তবে ভাষাগতভাবে তা বজ্র, বিকট শব্দ, ভূমিকম্প — কিংবা তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটায় এমন যেকোনো দুর্যোগ বোঝাতে পারে। সূরা আরাফে (৭ঃ১৫৫) অনুরূপ ঘটনায় সত্তরজন প্রতিনিধির কথা এসেছে, আর সেখানে বলা হয়েছে তাঁদের “ভূমিকম্প” (রাজফা) পাকড়াও করেছিল — কেউ কেউ তাই একে বজ্রজনিত প্রকম্পন বলেছেন। শাস্তির সেই আঘাতে তারা তৎক্ষণাৎ মারা যায়।

২ঃ৫৬ — মৃত্যুর পর পুনর্জীবন

ثُمَّ بَعَثْنَاكُم مِّن بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

Thumma baʿathnākum min baʿdi mawtikum laʿallakum tashkurūn

“অতঃপর তোমাদের মৃত্যুর পর আমি তোমাদের পুনর্জীবিত করলাম, যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও।”

মুসা আলাইহিস সালামের কাকুতিতে আল্লাহ সেই মৃতদের পুনর্জীবন দান করলেন — আর তার উদ্দেশ্য কৃতজ্ঞতা। যারা মারা গিয়ে ফিরে এল, কোনো বর্ণনায় তারা ছিল বনু ইসরাইলের শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধিরা; শ্রেষ্ঠ লোকদেরও এমন পদস্খলনের পর আল্লাহর এই পুনর্জীবনদান তাঁর অপার দয়ারই প্রকাশ। এই “দেখতে চাওয়া → মৃত্যু → পুনর্জীবন” ঘটনাটি পরস্পরকে হত্যার তওবার আগে না পরে ঘটেছিল, তা নিয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে; কোনটি সঠিক তা নির্ধারণ জরুরি নয়, উভয়েই মূল শিক্ষা অভিন্ন।

২ঃ৫৭ — মেঘের ছায়া ও মান্না-সালওয়া

وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْغَمَامَ وَأَنزَلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَىٰ ۖ كُلُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ ۖ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ

Wa zallalnā ʿalaykumu-l-ghamāma wa anzalnā ʿalaykumu-l-manna wa-s-salwā, kulū min tayyibāti mā razaqnākum, wa mā zalamūnā wa lākin kānū anfusahum yazlimūn

“আর আমি তোমাদের উপর মেঘের ছায়া দিলাম এবং তোমাদের প্রতি মান্না ও সালওয়া অবতীর্ণ করলাম — ‘আমি তোমাদের যে উত্তম রিজিক দিয়েছি তা থেকে খাও।’ আর তারা আমার প্রতি কোনো জুলুম করেনি, বরং তারা নিজেদের প্রতিই জুলুম করছিল।”

বায়তুল মাকদিসে প্রবেশে অস্বীকারের শাস্তিস্বরূপ চল্লিশ বছরের যাযাবর জীবনেও আল্লাহর নিয়ামত থেমে থাকেনি। “গামাম” তথা মেঘ দিয়ে তিনি তাদের ছায়া দিলেন; পাঠালেন “মান্না” — শিশিরের মতো পাতায় জমা মধুজাতীয় খাদ্য — আর “সালওয়া” নামের পাখি, যা বিনা কষ্টে তারা খেতে পারত। আয়াতের শেষে গভীর এক সত্য: তাদের অবাধ্যতা আল্লাহর কোনো ক্ষতি করেনি, ক্ষতি করেছে কেবল নিজেদেরই — কারণ আল্লাহর ক্ষতি করা কারো সাধ্যে নেই।

২ঃ৫৮ — নতশিরে প্রবেশ ও “হিত্তা”

وَإِذْ قُلْنَا ادْخُلُوا هَٰذِهِ الْقَرْيَةَ فَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَدًا وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ ۚ وَسَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ

Wa idh qulnā-dkhulū hādhihi-l-qaryata fa-kulū minhā haythu shiʾtum raghadan wa-dkhulū-l-bāba sujjadan wa qūlū hittatun naghfir lakum khatāyākum, wa sanazīdu-l-muhsinīn

“আর (স্মরণ করো) যখন আমি বললাম, তোমরা এই জনপদে প্রবেশ করো, আর সেখান থেকে যেখানে খুশি স্বাচ্ছন্দ্যে খাও; আর দরজা দিয়ে মাথা নিচু করে প্রবেশ করো এবং বলো ‘হিত্তা’ — তাহলে আমি তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দেব, আর সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বাড়িয়ে দেব।”

কালানুক্রমে এটিই শেষ ঘটনা — মুসা আলাইহিস সালামের ইন্তিকালের পর ইউশা আলাইহিস সালামের নেতৃত্বে যখন তারা বায়তুল মাকদিস বিজয় করল। “কারিয়া” (বরকতময় জনপদ) থেকে অবারিতভাবে খেতে বলা হলো, আর দরজা দিয়ে “সুজ্জাদান” — মাটিতে কপাল ঠেকানো নয়, বরং বিনয়ে মাথা নিচু করে — প্রবেশ করে “হিত্তা” (আমাদের গুনাহ মাফ করুন) বলতে বলা হলো। বিনিময়ে গুনাহ মোচন ও মুহসিনদের প্রতিদান বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি। মুহসিন হলো সেই ব্যক্তি যে ইহসান করে — সুন্নাহমাফিক উত্তমভাবে ইবাদত ও সৃষ্টির প্রতি উপকার, এই দুই মিলে ইহসান।

২ঃ৫৯ — কথা বদলে দেওয়া ও শাস্তি

فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَنزَلْنَا عَلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا رِجْزًا مِّنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ

Fa-baddala-lladhīna zalamū qawlan ghayra-lladhī qīla lahum fa-anzalnā ʿala-lladhīna zalamū rijzan mina-s-samāʾi bimā kānū yafsuqūn

“কিন্তু যারা জালেম ছিল তারা তাদের যা বলতে বলা হয়েছিল, তার পরিবর্তে ভিন্ন একটি কথা বলল; ফলে সেই জালেমদের উপর আমি আকাশ থেকে শাস্তি অবতীর্ণ করলাম, তাদের অবাধ্যতার কারণে।”

তাদের একদল — “যারা জালেম,” সবাই নয় — বিনয়ের শব্দ “হিত্তা”র বদলে এক অর্থহীন বিদ্রূপাত্মক কথা বলল। ফলে বিশেষভাবে সেই অন্যায়কারীদের উপর “রিজজ” (আকাশ থেকে শাস্তি, যার প্রকৃতি এখানে নির্দিষ্ট করা হয়নি) নেমে এলো — “বিমা কানু ইয়াফসুকুন,” তাদের অভ্যস্ত অবাধ্যতার কারণে। শাস্তি অন্যায়কারীর উপরই বর্তায়, আর দ্বীনি বিষয়কে ঠাট্টায় পরিণত করা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।

২ঃ৬০ — পাথর থেকে বারো ঝর্ণা

وَإِذِ اسْتَسْقَىٰ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ فَقُلْنَا اضْرِب بِّعَصَاكَ الْحَجَرَ ۖ فَانفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا ۖ قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ ۖ كُلُوا وَاشْرَبُوا مِن رِّزْقِ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ

Wa idhi-stasqā Mūsā li-qawmihi fa-qulnā-drib bi-ʿasāka-l-hajara fa-nfajarat minhu-thnatā ʿashrata ʿaynan, qad ʿalima kullu unāsin mashrabahum, kulū wa-shrabū min rizqi-llāhi wa lā taʿthaw fi-l-ardi mufsidīn

“আর (স্মরণ করো) যখন মুসা তার জাতির জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম — তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো। ফলে তা থেকে বারোটি ঝর্ণা প্রবাহিত হলো; প্রত্যেক গোত্র তাদের পানির স্থান চিনে নিল। ‘আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে খাও ও পান করো, আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িও না।'”

মুসা আলাইহিস সালামের পানি প্রার্থনায় লাঠির আঘাতে পাথর থেকে বারো গোত্রের জন্য বারোটি পৃথক ঝর্ণা প্রবাহিত হলো — যেহেতু তারা বিবাদপ্রবণ ছিল, অভিন্ন উৎস থাকলে পানি নিয়ে বিবাদ বাধতে পারত, তাই প্রত্যেকে নিজ পানির স্থান চিনে নিল। খাদ্য-পানির এমন অলৌকিক ব্যবস্থা পাওয়ার পরও সতর্ক করা হলো — খাও-পান করো, কিন্তু ফাসাদ ছড়িও না। প্রসঙ্গত, এই পানির ঘটনা প্রকৃতপক্ষে মান্না-সালওয়ার সময়েরই, কিন্তু হিত্তা-ঘটনার পরে উল্লেখিত — কুরআনের বিন্যাস সবসময় কালানুক্রমিক নয়।

২ঃ৬১ — “একই খাবারে ধৈর্য ধরব না”

وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَىٰ لَن نَّصْبِرَ عَلَىٰ طَعَامٍ وَاحِدٍ فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنبِتُ الْأَرْضُ مِن بَقْلِهَا وَقِثَّائِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا ۖ قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَىٰ بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ ۚ اهْبِطُوا مِصْرًا فَإِنَّ لَكُم مَّا سَأَلْتُمْ ۗ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ وَبَاءُوا بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ ۗ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُوا يَعْتَدُونَ

Wa idh qultum yā Mūsā lan nasbira ʿalā taʿāmin wāhidin fa-dʿu lanā rabbaka yukhrij lanā mimmā tunbitu-l-ardu min baqlihā wa qiththāʾihā wa fūmihā wa ʿadasihā wa basalihā, qāla atastabdilūna-lladhī huwa adnā bi-lladhī huwa khayr, ihbitū misran fa-inna lakum mā saʾaltum, wa duribat ʿalayhimu-dh-dhillatu wa-l-maskanatu wa bāʾū bi-ghadabin mina-llāh, dhālika bi-annahum kānū yakfurūna bi-āyāti-llāhi wa yaqtulūna-n-nabiyyīna bi-ghayri-l-haqq, dhālika bimā ʿasaw wa kānū yaʿtadūn

“আর (স্মরণ করো) যখন তোমরা বলেছিলে, হে মুসা, আমরা একই খাবারে কিছুতেই ধৈর্য ধরতে পারব না; সুতরাং তুমি আমাদের জন্য তোমার রবকে ডাকো, যেন তিনি ভূমি থেকে উৎপন্ন জিনিস বের করে দেন — শাকসবজি, শসা, গম, মসুর ডাল ও পিঁয়াজ। (মুসা) বলল, তোমরা কি যা উত্তম তার বদলে যা নিকৃষ্ট তা নিতে চাচ্ছ? তোমরা কোনো এক শহরে নেমে যাও, সেখানে তোমরা যা চাইছ তা পাবে। আর তাদের উপর লাঞ্ছনা ও অন্তরের দীনতা চাপিয়ে দেওয়া হলো, এবং তারা আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরল। এটি এ কারণে যে, তারা আল্লাহর নিদর্শন অস্বীকার করত এবং নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা করত; এবং এ কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছিল ও সীমা লঙ্ঘন করত।”

বিনা কষ্টে পাওয়া মান্না-সালওয়া খেতে খেতে অধৈর্য হয়ে তারা সাধারণ শাকসবজি-জাতীয় খাবারের আবদার করল — উত্তম নিয়ামতের বদলে নিকৃষ্ট জিনিসের কামনা, যা প্রকৃতপক্ষে নিয়ামতকে তুচ্ছ করা। লক্ষণীয়, তারা বলল “তোমার রবকে ডাকো” — “আমাদের রব” নয়; রবের সাথে এই দূরত্ব তাদের অন্তরের অবস্থাই প্রকাশ করে। জবাবে বলা হলো “ইহবিতু মিসরান” — কোনো এক শহরে নেমে যাও (এখানে “মিসর” মিশর দেশ নয়, যেকোনো শহর); সেখানে এসব পাবে। এরপর তাদের উপর চাপানো হলো “জিল্লা” (লাঞ্ছনা) ও “মাসকানা” — যা কেবল বস্তুগত দারিদ্র্য নয়, বরং সম্পদ থাকা সত্ত্বেও অন্তরে থেকে যাওয়া এক অভাব-বোধ ও দীনতা। প্রকৃত সচ্ছলতা তাই অন্তরের তৃপ্তিতে, সম্পদে নয়। তারা আল্লাহর ক্রোধের পাত্রে পরিণত হলো — চারটি কারণে: আল্লাহর নিদর্শন অস্বীকার, নবী-হত্যা, অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন।

শিক্ষা

এই সাতটি আয়াতে বনু ইসরাইলের একটি চিত্র বারবার ফুটে ওঠে — অগণিত নিয়ামত ও নিদর্শন সত্ত্বেও দাবি, অধৈর্য ও অবাধ্যতা, আর তা সত্ত্বেও আল্লাহর বারবার ক্ষমা ও অনুগ্রহ; অবশেষে অকৃতজ্ঞতা যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন লাঞ্ছনা, অন্তরের দীনতা ও আল্লাহর ক্রোধ। এদের প্রতিটি ঘটনা আমাদের জন্য আয়না। প্রকৃত ঈমান অলৌকিক নিদর্শনের দাবিতে নয়, বিশ্বাসে; প্রকৃত ইবাদত অহংকারে নয়, বিনয়ে; আর প্রকৃত সচ্ছলতা সম্পদে নয়, কৃতজ্ঞ ও পরিতৃপ্ত অন্তরে। সবশেষে আল্লাহর ক্রোধের যে চার কারণ এখানে গোনা হয়েছে — নিদর্শন অস্বীকার, নবী-অবমাননা, অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন — সেগুলো থেকে দূরে থাকাই আমাদের রক্ষা, যেন আমাদের পরিণতি তাদের মতো না হয়।